ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন করতে নতুন দিকনির্দেশনা নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার প্রকাশিত ‘পার্টনার নেটওয়ার্ক নির্দেশিকা ২০২৬’ দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবার ডিজিটাল কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন নতুন নির্দেশিকা জরুরি হয়ে উঠল
প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক খাতে দ্রুত পরিবর্তনের কারণে নিরাপদ ডিজিটাল যোগাযোগ এখন অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল সেবা ও পেমেন্ট সেবাদাতার সঙ্গে ইলেকট্রনিক সংযোগ স্থাপন করেছে। এই সংযোগের মাধ্যমেই ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নতুন নির্দেশিকা সেই সংযোগকে আরও নির্ভরযোগ্য ও ঝুঁকিমুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করবে পার্টনার নেটওয়ার্ক
নতুন ব্যবস্থায় একটি এক্সট্রানেটভিত্তিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলেই সব লাইসেন্সপ্রাপ্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবে। ফলে একটি সমন্বিত ও নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি হবে।
প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও শ্রেণিবিন্যাস
নির্দেশিকায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন সেবা চালু রাখতে হবে। দ্বিতীয় শ্রেণির প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধাপে ধাপে উন্নত নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে এগোতে বলা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদা দল বা ইউনিট গঠন করে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও তদারকির দায়িত্ব নিতে হবে।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাধ্যবাধকতা
নেটওয়ার্ক সুরক্ষায় কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। নেটওয়ার্ক বিভাজন, ফায়ারওয়াল নিয়ন্ত্রণ, অস্বাভাবিক ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ এবং পরিবর্তন ব্যবস্থাপনায় লিখিত প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এক্সট্রানেট এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকছে এবং কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিরাই প্রবেশাধিকার পাবেন।

ডেটা সুরক্ষা ও সংযোগ নিরাপত্তা
দূরবর্তী সংযোগের ক্ষেত্রে এনক্রিপশন, প্রমাণীকরণ এবং নিয়মিত নজরদারির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন, সফটওয়্যার হালনাগাদ, ডেটা ব্যাকআপ সংরক্ষণ এবং অপ্রয়োজনীয় পোর্ট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্যক্তিগত ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
নির্দেশিকায় ব্যক্তিগত ডিভাইস ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ, নেটওয়ার্ক নকশা সংরক্ষণ এবং নিয়মিত নিরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের সেবা বিঘ্ন ঘটলে তা দ্রুত বিস্তারিতভাবে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাস্তবায়নের সময়সীমা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশিকা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















