০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে এশিয়াজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা, আলোচনায় মেসি-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া জন্মের সময় সন্তানের পাশে থাকতে চান ডোকু, বিশ্বকাপ ছাড়ার ইচ্ছা ঘিরে বিতর্ক নর্থ সাগরের তেল-গ্যাস, রাজনৈতিক দ্বিধা এবং এসএনপির ক্রমবর্ধমান সংকট দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি, মানববন্ধনে কুড়িগ্রামবাসী ইসলামী ব্যাংকের সতর্কবার্তা: অপতৎপরতা রুখতে আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা, তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দাবি হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি: সড়ক অবরোধে জ্বালানি-খাদ্য সংকট, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের ডিজিটাল জনগণনা মাঠে: তাপদাহ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও প্রযুক্তিগত বাধায় বিপাকে গণনাকারীরা পাঁচ বছর না খেয়েও বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের এই প্রাণী, জানাল নতুন গবেষণা হরমুজ সংকট কাটলেও বিশ্ব অর্থনীতির স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে

ভারতের জ্বালানি সংকট তীব্র, এলপিজি সরবরাহে বড় ধাক্কা—হরমুজ সংকটের প্রভাব গভীর

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের জ্বালানি সরবরাহে গুরুতর সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এলপিজিতে নির্ভরতা, সংকট আরও গভীর

ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের মোট এলপিজি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি অংশ ব্যাহত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য গ্যাস নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। কোটি কোটি পরিবারের রান্নার জ্বালানি যাতে বন্ধ না হয়, সেটাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

এলএনজি সরবরাহেও চাপ

এলএনজি ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছে, যদিও তা তুলনামূলক কম। ভারতের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেকই এলএনজি আমদানির মাধ্যমে আসে। এর একটি বড় অংশ পশ্চিম এশিয়া থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ফলে প্রায় ৩০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।
এই চাপ সামাল দিতে সরকার কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ কমিয়েছে এবং গৃহস্থালি ও যানবাহন খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

এলপিজি ও এলএনজির পার্থক্য

এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ, যা সহজে তরল করা যায় এবং সিলিন্ডারে ভরে সরবরাহ করা হয়। এটি গ্রাম ও শহর উভয় জায়গায় সহজে পৌঁছানো যায়।
অন্যদিকে এলএনজি মূলত মিথেন গ্যাস, যা অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় তরল করা হয়। এটি বিশেষ ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ করতে হয় এবং পরে আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

কেন এলপিজি বেশি গুরুত্বপূর্ণ

এলপিজি সরাসরি রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এর বিকল্প সহজে পাওয়া যায় না। অন্যদিকে এলএনজি থেকে উৎপন্ন প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা যায়, যা শহরাঞ্চলে তুলনামূলক সুবিধাজনক।
এই কারণে সংকটের সময় এলপিজির গুরুত্ব অনেক বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পিএনজি ব্যবহারে জোর

এই পরিস্থিতিতে সরকার পাইপলাইনের গ্যাস বা পিএনজি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। যেখানে পিএনজি সংযোগ রয়েছে, সেখানে এলপিজি ব্যবহার কমাতে বলা হচ্ছে।
গৃহস্থালি ও যানবাহন খাতে পিএনজি ও সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হলেও শিল্প খাতে সরবরাহ কমিয়ে আনা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও ব্যবহারগত পার্থক্য

পিএনজি তুলনামূলক নিরাপদ, কারণ এটি বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে যায়। কিন্তু এলপিজি বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় লিক হলে জমে থাকে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
তবে সহজ পরিবহন ও সংরক্ষণ সুবিধার কারণে এলপিজি এখনো গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে অপরিহার্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে এশিয়াজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা, আলোচনায় মেসি-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া

ভারতের জ্বালানি সংকট তীব্র, এলপিজি সরবরাহে বড় ধাক্কা—হরমুজ সংকটের প্রভাব গভীর

০৭:৪০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের জ্বালানি সরবরাহে গুরুতর সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এলপিজিতে নির্ভরতা, সংকট আরও গভীর

ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের মোট এলপিজি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি অংশ ব্যাহত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য গ্যাস নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। কোটি কোটি পরিবারের রান্নার জ্বালানি যাতে বন্ধ না হয়, সেটাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

এলএনজি সরবরাহেও চাপ

এলএনজি ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছে, যদিও তা তুলনামূলক কম। ভারতের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেকই এলএনজি আমদানির মাধ্যমে আসে। এর একটি বড় অংশ পশ্চিম এশিয়া থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ফলে প্রায় ৩০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।
এই চাপ সামাল দিতে সরকার কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ কমিয়েছে এবং গৃহস্থালি ও যানবাহন খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

এলপিজি ও এলএনজির পার্থক্য

এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ, যা সহজে তরল করা যায় এবং সিলিন্ডারে ভরে সরবরাহ করা হয়। এটি গ্রাম ও শহর উভয় জায়গায় সহজে পৌঁছানো যায়।
অন্যদিকে এলএনজি মূলত মিথেন গ্যাস, যা অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় তরল করা হয়। এটি বিশেষ ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ করতে হয় এবং পরে আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

কেন এলপিজি বেশি গুরুত্বপূর্ণ

এলপিজি সরাসরি রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এর বিকল্প সহজে পাওয়া যায় না। অন্যদিকে এলএনজি থেকে উৎপন্ন প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা যায়, যা শহরাঞ্চলে তুলনামূলক সুবিধাজনক।
এই কারণে সংকটের সময় এলপিজির গুরুত্ব অনেক বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পিএনজি ব্যবহারে জোর

এই পরিস্থিতিতে সরকার পাইপলাইনের গ্যাস বা পিএনজি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। যেখানে পিএনজি সংযোগ রয়েছে, সেখানে এলপিজি ব্যবহার কমাতে বলা হচ্ছে।
গৃহস্থালি ও যানবাহন খাতে পিএনজি ও সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হলেও শিল্প খাতে সরবরাহ কমিয়ে আনা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও ব্যবহারগত পার্থক্য

পিএনজি তুলনামূলক নিরাপদ, কারণ এটি বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে যায়। কিন্তু এলপিজি বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় লিক হলে জমে থাকে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
তবে সহজ পরিবহন ও সংরক্ষণ সুবিধার কারণে এলপিজি এখনো গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে অপরিহার্য।