০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের পাহাড় হাম চিকিৎসা কেন জরুরি ঘোষণা করা হচ্ছে না র‌্যাবকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা, আসছে নতুন আইন ও নাম পরিবর্তনের ভাবনা ফার্নেস অয়েলের দাম আবার বাড়ল, লিটারপ্রতি এখন ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা ঈদে টানা ৭ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক, বিশেষ এলাকায় সীমিত সেবা চালু মৃগীরোগে অচেতন চালক, সেই সুযোগে ভ্যান চুরি: ঝিনাইদহে মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কোরবানির ঈদ ২৮ মে, বাংলাদেশে জিলহজ মাস শুরু তনু হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল চতুর্থ পুরুষের রক্ত বাংলাদেশে প্রথম ‘অরেঞ্জ বন্ড’ আসছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে, ডিএসই-ব্র্যাক ইপিএলের চুক্তি

‘সাসের মৃত্যু’ নিয়ে সতর্কবার্তা—এআই যুগে বদলাতে না পারলে টিকে থাকা কঠিন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে অনেক কোম্পানির জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ব্রেট টেইলর, যিনি এআই স্টার্টআপ সিয়েরা’র প্রধান নির্বাহী এবং ওপেনএআই-এর বোর্ড চেয়ারম্যান।

সাস মডেল নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

বাজারে এখন সফটওয়্যার অ্যাজ এ সার্ভিস (সাস) মডেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কেউ কেউ এটিকে ‘সাসের মৃত্যু’ বলেও অভিহিত করছেন, কারণ এআই এই ব্যবসায়িক মডেলকে বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে ফেলতে পারে।

টেইলর বলেন, একসময় সফটওয়্যার তৈরি ছিল দক্ষতানির্ভর একটি সীমিত সম্পদ। কিন্তু এখন এআই-কে নির্দেশ দিলেই যেকোনো মানুষ সফটওয়্যার তৈরি করতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—সফটওয়্যার কি এখন সাধারণ পণ্যে পরিণত হচ্ছে? আর সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর প্রকৃত মূল্য কোথায়?

OpenAI's Taylor: AI is 'probably' a bubble, there will be a correction

এআই এজেন্ট বদলে দেবে সফটওয়্যারের ব্যবহার

প্রচলিত সাস ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা ওয়েব ব্রাউজারে ফর্ম পূরণ, বাটন ক্লিক—এইসব কাজ করে থাকেন। কিন্তু নতুন এআই যুগে এসব কাজ মানুষের বদলে এআই এজেন্টই সম্পন্ন করবে।

টেইলরের কর্মজীবন ও সিয়েরা’র বিস্তার

টেইলর ২০০৩ সালে গুগলে যোগ দেন, পরে ২০১০ সালে ফেসবুকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হন এবং ২০২১ সালে সেলসফোর্সের সহ-প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বর্তমান কোম্পানি সিয়েরা’র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে সফটব্যাংক গ্রুপ।

সিয়েরা মূলত এমন এআই এজেন্ট তৈরি করে, যা গ্রাহকসেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করে। মার্চ মাসে জাপানের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের মাধ্যমে তারা জাপানের বাজারে প্রবেশ করেছে।

এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার হচ্ছে, যেখানে বাড়ি দেখার সময় নির্ধারণ থেকে শুরু করে ঋণ পুনঃঅর্থায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন কাজ এআই এজেন্ট পরিচালনা করছে।

The FriendFeedization Of Facebook Continues: Bret Taylor Promoted To CTO |  TechCrunch

ওপেনএআই-এর নীতিগত প্রশ্ন ও নেতৃত্ব

প্রাথমিকভাবে জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু হলেও, ওপেনএআই এখন বাণিজ্যিকভাবে চ্যাটজিপিটি চালু করেছে এবং প্রতিরক্ষা খাতেও যুক্ত হয়েছে—এ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

টেইলর বলেন, কোম্পানির বোর্ড এখনো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং শাসনব্যবস্থা ঠিক আছে। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে তিনি স্যাম অল্টম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।

সপ্তাহপ্রতি ওপেনএআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪০ কোটি ছাড়ালো

চাকরির বাজারে এআই-এর প্রভাব

এআই-চালিত স্বয়ংক্রিয়তা অনেক ধরনের চাকরি কমিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। তবে টেইলর মনে করেন, ইতিহাসে প্রযুক্তি যেমন পুরোনো কাজ কমিয়েছে, তেমনি নতুন কাজও সৃষ্টি করেছে।

তার মতে, প্রথম ধাপে এআই বর্তমান কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করবে। এরপর সাশ্রয় হওয়া সম্পদ নতুন প্রতিযোগিতা ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরিতে বিনিয়োগ করা যাবে।

