বাংলাদেশজুড়ে আবারও উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে হাম। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ, আর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একের পর এক মৃত্যুর খবর জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে নতুন করে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ
ঢাকাসহ রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলে হাম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমেই সহজে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।
কেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা
চিকিৎসকদের মতে, যেসব শিশু এখনো টিকা পায়নি, বিশেষ করে পাঁচ বছরের নিচের শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, নয় মাসের কম বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যাদের এখনো টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি। এমনকি কিছু শিশু টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা সামনে আসছে, যা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ অনুসন্ধান শুরু করেছে।
উপসর্গ চিনতে না পারার ঝুঁকি
হামের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সংক্রমণের প্রায় ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রথমে জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর গালের ভেতরে ছোট সাদা দাগ এবং কয়েক দিনের মধ্যে মুখ থেকে শুরু করে পুরো শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
জটিলতা হতে পারে প্রাণঘাতী
হামকে সাধারণ রোগ মনে করা হলেও এর জটিলতা অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, অন্ধত্ব এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এটি অকাল প্রসব বা কম ওজনের শিশুর জন্মের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি এই ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল করে দেয়।
চিকিৎসা ও করণীয়
হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ না থাকায় চিকিৎসা মূলত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং শরীরে পানি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অন্যান্য সংক্রমণের চিকিৎসা দেওয়া হয়। আক্রান্তদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ, যা জটিলতা কমাতে সহায়ক।
প্রতিরোধেই সবচেয়ে বড় ভরসা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় টিকা। শিশুদের নির্ধারিত সময়ে দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রথম ডোজ সাধারণত নয় মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সচেতনতার অভাবে বাড়ছে ঝুঁকি
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাবই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। একটি আক্রান্ত শিশু সহজেই একাধিক শিশুকে সংক্রমিত করতে পারে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। তাই পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে সতর্কতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















