০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
জন্মের সময় সন্তানের পাশে থাকতে চান ডোকু, বিশ্বকাপ ছাড়ার ইচ্ছা ঘিরে বিতর্ক নর্থ সাগরের তেল-গ্যাস, রাজনৈতিক দ্বিধা এবং এসএনপির ক্রমবর্ধমান সংকট দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি, মানববন্ধনে কুড়িগ্রামবাসী ইসলামী ব্যাংকের সতর্কবার্তা: অপতৎপরতা রুখতে আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা, তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দাবি হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি: সড়ক অবরোধে জ্বালানি-খাদ্য সংকট, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের ডিজিটাল জনগণনা মাঠে: তাপদাহ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও প্রযুক্তিগত বাধায় বিপাকে গণনাকারীরা পাঁচ বছর না খেয়েও বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের এই প্রাণী, জানাল নতুন গবেষণা হরমুজ সংকট কাটলেও বিশ্ব অর্থনীতির স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে ক্রিকেট পিচের বিজ্ঞান ও শিল্প: কেন একেক উইকেট বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য

মেলোনির ধাক্কা: গণভোটে ‘না’, ইতালিতে বাড়ছে সরকারের প্রতি অসন্তোষ

ইতালির রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে থাকা প্রধানমন্ত্রী Giorgia Meloni হঠাৎই বড় ধাক্কা খেলেন। বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে হওয়া সাম্প্রতিক গণভোটে ভোটাররা স্পষ্টভাবে ‘না’ বলেছেন, যা শুধু একটি আইনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নয়—বরং সরকারের প্রতি বাড়তে থাকা অসন্তোষের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

গণভোটে অপ্রত্যাশিত ফল

২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত দুই দিনের ভোটে প্রস্তাবটি ৫৪ শতাংশ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়, যেখানে পক্ষে ছিল ৪৬ শতাংশ। বিরোধী Democratic Party-এর নেতা Elly Schlein এটিকে সরকারের প্রতি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বলে অভিহিত করেন।
ভোটদানের হারও ছিল উল্লেখযোগ্য—প্রায় ৫৯ শতাংশ, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় খুব বেশি কম নয়। ফলে এই ফলাফলকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

Her failed referendum gamble hints at growing dissatisfaction with her  government

সংস্কার নাকি রাজনৈতিক ভুল?

সরকারের এই সংস্কার পরিকল্পনা মূলত বিচারব্যবস্থার কিছু সীমিত পরিবর্তন নিয়ে ছিল। বিচারক ও কৌঁসুলিদের আলাদা কাঠামো তৈরি এবং প্রশাসনিক নিয়োগে নতুন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব ছিল এতে। তবে এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন হওয়ায় গণভোটের আয়োজন করতে হয়।
সমালোচকরা বলছেন, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা না করে দ্রুত এই বিল পাস করানোই সরকারের বড় ভুল ছিল। ইতালির ১৯৪৮ সালের সংবিধানের প্রতি জনগণের আবেগও এই ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে।

বিতর্ক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

এই সময়ে সরকারের ওপর আরও চাপ তৈরি করে একাধিক বিতর্ক। বিচার মন্ত্রণালয়ের এক জুনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে, যা পরে পদত্যাগে গড়ায়। পাশাপাশি পর্যটনমন্ত্রী Daniela Santanchè-কেও পদত্যাগ করতে হয়।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। Donald Trump-এর সঙ্গে মেলোনির ঘনিষ্ঠতা ইতালির কিছু ভোটারের কাছে নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।

Donald Trump's Compliment To Italian PM Giorgia Meloni Amuses Others

অর্থনীতি ও বাস্তব সমস্যার চাপ

সমালোচকদের মতে, এই সংস্কার প্রস্তাব ইতালির বিচারব্যবস্থার প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারত না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ইতালির আদালত ব্যবস্থাকে সবচেয়ে ধীরগতির একটি হিসেবে ধরা হয়।
এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও খুবই সীমিত, যদিও মহামারির পর ইউরোপীয় তহবিল থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা পেয়েছে দেশটি। ফলে জনগণের দৃষ্টিতে এই গণভোট ছিল বাস্তব সমস্যার বাইরে একটি বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

