পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা নিয়ে গবেষণায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা। গবেষণায় দেখা গেছে, বিজ্ঞানীরা যে নাইট্রাইল ও ল্যাটেক্স গ্লাভস নিয়মিত ব্যবহার করেন, সেগুলো থেকেই পরীক্ষার নমুনায় ভুয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ধরা পড়তে পারে—ফলে প্রকৃত মাত্রার চেয়ে বেশি দেখাতে পারে ফলাফল।
গবেষকদের মতে, এসব গ্লাভসে ব্যবহৃত ‘স্টিয়ারেট’ নামের সাবানজাতীয় লবণভিত্তিক পদার্থ থেকে ক্ষুদ্র কণা বিচ্ছিন্ন হয়ে পরীক্ষার যন্ত্রপাতিতে লেগে যায়। যদিও এগুলো প্লাস্টিক নয়, তবে পরীক্ষায় এগুলো অনেক সময় মাইক্রোপ্লাস্টিকের মতোই শনাক্ত হয়, যা ভুল বা অতিরঞ্জিত ফলাফল তৈরি করে।

গ্লাভস থেকেই দূষণের উৎস
গবেষণার প্রধান গবেষক ম্যাডেলিন ক্লফ ও অ্যান ম্যাকনিল জানান, সাধারণ ল্যাব ব্যবহারের সময়—যেমন ফিল্টার, স্লাইড বা যন্ত্র স্পর্শ করার মাধ্যমে—গ্লাভস থেকে কণা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি বর্গমিলিমিটারে গড়ে প্রায় ২,০০০টি পর্যন্ত ভুয়া সংকেত তৈরি হতে পারে।
এ সমস্যা চিহ্নিত হওয়ার পর গবেষকরা ‘ক্লিনরুম গ্লাভস’ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম কণা ছড়ায় এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ব্যবহারের জন্য তৈরি।

বাস্তব ঝুঁকি কম নয়
তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, এতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রকৃত ঝুঁকি কমে যায় না। বরং সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ম্যাকনিল বলেন, “আমরা হয়তো মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বেশি দেখছি, কিন্তু বাস্তবে এর অস্তিত্ব শূন্য হওয়াই উচিত।”
গবেষণাটি আরও দেখিয়েছে, স্টিয়ারেট কণাগুলো দেখতে অনেকটা পলিথিনের মতো হওয়ায় সেগুলো আলাদা করা কঠিন। তবে উন্নত বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকৃত মাইক্রোপ্লাস্টিক ও গ্লাভসজনিত কণার মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণের উপায়ও বের করেছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ আবিষ্কার ভবিষ্যতের গবেষণায় আরও সতর্কতা আনবে এবং আগের তথ্যগুলো নতুন করে যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করবে। মাইক্রোপ্লাস্টিক গবেষণায় সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে রসায়নবিদদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















