০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের খেলাপি ঋণের চাপে ‘মোট শকে’ ব্যাংকিং খাত, সংসদে রেজা কিবরিয়ার কঠোর সমালোচনা

তাডোবায় ডোরাকাটা রোমাঞ্চ

মহারাষ্ট্রের তাডোবা অন্ধারি টাইগার রিজার্ভ এবং উমরেড পাওনি কারহান্ডলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এখন বাঘ দেখার অন্যতম সেরা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ‘দ্য ব্যাম্বু ফরেস্ট এক্সপেরিয়েন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা বলছেন, এই অঞ্চলগুলোর আকর্ষণ এমনই শক্তিশালী যে একবার গেলে বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছে করে।

ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকার প্রথমবার তাডোবায় বাঘিনী জুনাবাইকে দেখার পরই এই অভিজ্ঞতার গভীরতা উপলব্ধি করেছিলেন। প্রকৃতি সংরক্ষণে ‘কোকুন’ মডেলের পথিকৃৎ সুনীল মেহতা তখন তাঁকে বলেছিলেন, এই অভিজ্ঞতা এমন, যা মানুষকে বারবার টেনে আনে। শহরের ব্যস্ত জীবনে ফিরলেও সেই স্মৃতি মানুষকে আবারও জঙ্গলে ফিরতে বাধ্য করে।

তাডোবা ও গোঠাঙ্গাঁও অঞ্চলে শচীন নিয়মিত বাঘ দেখার জন্য আসেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরেও তিনি এখানে এসেছিলেন, ‘দ্য ব্যাম্বু ফরেস্ট’ সাফারি লজের দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে।

বাঘ দেখার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছে যেন এক ধরনের নেশা। উমরেড পাওনি কারহান্ডলা অভয়ারণ্যে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় সেই উত্তেজনা। গাইডের ঘোষণা, “বাঘ দেখা শুরু হয়েছে,”—এরপরই দ্রুতগতিতে গাড়ি ছুটে চলে দুর্গম পথে। কাঁটাঝোপ, মাকড়সার জাল আর অসমতল রাস্তা পেরিয়ে এগোনোর এই অভিজ্ঞতা রোমাঞ্চকর হলেও এর মূল আকর্ষণ শুধু গতি নয়।

প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগই এখানে আসল বিষয়। ‘দ্য ব্যাম্বু ফরেস্ট নেচার কনজারভেন্সি’র সহযোগী পরিচালক অর্জুন মঞ্জুনাথের মতে, বাঘ দেখার আগে যে অপেক্ষা, সেটিই আসল উত্তেজনা তৈরি করে। আফ্রিকার মতো খোলা সাভানায় দূর থেকে প্রাণী দেখা যায়, কিন্তু এখানে বাঘ খুঁজে পেতে হয় নানা সংকেত দেখে।

No photo description available.

সাফারির সময় গাইডরা মাটির ছাপ, পায়ের দাগ এবং অন্যান্য প্রাণীর আচরণ লক্ষ্য করেন। ছোট পাখি থেকে শুরু করে বড় প্রাণী—সবাই কোনো না কোনোভাবে বাঘের উপস্থিতি জানান দেয়। চোখ, কান এবং ইন্দ্রিয় খোলা রাখলেই সেই সংকেত বোঝা যায়।

প্রকৃতিবিদ অঙ্কিতা পাঠক জানান, ময়ূর চিতাবাঘ দেখলে ডাক দেয়, আর রুফাস ট্রিপাই পাখি বাঘ দেখলে সতর্ক সংকেত দেয়। তাই এই অভিজ্ঞতা শুধু বাঘ দেখা নয়, বরং পুরো বাস্তুতন্ত্রকে বোঝার একটি প্রক্রিয়া। পাখি, তৃণভোজী প্রাণী, ছোট স্তন্যপায়ী ও কীটপতঙ্গ—সবকিছুর সঙ্গে একযোগে সম্পর্ক তৈরি হয়।

এই সাফারিগুলো শুধু পর্যটনের জন্য নয়, বরং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পর্যটকদের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়। পাশাপাশি সাফারি থেকে আয় হওয়া অর্থ গ্রামগুলোর উন্নয়নে সহায়তা করে, যা আগে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

অঙ্কিতা বলেন, অতিথিদের বাঘ দেখানোর জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তবে বাঘের চলাফেরা অনিশ্চিত। সঠিক সময় ও সঠিক জায়গায় উপস্থিত থাকাই এখানে মূল বিষয়। অনেক সময় বাঘ এমন পথে চলে, যেখানে গাড়ি যায় না। তখন সরাসরি দেখা না গেলেও আঁচড়ের দাগ, পায়ের ছাপ বা অন্যান্য চিহ্ন দেখিয়ে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ করা হয়।

সুনীল মেহতা তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, সরিস্কা টাইগার রিজার্ভে এক সফর তাঁর জীবন বদলে দিয়েছিল। পরে যখন জানা যায়, ২০০২ সালে যেখানে ১৬টি বাঘ ছিল, ২০০৫ সালে সেখানে একটি বাঘও অবশিষ্ট নেই, তখন তিনি গভীরভাবে নাড়া খেয়েছিলেন। সেই ঘটনাই তাঁকে প্রকৃতি সংরক্ষণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

তাডোবা ও গোঠাঙ্গাঁও অঞ্চলে গত ১৫ বছরে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে খুব কম মানুষ এই জায়গার কথা জানত, এখন সেখানে বাঘের সংখ্যা ১০০-এরও বেশি। ফলে বন্যপ্রাণী পর্যটনের প্রকৃত স্বাদ এখন অনেকেই পাচ্ছেন।

No photo description available.