এই পরাজয় মেলোনির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তিনি নির্বাচনী আইন পরিবর্তন করে জয়ী জোটকে বেশি ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই উদ্যোগ উল্টো বিরোধীদেরই শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বাড়ানোর আরেকটি সাংবিধানিক সংশোধন পরিকল্পনাও এখন প্রশ্নের মুখে। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

Neoliberalism, geopolitics and ideology: The taming of Giorgia Meloni –  Middle East Monitor

জনপ্রিয় সংবাদ

জন্মের সময় সন্তানের পাশে থাকতে চান ডোকু, বিশ্বকাপ ছাড়ার ইচ্ছা ঘিরে বিতর্ক

মেলোনির ধাক্কা: গণভোটে ‘না’, ইতালিতে বাড়ছে সরকারের প্রতি অসন্তোষ

১২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ইতালির রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে থাকা প্রধানমন্ত্রী Giorgia Meloni হঠাৎই বড় ধাক্কা খেলেন। বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে হওয়া সাম্প্রতিক গণভোটে ভোটাররা স্পষ্টভাবে ‘না’ বলেছেন, যা শুধু একটি আইনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নয়—বরং সরকারের প্রতি বাড়তে থাকা অসন্তোষের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

গণভোটে অপ্রত্যাশিত ফল

২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত দুই দিনের ভোটে প্রস্তাবটি ৫৪ শতাংশ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়, যেখানে পক্ষে ছিল ৪৬ শতাংশ। বিরোধী Democratic Party-এর নেতা Elly Schlein এটিকে সরকারের প্রতি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বলে অভিহিত করেন।
ভোটদানের হারও ছিল উল্লেখযোগ্য—প্রায় ৫৯ শতাংশ, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় খুব বেশি কম নয়। ফলে এই ফলাফলকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

Her failed referendum gamble hints at growing dissatisfaction with her  government

সংস্কার নাকি রাজনৈতিক ভুল?

সরকারের এই সংস্কার পরিকল্পনা মূলত বিচারব্যবস্থার কিছু সীমিত পরিবর্তন নিয়ে ছিল। বিচারক ও কৌঁসুলিদের আলাদা কাঠামো তৈরি এবং প্রশাসনিক নিয়োগে নতুন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব ছিল এতে। তবে এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন হওয়ায় গণভোটের আয়োজন করতে হয়।
সমালোচকরা বলছেন, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা না করে দ্রুত এই বিল পাস করানোই সরকারের বড় ভুল ছিল। ইতালির ১৯৪৮ সালের সংবিধানের প্রতি জনগণের আবেগও এই ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে।

বিতর্ক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

এই সময়ে সরকারের ওপর আরও চাপ তৈরি করে একাধিক বিতর্ক। বিচার মন্ত্রণালয়ের এক জুনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে, যা পরে পদত্যাগে গড়ায়। পাশাপাশি পর্যটনমন্ত্রী Daniela Santanchè-কেও পদত্যাগ করতে হয়।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। Donald Trump-এর সঙ্গে মেলোনির ঘনিষ্ঠতা ইতালির কিছু ভোটারের কাছে নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।

Donald Trump's Compliment To Italian PM Giorgia Meloni Amuses Others

অর্থনীতি ও বাস্তব সমস্যার চাপ

সমালোচকদের মতে, এই সংস্কার প্রস্তাব ইতালির বিচারব্যবস্থার প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারত না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ইতালির আদালত ব্যবস্থাকে সবচেয়ে ধীরগতির একটি হিসেবে ধরা হয়।
এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও খুবই সীমিত, যদিও মহামারির পর ইউরোপীয় তহবিল থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা পেয়েছে দেশটি। ফলে জনগণের দৃষ্টিতে এই গণভোট ছিল বাস্তব সমস্যার বাইরে একটি বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

এই পরাজয় মেলোনির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তিনি নির্বাচনী আইন পরিবর্তন করে জয়ী জোটকে বেশি ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই উদ্যোগ উল্টো বিরোধীদেরই শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বাড়ানোর আরেকটি সাংবিধানিক সংশোধন পরিকল্পনাও এখন প্রশ্নের মুখে। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

Neoliberalism, geopolitics and ideology: The taming of Giorgia Meloni –  Middle East Monitor