সিলেটে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে অন্তত ১২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রতিদিন নতুন করে শিশুদের ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বাড়ায় স্বাস্থ্য বিভাগে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে।
শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অনেকেই নয় মাসের নিচে, এমনকি পাঁচ থেকে ছয় মাস বয়সী শিশুও রয়েছে, যাদের এখনো টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমণ দেখা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
কারণ অনুসন্ধানে বিশেষ তদন্ত
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, কেন টিকা নেওয়ার পরও কিছু শিশু আক্রান্ত হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে। গত বছর হামের টিকার সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল বলে জানা গেছে, যদিও বর্তমানে টিকা সংকট নেই।
জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে
চিকিৎসকদের মতে, হামের শুরুতে জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দেয়, এরপর কয়েক দিনের মধ্যে সারা শরীরে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত দুই সপ্তাহে রোগ সেরে গেলেও দ্বিতীয় সপ্তাহে জটিলতা তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের সংক্রমণ ও শরীরের লবণ-পানির ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়। বিরল ক্ষেত্রে কিডনি বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা, মস্তিষ্কে সংক্রমণ এবং খিঁচুনিও হতে পারে।
টিকা না নেওয়া শিশুদের ঝুঁকি বেশি
বাংলাদেশে হামের টিকা সাধারণত দুই ধাপে দেওয়া হয়—প্রথমটি নয় মাসে এবং দ্বিতীয়টি ১৫ মাসে। তবে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে। যেসব শিশু টিকা নেয়নি বা সময়মতো টিকা সম্পন্ন করেনি, তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।

ভিড় ও চলাচল বাড়াচ্ছে সংক্রমণ
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত অনেক শিশুই সম্প্রতি ভিড়পূর্ণ স্থানে গেছে বা ভ্রমণ করেছে, যা সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে সহায়তা করেছে। ফলে এই বয়সী শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির প্রস্তুতি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগ নয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রয়োজনে এই বয়সসীমা আরও বাড়ানো হতে পারে, যাতে বেশি সংখ্যক শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনা যায়।
অভিভাবকদের জন্য সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুকে ভিড় থেকে দূরে রাখতে হবে, পর্যাপ্ত পুষ্টি, বিশ্রাম ও পানি নিশ্চিত করতে হবে এবং জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং সময়মতো টিকা সম্পন্ন করাও অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, সময়মতো টিকাদান ও আক্রান্তদের পৃথক রাখাই এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