উমরেড পাওনি কারহান্ডলা অভয়ারণ্যের অবস্থানও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাডোবা ও পেঞ্চের মাঝামাঝি, ওয়াইঙ্গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। প্রায় ১৮৯ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি বাঘের চলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে কাজ করে। এখানে বাঘরা নতুন এলাকা খুঁজে নেয়, পুরনো এলাকা দখল করে কিংবা অন্য বাঘকে সরিয়ে দেয়।

এছাড়া এখানে প্রায় ৩৬টি জলাশয় রয়েছে, যা পাখিদের জন্যও আদর্শ আবাসস্থল। গত বছর এখানে প্রায় ৩৬০ প্রজাতির পাখি দেখা গেছে, যার মধ্যে রয়েছে পরিযায়ী ও স্থানীয় প্রজাতি।

বর্তমানে এই অভয়ারণ্যে ছয়টি প্রজননক্ষম বাঘিনী রয়েছে, যেমন ফেয়ারি, কলারওয়ালি, এক্সমার্ক, এফ১, এফ২ এবং শ্যাডো। প্রজননক্ষম বাঘিনী একটি সুস্থ বাস্তুতন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। শিকার প্রাণীর পর্যাপ্ততা না থাকলে প্রজনন সম্ভব নয়।

রাত গভীর হওয়ার পরও বাঘ দেখার সম্ভাবনা মানুষকে উদ্দীপ্ত রাখে। দীর্ঘ সাফারি ও ভ্রমণের পর ক্লান্ত শরীর বিশ্রাম চাইলে, বাঘিনী ও তার শাবকদের দেখার সম্ভাবনা সেই ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। এই অভিজ্ঞতা এতটাই গভীর যে একে অনেকেই এক ধরনের নেশার সঙ্গে তুলনা করেন।

তাডোবার এই বাঘের জগৎ তাই শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং প্রকৃতির গভীরে ডুবে যাওয়ার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি

তাডোবায় ডোরাকাটা রোমাঞ্চ

০৪:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

মহারাষ্ট্রের তাডোবা অন্ধারি টাইগার রিজার্ভ এবং উমরেড পাওনি কারহান্ডলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এখন বাঘ দেখার অন্যতম সেরা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ‘দ্য ব্যাম্বু ফরেস্ট এক্সপেরিয়েন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা বলছেন, এই অঞ্চলগুলোর আকর্ষণ এমনই শক্তিশালী যে একবার গেলে বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছে করে।

ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকার প্রথমবার তাডোবায় বাঘিনী জুনাবাইকে দেখার পরই এই অভিজ্ঞতার গভীরতা উপলব্ধি করেছিলেন। প্রকৃতি সংরক্ষণে ‘কোকুন’ মডেলের পথিকৃৎ সুনীল মেহতা তখন তাঁকে বলেছিলেন, এই অভিজ্ঞতা এমন, যা মানুষকে বারবার টেনে আনে। শহরের ব্যস্ত জীবনে ফিরলেও সেই স্মৃতি মানুষকে আবারও জঙ্গলে ফিরতে বাধ্য করে।

তাডোবা ও গোঠাঙ্গাঁও অঞ্চলে শচীন নিয়মিত বাঘ দেখার জন্য আসেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরেও তিনি এখানে এসেছিলেন, ‘দ্য ব্যাম্বু ফরেস্ট’ সাফারি লজের দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে।

বাঘ দেখার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছে যেন এক ধরনের নেশা। উমরেড পাওনি কারহান্ডলা অভয়ারণ্যে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় সেই উত্তেজনা। গাইডের ঘোষণা, “বাঘ দেখা শুরু হয়েছে,”—এরপরই দ্রুতগতিতে গাড়ি ছুটে চলে দুর্গম পথে। কাঁটাঝোপ, মাকড়সার জাল আর অসমতল রাস্তা পেরিয়ে এগোনোর এই অভিজ্ঞতা রোমাঞ্চকর হলেও এর মূল আকর্ষণ শুধু গতি নয়।

প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগই এখানে আসল বিষয়। ‘দ্য ব্যাম্বু ফরেস্ট নেচার কনজারভেন্সি’র সহযোগী পরিচালক অর্জুন মঞ্জুনাথের মতে, বাঘ দেখার আগে যে অপেক্ষা, সেটিই আসল উত্তেজনা তৈরি করে। আফ্রিকার মতো খোলা সাভানায় দূর থেকে প্রাণী দেখা যায়, কিন্তু এখানে বাঘ খুঁজে পেতে হয় নানা সংকেত দেখে।

No photo description available.

