০৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
বাড্ডায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের, ইউ-লুপ ব্রিজে মর্মান্তিক সংঘর্ষ সুন্দরবনে শুরু হচ্ছে মধু সংগ্রহ মৌসুম: জীবনঝুঁকি, চাঁদাবাজি আর লক্ষ্যমাত্রার চাপ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অগ্রগতি থমকে: অর্থায়ন ও নীতিগত ঘাটতিতে ঝুঁকিতে জলবায়ুপ্রবণ অঞ্চল ফরিদপুরে আগুনে পুড়ে কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু, নাশকতার অভিযোগে চাঞ্চল্য পাবনা সফর শেষে ঢাকায় ফিরছেন রাষ্ট্রপতি, চার দিনের ব্যস্ত কর্মসূচি শেষ ধোনিহীন শুরুতেই নতুন সিএসকে: বদলের পথে কি মিলবে সাফল্যের ইঙ্গিত বাংলাদেশে হাম আতঙ্ক: বাড়ছে শিশুমৃত্যু, ঝুঁকিতে দেশজুড়ে শিশু সংসদে সংক্ষিপ্ত বৈঠক: প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সৌজন্য আলাপ ঈদে সড়কে মৃত্যু ফাঁদ: ১৫ দিনে প্রাণ গেল ৩৫১ জনের, সিন্ডিকেট আর নীতিগত ব্যর্থতায় দায় চাপাল যাত্রী কল্যাণ সমিতি জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃঢ় বার্তা

জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে এলপিজির কালোবাজারি বিস্তার, পুলিশের অভিযানে হাজারের বেশি সিলিন্ডার জব্দ

রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত দামের অভিযোগের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক অভিযানে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে একটি বিস্তৃত কালোবাজারি চক্র, যা সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল।

সরবরাহ সংকটেই কালোবাজারির দৌরাত্ম্য

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সরবরাহে। এর জেরেই রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডার সময়মতো না পাওয়া এবং বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে ওঠে অবৈধ মজুত ও সরবরাহ চক্র।

পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে বড় সাফল্য

মার্চের প্রথম থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত রাজধানীজুড়ে মোট ৭৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ২২টি মামলা দায়ের এবং ১ হাজার ৭১০টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। বিশেষ করে অপরাধ দমন শাখা মাত্র তিনটি অভিযানে ১ হাজার ১৪৫টি সিলিন্ডার উদ্ধার করে, যা এই চক্রের বিস্তার কতটা বড় তা স্পষ্ট করে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বেশি জব্দ

রাজধানীর দক্ষিণ জেলায় একক অভিযানে সর্বোচ্চ ২২৩টি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম জেলায় সাতটি অভিযানে ৬টি মামলা এবং ১১৯টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, গ্যাস এজেন্সির ডিলার ও ডেলিভারি কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা অনেক ক্ষেত্রেই পাওয়া গেছে।

আবাসিক এলাকায় বিপজ্জনক মজুত

ডেরা মান্ডি এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা সিলিন্ডার মজুত করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকায় বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পূর্বাঞ্চলে অভিযান বেশি, জব্দ কম

পূর্বাঞ্চলীয় জেলায় সবচেয়ে বেশি ৩০টি অভিযান চালানো হলেও মাত্র ৫টি সিলিন্ডার জব্দ এবং ২টি মামলা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এখানে ব্যক্তিগত পর্যায়ের ব্যবহার বেশি ছিল বা মজুতের পরিমাণ কম।

অন্যান্য জেলাতেও অভিযান অব্যাহত

শাহদারা, পশ্চিম, দ্বারকা ও দক্ষিণ-পূর্ব জেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সিলিন্ডার জব্দ হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় কোনো জব্দ বা মামলা হয়নি, যা নজরদারির ফাঁকফোকর থাকার ইঙ্গিত দেয়।

বড় চক্র ভাঙতে তদন্ত জোরদার

পুলিশ জানিয়েছে, সংগঠিত চক্রের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি যেন প্রকৃত গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড্ডায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের, ইউ-লুপ ব্রিজে মর্মান্তিক সংঘর্ষ

জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে এলপিজির কালোবাজারি বিস্তার, পুলিশের অভিযানে হাজারের বেশি সিলিন্ডার জব্দ

০৬:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত দামের অভিযোগের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক অভিযানে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে একটি বিস্তৃত কালোবাজারি চক্র, যা সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল।

সরবরাহ সংকটেই কালোবাজারির দৌরাত্ম্য

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সরবরাহে। এর জেরেই রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডার সময়মতো না পাওয়া এবং বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে ওঠে অবৈধ মজুত ও সরবরাহ চক্র।

পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে বড় সাফল্য

মার্চের প্রথম থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত রাজধানীজুড়ে মোট ৭৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ২২টি মামলা দায়ের এবং ১ হাজার ৭১০টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। বিশেষ করে অপরাধ দমন শাখা মাত্র তিনটি অভিযানে ১ হাজার ১৪৫টি সিলিন্ডার উদ্ধার করে, যা এই চক্রের বিস্তার কতটা বড় তা স্পষ্ট করে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বেশি জব্দ

রাজধানীর দক্ষিণ জেলায় একক অভিযানে সর্বোচ্চ ২২৩টি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম জেলায় সাতটি অভিযানে ৬টি মামলা এবং ১১৯টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, গ্যাস এজেন্সির ডিলার ও ডেলিভারি কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা অনেক ক্ষেত্রেই পাওয়া গেছে।

আবাসিক এলাকায় বিপজ্জনক মজুত

ডেরা মান্ডি এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা সিলিন্ডার মজুত করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকায় বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পূর্বাঞ্চলে অভিযান বেশি, জব্দ কম

পূর্বাঞ্চলীয় জেলায় সবচেয়ে বেশি ৩০টি অভিযান চালানো হলেও মাত্র ৫টি সিলিন্ডার জব্দ এবং ২টি মামলা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এখানে ব্যক্তিগত পর্যায়ের ব্যবহার বেশি ছিল বা মজুতের পরিমাণ কম।

অন্যান্য জেলাতেও অভিযান অব্যাহত

শাহদারা, পশ্চিম, দ্বারকা ও দক্ষিণ-পূর্ব জেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সিলিন্ডার জব্দ হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় কোনো জব্দ বা মামলা হয়নি, যা নজরদারির ফাঁকফোকর থাকার ইঙ্গিত দেয়।

বড় চক্র ভাঙতে তদন্ত জোরদার

পুলিশ জানিয়েছে, সংগঠিত চক্রের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি যেন প্রকৃত গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।