০৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের নেতৃত্বে বাঘের গালিবাফ, কে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও খারগ দ্বীপ নিয়ে নিতে পারে: ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানে নাগরিকত্ব পেতে এখন ১০ বছর বসবাস বাধ্যতামূলক, কর নথিতেও কঠোরতা রেস্তোরাঁ খাতে বিদেশি কর্মী বন্ধে জাপানের সিদ্ধান্তে আতঙ্ক, শ্রম সংকটে টালমাটাল খাদ্যসেবা শিল্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও ছড়াচ্ছে, ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে হামলা, মার্কিন সেনা মোতায়েন জোরদার উত্তর কোরিয়ার ‘চিরশত্রু’ তত্ত্বে নতুন উত্তেজনা, বাস্তবতায় কতটা টিকবে কিমের কৌশল? চিংড়ি চাষে বিপ্লব: আগেই রোগ শনাক্ত করে লাখো টাকা বাঁচাচ্ছে নতুন প্রযুক্তি কারাচিতে ২৪ দিনেই বছরের সমান কার্গো, ইরান উত্তেজনায় বদলে গেল সমুদ্র বাণিজ্যের চিত্র চীনা প্রযুক্তি জায়ান্টের টানে জার্মান বিজ্ঞানী, নিরাপত্তা ও মেধাপাচার নিয়ে নতুন উদ্বেগ মালদ্বীপে ঋণঝড়: ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সুকুক পরিশোধে চাপে অর্থনীতি

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভয়াল ভাঙন: গৃহহীন ৫০ পরিবার, ঝুঁকিতে আরও শতাধিক

উত্তরের কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীব্র ভাঙনে আবারও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নদীভাঙনকবলিত জনপদ। গত এক সপ্তাহের ধারাবাহিক ভাঙনে অন্তত ৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে, আর শতাধিক পরিবার এখনো চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙনের আতঙ্কে অনেকেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাটি ও ঘুঘুমারী গ্রাম। স্থানীয়দের মতে, ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।

ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার হিড়িক

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনরোধের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় মানুষজন নিজেদের ঘরবাড়ি খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে, আবার কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এখনো নিজেদের ভিটেমাটিতেই অবস্থান করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজুল ইসলাম বলেন, নদী তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। এখন কোথায় যাবেন বা কীভাবে নতুন করে জীবন শুরু করবেন, সে বিষয়ে তিনি দিশেহারা। একইভাবে কাশেম আলী জানান, একের পর এক জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

কু‌ড়িগ্রা‌মে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন, এক সপ্তাহে গৃহহীন ৫০ পরিবার, ঝুঁকিতে  শতাধিক

ভাঙনের কারণ ও করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি ও ভৌগোলিক কারণ মিলিয়ে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে। কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় প্রবাহ সংকুচিত হয় এবং তীরবর্তী দুর্বল মাটির গঠন ভাঙনকে দ্রুততর করে।

তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সতর্ক করে বলেছেন, জরুরি ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙনরোধে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রায় ৮ দশমিক ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বাস্তবতা হলো, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী এসব এলাকার মানুষকে আরও বড় মানবিক সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে—যা প্রতি বছরই নতুন করে ফিরে আসে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের নেতৃত্বে বাঘের গালিবাফ, কে তিনি

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভয়াল ভাঙন: গৃহহীন ৫০ পরিবার, ঝুঁকিতে আরও শতাধিক

০২:৪০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

উত্তরের কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীব্র ভাঙনে আবারও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নদীভাঙনকবলিত জনপদ। গত এক সপ্তাহের ধারাবাহিক ভাঙনে অন্তত ৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে, আর শতাধিক পরিবার এখনো চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙনের আতঙ্কে অনেকেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাটি ও ঘুঘুমারী গ্রাম। স্থানীয়দের মতে, ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।

ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার হিড়িক

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনরোধের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় মানুষজন নিজেদের ঘরবাড়ি খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে, আবার কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এখনো নিজেদের ভিটেমাটিতেই অবস্থান করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজুল ইসলাম বলেন, নদী তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। এখন কোথায় যাবেন বা কীভাবে নতুন করে জীবন শুরু করবেন, সে বিষয়ে তিনি দিশেহারা। একইভাবে কাশেম আলী জানান, একের পর এক জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

কু‌ড়িগ্রা‌মে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন, এক সপ্তাহে গৃহহীন ৫০ পরিবার, ঝুঁকিতে  শতাধিক

ভাঙনের কারণ ও করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি ও ভৌগোলিক কারণ মিলিয়ে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে। কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় প্রবাহ সংকুচিত হয় এবং তীরবর্তী দুর্বল মাটির গঠন ভাঙনকে দ্রুততর করে।

তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সতর্ক করে বলেছেন, জরুরি ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙনরোধে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রায় ৮ দশমিক ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বাস্তবতা হলো, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী এসব এলাকার মানুষকে আরও বড় মানবিক সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে—যা প্রতি বছরই নতুন করে ফিরে আসে।