জার্মানির গবেষণা খাত থেকে শীর্ষ বিজ্ঞানীকে টেনে নেওয়ার ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা এবং মেধা পাচার নিয়ে আশঙ্কা। Huawei-এর এই পদক্ষেপ জার্মানির একাডেমিক কাঠামোর দুর্বলতাও উন্মোচন করেছে।
সম্প্রতি বিশিষ্ট জার্মান বিজ্ঞানী মার্টিন শেল তাঁর দীর্ঘদিনের পদ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত হুয়াওয়ের গবেষণা কেন্দ্রে যোগ দিয়েছেন। তিনি আগে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রাউনহোফার হাইনরিখ হার্টজ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি আলোকভিত্তিক প্রযুক্তি বা ফোটোনিক্সে বিশ্বসেরা গবেষণার জন্য পরিচিত।

মেধা টানার কৌশল ও নিরাপত্তা শঙ্কা
জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, হুয়াওয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জার্মানির উচ্চমানের গবেষকদের টার্গেট করে আসছে। আকর্ষণীয় বেতন, উন্নত গবেষণা সুবিধা এবং দ্রুত অগ্রগতির সুযোগ দেখিয়ে দক্ষ জনবলকে টেনে নেওয়া হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকের মতে, এর মাধ্যমে সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিদেশে চলে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ফাইভ জি নেটওয়ার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
জার্মান একাডেমিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা
তবে শুধু বিদেশি কোম্পানির আগ্রাসন নয়, জার্মানির নিজস্ব একাডেমিক ব্যবস্থাকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষকদের জন্য স্থায়ী চাকরির সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থায়ী পদ না পেলে সিস্টেম থেকে ছিটকে পড়েন।
ফলে তরুণ গবেষকরা বাধ্য হয়ে বিদেশে সুযোগ খোঁজেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণার চেয়ে চাকরি খোঁজার চাপই বেশি হয়ে দাঁড়ায়, যা মেধা ধরে রাখার পথে বড় বাধা।
চীনে গবেষণার আকর্ষণ বাড়ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনে গবেষণার ক্ষেত্রে কম بيرোক্র্যাটিক জটিলতা, শক্তিশালী সরকারি সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিজ্ঞানীদের কাছে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রেই গবেষণা থেকে শিল্পখাতে দ্রুত প্রবেশের সুযোগ পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের মেধাবী মানবসম্পদ ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















