মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যখন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইরানে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এসব পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি, তবুও সামরিক প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সীমিত অভিযানের পরিকল্পনা, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই পরিকল্পিত অভিযান কোনো পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন নয়। বরং বিশেষ বাহিনী ও নিয়মিত সেনাদের মাধ্যমে সীমিত আকারে হামলা চালানো হতে পারে। লক্ষ্য হতে পারে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল করা কিংবা হরমুজ প্রণালীর আশপাশে সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা।
এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনার কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট
যদিও ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে ইরান ইতোমধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সমঝোতার জন্য আগ্রহী, তবুও তিনি এখনো কোনো স্থল অভিযানে অনুমোদন দেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সম্ভাব্য সব বিকল্প প্রস্তুত রাখা সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
অঞ্চলে বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি
ইতোমধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরী ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন করে হাজার হাজার নৌসেনা ও মেরিন সদস্য, যুদ্ধবিমান এবং উভচর হামলা সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে।
একাধিক যুদ্ধজাহাজের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ নৌবহরও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি আরও একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের প্রস্তুতিও চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। সেই সময় একাধিক রণতরী হামলায় অংশ নেয়। তবে একটি রণতরীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সেটি মেরামতের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়, যা নতুন করে সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি স্থল অভিযান শুরু হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















