মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনে শিশুদের জীবন আজ এক ভয়াবহ সংকটের প্রতিচ্ছবি। উৎসবের মৌসুমে যখন বিশ্বের বহু দেশে শিশুরা আনন্দে মেতে ওঠে, তখন ইয়েমেনের অসংখ্য শিশু লড়ছে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও মৃত্যুর সঙ্গে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, অবরোধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এই মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করেছে।
যুদ্ধের ভিতরে ক্ষুধার আর্তনাদ
ইয়েমেনের বাস্তবতা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে যুদ্ধকালীন চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর ভেতরে। সেখানে প্রতিদিন অপুষ্টিতে কাতর শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়, অনেক সময় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেও তাদের বাঁচানো যায় না। চিকিৎসাকর্মীরা জানান, অপুষ্টিই শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। একের পর এক শিশুর মৃত্যু যেন এখন নিয়মিত ঘটনা।

সংঘাতই প্রধান কারণ
২০১৫ সালে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত ইয়েমেনের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তোলে। বিমান হামলা, অবরোধ এবং অব্যাহত যুদ্ধ দেশটির খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। বিভিন্ন মানবিক সংস্থার মতে, এই সংঘাতই ইয়েমেনে ক্ষুধা সংকটের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
ভয়াবহ পরিসংখ্যান
বর্তমানে ইয়েমেনের অর্ধেকের বেশি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কোটি কোটি মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না, আর লাখ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত। বিশেষ করে পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের মধ্যেও অপুষ্টির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।

বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক বিপর্যয়
যুদ্ধের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে। বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। এই পরিস্থিতিতে খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার অভাব তাদের জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ফলে মৃত্যুর সংখ্যাও কয়েক লাখ ছাড়িয়েছে, যার বড় অংশই শিশু।
আন্তর্জাতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এই সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভূমিকাও আলোচনায় এসেছে। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক সহায়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। কেবল অস্ত্র বিক্রি নয়, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও কূটনৈতিক সমর্থনও এই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করেছে।

বিশ্ব বিবেকের পরীক্ষা
ইয়েমেন আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের এক প্রতীক। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যাপ্ত নয় বলে সমালোচনা রয়েছে। শিশুদের জীবন রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