বিশেষ করে সাদা-কলার চাকরিতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন। অনেককেই নতুনভাবে কাজ শেখার প্রয়োজন হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি আশাবাদী যে, এই প্রযুক্তি মানুষের কাজকে আরও অর্থবহ, দক্ষ ও উচ্চমূল্যের অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের পাহাড়

‘সাসের মৃত্যু’ নিয়ে সতর্কবার্তা—এআই যুগে বদলাতে না পারলে টিকে থাকা কঠিন

০২:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে অনেক কোম্পানির জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ব্রেট টেইলর, যিনি এআই স্টার্টআপ সিয়েরা’র প্রধান নির্বাহী এবং ওপেনএআই-এর বোর্ড চেয়ারম্যান।

সাস মডেল নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

বাজারে এখন সফটওয়্যার অ্যাজ এ সার্ভিস (সাস) মডেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কেউ কেউ এটিকে ‘সাসের মৃত্যু’ বলেও অভিহিত করছেন, কারণ এআই এই ব্যবসায়িক মডেলকে বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে ফেলতে পারে।

টেইলর বলেন, একসময় সফটওয়্যার তৈরি ছিল দক্ষতানির্ভর একটি সীমিত সম্পদ। কিন্তু এখন এআই-কে নির্দেশ দিলেই যেকোনো মানুষ সফটওয়্যার তৈরি করতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—সফটওয়্যার কি এখন সাধারণ পণ্যে পরিণত হচ্ছে? আর সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর প্রকৃত মূল্য কোথায়?

OpenAI's Taylor: AI is 'probably' a bubble, there will be a correction

এআই এজেন্ট বদলে দেবে সফটওয়্যারের ব্যবহার

প্রচলিত সাস ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা ওয়েব ব্রাউজারে ফর্ম পূরণ, বাটন ক্লিক—এইসব কাজ করে থাকেন। কিন্তু নতুন এআই যুগে এসব কাজ মানুষের বদলে এআই এজেন্টই সম্পন্ন করবে।

টেইলরের কর্মজীবন ও সিয়েরা’র বিস্তার

টেইলর ২০০৩ সালে গুগলে যোগ দেন, পরে ২০১০ সালে ফেসবুকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হন এবং ২০২১ সালে সেলসফোর্সের সহ-প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বর্তমান কোম্পানি সিয়েরা’র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে সফটব্যাংক গ্রুপ।

সিয়েরা মূলত এমন এআই এজেন্ট তৈরি করে, যা গ্রাহকসেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করে। মার্চ মাসে জাপানের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের মাধ্যমে তারা জাপানের বাজারে প্রবেশ করেছে।

এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার হচ্ছে, যেখানে বাড়ি দেখার সময় নির্ধারণ থেকে শুরু করে ঋণ পুনঃঅর্থায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন কাজ এআই এজেন্ট পরিচালনা করছে।

The FriendFeedization Of Facebook Continues: Bret Taylor Promoted To CTO |  TechCrunch

ওপেনএআই-এর নীতিগত প্রশ্ন ও নেতৃত্ব

প্রাথমিকভাবে জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু হলেও, ওপেনএআই এখন বাণিজ্যিকভাবে চ্যাটজিপিটি চালু করেছে এবং প্রতিরক্ষা খাতেও যুক্ত হয়েছে—এ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

টেইলর বলেন, কোম্পানির বোর্ড এখনো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং শাসনব্যবস্থা ঠিক আছে। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে তিনি স্যাম অল্টম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।

সপ্তাহপ্রতি ওপেনএআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪০ কোটি ছাড়ালো

চাকরির বাজারে এআই-এর প্রভাব

এআই-চালিত স্বয়ংক্রিয়তা অনেক ধরনের চাকরি কমিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। তবে টেইলর মনে করেন, ইতিহাসে প্রযুক্তি যেমন পুরোনো কাজ কমিয়েছে, তেমনি নতুন কাজও সৃষ্টি করেছে।

তার মতে, প্রথম ধাপে এআই বর্তমান কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করবে। এরপর সাশ্রয় হওয়া সম্পদ নতুন প্রতিযোগিতা ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরিতে বিনিয়োগ করা যাবে।

বিশেষ করে সাদা-কলার চাকরিতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন। অনেককেই নতুনভাবে কাজ শেখার প্রয়োজন হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি আশাবাদী যে, এই প্রযুক্তি মানুষের কাজকে আরও অর্থবহ, দক্ষ ও উচ্চমূল্যের অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করতে পারে।