ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দেশের সড়কগুলো যেন ভয়াবহ মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছিল। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৫১ জন, আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৬ জন। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন তুলে ধরে এই চিত্র, যা দেশের পরিবহন ব্যবস্থার গভীর সংকটকেই সামনে এনে দিয়েছে।
দুর্ঘটনার ভয়াবহ পরিসংখ্যান
১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সময়জুড়ে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা, যেখানে মোট মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছে।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ প্রাণহানি
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়েছে। ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৩৫ জন, যা মোট সড়ক মৃত্যুর প্রায় ৩৯ শতাংশ। এছাড়া ট্রাক ও ভ্যান জড়িত দুর্ঘটনা ১৮ শতাংশ এবং বাস ১৬ শতাংশ।
রেল ও নৌপথেও ঝুঁকি
সড়কের পাশাপাশি রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫ জন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

হাসপাতালে আহতের চাপ
এই সময়ের মধ্যে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৭৮ জন আহত ব্যক্তি। যা দুর্ঘটনার প্রকৃত ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।
মহাসড়কই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ
মোট দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই ঘটেছে মহাসড়কে। মুখোমুখি সংঘর্ষ ও পথচারী সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনাই বেশি দেখা গেছে। পরিকল্পনার ঘাটতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সিন্ডিকেট ও নীতিগত ব্যর্থতার অভিযোগ
পরিবহন খাতে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং নীতিগত দুর্বলতাকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঈদ উপলক্ষে সমন্বয় বৈঠকে যাত্রী প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রভাবশালী গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ভাড়া বিশৃঙ্খলা ও সড়কে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা লাখো মানুষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















