মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী পাঠানো হয়েছে, যা ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও বাড়ানোর সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পরবর্তী সামরিক কৌশল নিয়ে ভাবছেন, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা সমাবেশ
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ বিশেষ অভিযান বাহিনী ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে হাজার হাজার মেরিন ও সেনা প্যারাট্রুপার। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিস্তৃত করার অতিরিক্ত বিকল্প দেওয়া।
এই বিশেষ বাহিনীর মধ্যে আর্মি রেঞ্জার্স ও নেভি সিলস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখনো তাদের নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়নি।

সম্ভাব্য অভিযানের লক্ষ্য
মার্কিন বিশেষ বাহিনী বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত রাখা, যা বর্তমানে ইরান কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপ, যা ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র, সেটি দখলের চেষ্টা চালানো হতে পারে।
আরেকটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হলো ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনা, যেখানে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে।
সেনা উপস্থিতি বৃদ্ধি
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা রয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার বেশি। সম্প্রতি ২,৫০০ মেরিন ও ২,৫০০ নৌসদস্য এই অঞ্চলে যোগ দিয়েছে।
সাধারণত সৌদি আরব, বাহরাইন, ইরাক, সিরিয়া, জর্ডান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করে। কিন্তু ইরান সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বেড়েছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমানে ইরানের হামলার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এখন এই প্রণালী পুনরায় চালু করার উপায় খুঁজছে।
বিমানবাহী রণতরীর সমস্যা
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী জাহাজ জেরাল্ড আর ফোর্ড, যাতে প্রায় ৪,৫০০ সেনা ছিল, সেটি নানা দুর্ঘটনার কারণে অঞ্চল ছেড়ে গেছে। জাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডসহ একাধিক সমস্যা দেখা দেয়।
মার্চের ২৩ তারিখে এটি মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে ক্রিটে যায় এবং পরে ক্রোয়েশিয়ায় পৌঁছায়। এখনো স্পষ্ট নয়, এটি পরবর্তীতে কোথায় যাবে।
অতিরিক্ত প্যারাট্রুপার মোতায়েন
গত সপ্তাহে পেন্টাগন আরও প্রায় ২,০০০ সেনাকে, যারা ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদস্য, মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তারা ইরানের আঘাতের আওতায় থাকবে এমন স্থানে অবস্থান করবে।
এই বাহিনী খার্গ দ্বীপে বা অন্য স্থল অভিযানে মেরিনদের সঙ্গে কাজ করতে পারে।

বৃহৎ যুদ্ধের সীমাবদ্ধতা
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫০ হাজার সেনা বড় ধরনের স্থল অভিযানের জন্য যথেষ্ট নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ২০২৩ সালে গাজায় অভিযানে ইসরায়েল ৩ লাখের বেশি সেনা ব্যবহার করেছিল। আর ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার।
ইরানের আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং জনসংখ্যা প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ। এত বড় ও জটিল একটি দেশ দখল বা নিয়ন্ত্রণ করা ৫০ হাজার সেনা দিয়ে সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
মূল বিশ্লেষণ
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে না গিয়ে কৌশলগত চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিচ্ছে। বিশেষ বাহিনী মোতায়েন মূলত দ্রুত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বড় আকারের স্থলযুদ্ধ এখনো বাস্তবসম্মত নয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















