০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে দুর্নীতির নতুন প্রজন্ম: যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যের মৃত্যু, ক্ষমতার ছায়ায় কর্মকর্তাদের বিলাসজীবন অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে বিশাল ‘পাখা-আকৃতির’ ভূগর্ভস্থ কাঠামোর সন্ধান, বদলে যেতে পারে পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসের ধারণা ই-রিকশা দূর থেকে বন্ধের অভিযোগ: গুগল-অ্যাপলকে আরও ৭ ব্যাটারি অ্যাপ সরাতে ভারতের নির্দেশ ঢাকার হামলায় নিহত জাপানিদের স্মরণ করলেন বাংলাদেশের হাসিনা ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ধাক্কা সামলাতে এশিয়ার ভরসা আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি কেড়ে নেবে চাকরি, নাকি খুলবে নতুন সম্ভাবনা? সাদ্দাম হোসেনের ‘হলিউড স্বপ্ন’: যুদ্ধের মধ্যেই নির্মিত হয়েছিল ইরাকের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র পাঁচ দিনের শোকানুষ্ঠান শুরু: খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে বিশ্বনেতাদের সমাগম সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় পাসপোর্ট সেবা চালু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রোনালদোর গোল, স্পেনের দাপট, বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে মদরিচ: বিশ্বকাপে জমে উঠেছে শেষ ষোলোর লড়াই

চীনা প্রযুক্তি জায়ান্টের টানে জার্মান বিজ্ঞানী, নিরাপত্তা ও মেধাপাচার নিয়ে নতুন উদ্বেগ

জার্মানির গবেষণা খাত থেকে শীর্ষ বিজ্ঞানীকে টেনে নেওয়ার ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা এবং মেধা পাচার নিয়ে আশঙ্কা। Huawei-এর এই পদক্ষেপ জার্মানির একাডেমিক কাঠামোর দুর্বলতাও উন্মোচন করেছে।

সম্প্রতি বিশিষ্ট জার্মান বিজ্ঞানী মার্টিন শেল তাঁর দীর্ঘদিনের পদ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত হুয়াওয়ের গবেষণা কেন্দ্রে যোগ দিয়েছেন। তিনি আগে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রাউনহোফার হাইনরিখ হার্টজ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি আলোকভিত্তিক প্রযুক্তি বা ফোটোনিক্সে বিশ্বসেরা গবেষণার জন্য পরিচিত।

Martin Schell receives Photonic Integrated Circuit Lifetime Achievement  Award 2019

 

মেধা টানার কৌশল ও নিরাপত্তা শঙ্কা

জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, হুয়াওয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জার্মানির উচ্চমানের গবেষকদের টার্গেট করে আসছে। আকর্ষণীয় বেতন, উন্নত গবেষণা সুবিধা এবং দ্রুত অগ্রগতির সুযোগ দেখিয়ে দক্ষ জনবলকে টেনে নেওয়া হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকের মতে, এর মাধ্যমে সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিদেশে চলে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ফাইভ জি নেটওয়ার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

জার্মান একাডেমিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা

তবে শুধু বিদেশি কোম্পানির আগ্রাসন নয়, জার্মানির নিজস্ব একাডেমিক ব্যবস্থাকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষকদের জন্য স্থায়ী চাকরির সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থায়ী পদ না পেলে সিস্টেম থেকে ছিটকে পড়েন।

ফলে তরুণ গবেষকরা বাধ্য হয়ে বিদেশে সুযোগ খোঁজেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণার চেয়ে চাকরি খোঁজার চাপই বেশি হয়ে দাঁড়ায়, যা মেধা ধরে রাখার পথে বড় বাধা।

Huawei poaches top German scientist, as scholars blame academic system -  Nikkei Asia

চীনে গবেষণার আকর্ষণ বাড়ছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনে গবেষণার ক্ষেত্রে কম بيرোক্র্যাটিক জটিলতা, শক্তিশালী সরকারি সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিজ্ঞানীদের কাছে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রেই গবেষণা থেকে শিল্পখাতে দ্রুত প্রবেশের সুযোগ পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের মেধাবী মানবসম্পদ ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে দুর্নীতির নতুন প্রজন্ম: যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যের মৃত্যু, ক্ষমতার ছায়ায় কর্মকর্তাদের বিলাসজীবন

চীনা প্রযুক্তি জায়ান্টের টানে জার্মান বিজ্ঞানী, নিরাপত্তা ও মেধাপাচার নিয়ে নতুন উদ্বেগ

০৩:২৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

জার্মানির গবেষণা খাত থেকে শীর্ষ বিজ্ঞানীকে টেনে নেওয়ার ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা এবং মেধা পাচার নিয়ে আশঙ্কা। Huawei-এর এই পদক্ষেপ জার্মানির একাডেমিক কাঠামোর দুর্বলতাও উন্মোচন করেছে।

সম্প্রতি বিশিষ্ট জার্মান বিজ্ঞানী মার্টিন শেল তাঁর দীর্ঘদিনের পদ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত হুয়াওয়ের গবেষণা কেন্দ্রে যোগ দিয়েছেন। তিনি আগে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রাউনহোফার হাইনরিখ হার্টজ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি আলোকভিত্তিক প্রযুক্তি বা ফোটোনিক্সে বিশ্বসেরা গবেষণার জন্য পরিচিত।

Martin Schell receives Photonic Integrated Circuit Lifetime Achievement  Award 2019

 

মেধা টানার কৌশল ও নিরাপত্তা শঙ্কা

জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, হুয়াওয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জার্মানির উচ্চমানের গবেষকদের টার্গেট করে আসছে। আকর্ষণীয় বেতন, উন্নত গবেষণা সুবিধা এবং দ্রুত অগ্রগতির সুযোগ দেখিয়ে দক্ষ জনবলকে টেনে নেওয়া হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকের মতে, এর মাধ্যমে সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিদেশে চলে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ফাইভ জি নেটওয়ার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

জার্মান একাডেমিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা

তবে শুধু বিদেশি কোম্পানির আগ্রাসন নয়, জার্মানির নিজস্ব একাডেমিক ব্যবস্থাকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষকদের জন্য স্থায়ী চাকরির সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থায়ী পদ না পেলে সিস্টেম থেকে ছিটকে পড়েন।

ফলে তরুণ গবেষকরা বাধ্য হয়ে বিদেশে সুযোগ খোঁজেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণার চেয়ে চাকরি খোঁজার চাপই বেশি হয়ে দাঁড়ায়, যা মেধা ধরে রাখার পথে বড় বাধা।

Huawei poaches top German scientist, as scholars blame academic system -  Nikkei Asia

চীনে গবেষণার আকর্ষণ বাড়ছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনে গবেষণার ক্ষেত্রে কম بيرোক্র্যাটিক জটিলতা, শক্তিশালী সরকারি সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিজ্ঞানীদের কাছে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রেই গবেষণা থেকে শিল্পখাতে দ্রুত প্রবেশের সুযোগ পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের মেধাবী মানবসম্পদ ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।