মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ইসরায়েলে প্রথম হামলার পর সংঘাতের পরিধি বাড়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি আরও তীব্র হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তেলের দামে বড় উল্লম্ফন
সোমবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২.৪৩ ডলার বেড়ে ১১৫ ডলারে পৌঁছায়, যা ২.১৬ শতাংশ বৃদ্ধি। আগের সেশনেই দাম ৪.২ শতাংশ বেড়েছিল। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ১০১.৫০ ডলার, যা ১.৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি মাসে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ৫৯ শতাংশ বেড়েছে, যা ইতিহাসে অন্যতম বড় মাসিক উত্থান। ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়কার বৃদ্ধিকেও এটি ছাড়িয়ে গেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া ইরান সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথিরা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে হামলা চালানোয় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন সংঘাত শুধু পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালীতেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালীতেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিশ্ব তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট।
তেল সরবরাহে ঝুঁকি বাড়ছে
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংঘাতের কারণে এই পথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে দৈনিক ৪.৬৫৮ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে। তবে এই রুটও ঝুঁকির মধ্যে পড়লে মিশরের সুয়েজ-মেডিটেরেনিয়ান পাইপলাইনের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।

শান্তি আলোচনার মাঝেও উত্তেজনা
একদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। সপ্তাহান্তে হামলায় ওমানের সালালাহ টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, প্রয়োজনে জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষ আলোচনা চলছে এবং নতুন নেতৃত্ব যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছে। তবে একই সময়ে অঞ্চলে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা
পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করছে। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার বিষয়েও কথা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, এখন বাজার প্রায় ধরে নিয়েছে যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে না। বরং সামরিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে—যা তেলের দামের জন্য ইতিবাচক হলেও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
মোটের ওপর, মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