সাফারির সময় গাইডরা মাটির ছাপ, পায়ের দাগ এবং অন্যান্য প্রাণীর আচরণ লক্ষ্য করেন। ছোট পাখি থেকে শুরু করে বড় প্রাণী—সবাই কোনো না কোনোভাবে বাঘের উপস্থিতি জানান দেয়। চোখ, কান এবং ইন্দ্রিয় খোলা রাখলেই সেই সংকেত বোঝা যায়।

প্রকৃতিবিদ অঙ্কিতা পাঠক জানান, ময়ূর চিতাবাঘ দেখলে ডাক দেয়, আর রুফাস ট্রিপাই পাখি বাঘ দেখলে সতর্ক সংকেত দেয়। তাই এই অভিজ্ঞতা শুধু বাঘ দেখা নয়, বরং পুরো বাস্তুতন্ত্রকে বোঝার একটি প্রক্রিয়া। পাখি, তৃণভোজী প্রাণী, ছোট স্তন্যপায়ী ও কীটপতঙ্গ—সবকিছুর সঙ্গে একযোগে সম্পর্ক তৈরি হয়।

এই সাফারিগুলো শুধু পর্যটনের জন্য নয়, বরং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পর্যটকদের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়। পাশাপাশি সাফারি থেকে আয় হওয়া অর্থ গ্রামগুলোর উন্নয়নে সহায়তা করে, যা আগে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

অঙ্কিতা বলেন, অতিথিদের বাঘ দেখানোর জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তবে বাঘের চলাফেরা অনিশ্চিত। সঠিক সময় ও সঠিক জায়গায় উপস্থিত থাকাই এখানে মূল বিষয়। অনেক সময় বাঘ এমন পথে চলে, যেখানে গাড়ি যায় না। তখন সরাসরি দেখা না গেলেও আঁচড়ের দাগ, পায়ের ছাপ বা অন্যান্য চিহ্ন দেখিয়ে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ করা হয়।

সুনীল মেহতা তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, সরিস্কা টাইগার রিজার্ভে এক সফর তাঁর জীবন বদলে দিয়েছিল। পরে যখন জানা যায়, ২০০২ সালে যেখানে ১৬টি বাঘ ছিল, ২০০৫ সালে সেখানে একটি বাঘও অবশিষ্ট নেই, তখন তিনি গভীরভাবে নাড়া খেয়েছিলেন। সেই ঘটনাই তাঁকে প্রকৃতি সংরক্ষণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

তাডোবা ও গোঠাঙ্গাঁও অঞ্চলে গত ১৫ বছরে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে খুব কম মানুষ এই জায়গার কথা জানত, এখন সেখানে বাঘের সংখ্যা ১০০-এরও বেশি। ফলে বন্যপ্রাণী পর্যটনের প্রকৃত স্বাদ এখন অনেকেই পাচ্ছেন।

No photo description available.

উমরেড পাওনি কারহান্ডলা অভয়ারণ্যের অবস্থানও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাডোবা ও পেঞ্চের মাঝামাঝি, ওয়াইঙ্গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। প্রায় ১৮৯ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি বাঘের চলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে কাজ করে। এখানে বাঘরা নতুন এলাকা খুঁজে নেয়, পুরনো এলাকা দখল করে কিংবা অন্য বাঘকে সরিয়ে দেয়।

এছাড়া এখানে প্রায় ৩৬টি জলাশয় রয়েছে, যা পাখিদের জন্যও আদর্শ আবাসস্থল। গত বছর এখানে প্রায় ৩৬০ প্রজাতির পাখি দেখা গেছে, যার মধ্যে রয়েছে পরিযায়ী ও স্থানীয় প্রজাতি।

বর্তমানে এই অভয়ারণ্যে ছয়টি প্রজননক্ষম বাঘিনী রয়েছে, যেমন ফেয়ারি, কলারওয়ালি, এক্সমার্ক, এফ১, এফ২ এবং শ্যাডো। প্রজননক্ষম বাঘিনী একটি সুস্থ বাস্তুতন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। শিকার প্রাণীর পর্যাপ্ততা না থাকলে প্রজনন সম্ভব নয়।

রাত গভীর হওয়ার পরও বাঘ দেখার সম্ভাবনা মানুষকে উদ্দীপ্ত রাখে। দীর্ঘ সাফারি ও ভ্রমণের পর ক্লান্ত শরীর বিশ্রাম চাইলে, বাঘিনী ও তার শাবকদের দেখার সম্ভাবনা সেই ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। এই অভিজ্ঞতা এতটাই গভীর যে একে অনেকেই এক ধরনের নেশার সঙ্গে তুলনা করেন।

তাডোবার এই বাঘের জগৎ তাই শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং প্রকৃতির গভীরে ডুবে যাওয়ার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।