০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
জন্মের সময় সন্তানের পাশে থাকতে চান ডোকু, বিশ্বকাপ ছাড়ার ইচ্ছা ঘিরে বিতর্ক নর্থ সাগরের তেল-গ্যাস, রাজনৈতিক দ্বিধা এবং এসএনপির ক্রমবর্ধমান সংকট দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি, মানববন্ধনে কুড়িগ্রামবাসী ইসলামী ব্যাংকের সতর্কবার্তা: অপতৎপরতা রুখতে আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা, তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দাবি হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি: সড়ক অবরোধে জ্বালানি-খাদ্য সংকট, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের ডিজিটাল জনগণনা মাঠে: তাপদাহ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও প্রযুক্তিগত বাধায় বিপাকে গণনাকারীরা পাঁচ বছর না খেয়েও বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের এই প্রাণী, জানাল নতুন গবেষণা হরমুজ সংকট কাটলেও বিশ্ব অর্থনীতির স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে ক্রিকেট পিচের বিজ্ঞান ও শিল্প: কেন একেক উইকেট বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা, তেলের দামে চাপে ইন্দোনেশিয়া—ঘাটতি বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইন্দোনেশিয়া-এর অর্থনীতিতে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন সরকারকে বাজেট ঘাটতির সীমা সাময়িকভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যায়।

তেলের দাম বেড়ে চাপ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। অথচ ২০২৬ সালের বাজেটে ইন্দোনেশিয়া তেলের দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ৭০ ডলার। এই ব্যবধান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি
ইন্দোনেশিয়ার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান আনিন্ডিয়া বক্রি বলেছেন, বর্তমান ৩ শতাংশ বাজেট ঘাটতির সীমা সাময়িকভাবে বাড়িয়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশ করা উচিত। তার মতে, এই পদক্ষেপ নিলে অন্তত ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ কতদিন চলবে বা কতটা ভয়াবহ হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়, তাই পরিস্থিতিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক হবে না।

প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস
Organisation for Economic Co-operation and Development সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪.৮ শতাংশ করেছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।

ঋণমান সংস্থার উদ্বেগ
মুডিস ও ফিচের মতো আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছে। তবে বক্রির মতে, এসব মূল্যায়ন যুদ্ধের আগে করা হয়েছিল, এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং ঘাটতি বাড়ানো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।

Indonesian business lobby calls for higher deficit cap during energy crisis  - Nikkei Asia

সরকারের সতর্ক অবস্থান
প্রাবোও সুবিয়ান্তো সরকারের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে ধীর হলেও বক্রি এটিকে ‘পরিমিত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ২৮ কোটি মানুষের দেশে আতঙ্ক না ছড়িয়ে শান্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, ফিলিপাইন ইতোমধ্যে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং ভিয়েতনাম জ্বালানি কর কমিয়েছে। সেখানে ইন্দোনেশিয়া এখনও বড় কোনো ঘোষণা দেয়নি, শুধু কিছু মন্ত্রণালয়ের ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ সংকট
ইন্দোনেশিয়া তার মোট তেলের এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। কিন্তু ইরানের কারণে ওই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়েছে। বর্তমানে দেশটির হাতে ৩০ দিনেরও কম তেলের মজুত রয়েছে।

বিকল্প উৎসের খোঁজ
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন বক্রি। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
এই সংকটকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে বিনিয়োগ বাড়ালে ভবিষ্যতে এমন ধাক্কা মোকাবিলা করা সহজ হবে।

বক্রির ভাষায়, বাস্তবতা এখন সবার সামনে স্পষ্ট—এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই জ্বালানি খাতে এগিয়ে যেতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জন্মের সময় সন্তানের পাশে থাকতে চান ডোকু, বিশ্বকাপ ছাড়ার ইচ্ছা ঘিরে বিতর্ক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা, তেলের দামে চাপে ইন্দোনেশিয়া—ঘাটতি বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

০৬:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইন্দোনেশিয়া-এর অর্থনীতিতে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন সরকারকে বাজেট ঘাটতির সীমা সাময়িকভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যায়।

তেলের দাম বেড়ে চাপ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। অথচ ২০২৬ সালের বাজেটে ইন্দোনেশিয়া তেলের দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ৭০ ডলার। এই ব্যবধান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি
ইন্দোনেশিয়ার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান আনিন্ডিয়া বক্রি বলেছেন, বর্তমান ৩ শতাংশ বাজেট ঘাটতির সীমা সাময়িকভাবে বাড়িয়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশ করা উচিত। তার মতে, এই পদক্ষেপ নিলে অন্তত ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ কতদিন চলবে বা কতটা ভয়াবহ হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়, তাই পরিস্থিতিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক হবে না।

প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস
Organisation for Economic Co-operation and Development সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪.৮ শতাংশ করেছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।

ঋণমান সংস্থার উদ্বেগ
মুডিস ও ফিচের মতো আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছে। তবে বক্রির মতে, এসব মূল্যায়ন যুদ্ধের আগে করা হয়েছিল, এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং ঘাটতি বাড়ানো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।

Indonesian business lobby calls for higher deficit cap during energy crisis  - Nikkei Asia

সরকারের সতর্ক অবস্থান
প্রাবোও সুবিয়ান্তো সরকারের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে ধীর হলেও বক্রি এটিকে ‘পরিমিত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ২৮ কোটি মানুষের দেশে আতঙ্ক না ছড়িয়ে শান্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, ফিলিপাইন ইতোমধ্যে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং ভিয়েতনাম জ্বালানি কর কমিয়েছে। সেখানে ইন্দোনেশিয়া এখনও বড় কোনো ঘোষণা দেয়নি, শুধু কিছু মন্ত্রণালয়ের ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ সংকট
ইন্দোনেশিয়া তার মোট তেলের এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। কিন্তু ইরানের কারণে ওই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়েছে। বর্তমানে দেশটির হাতে ৩০ দিনেরও কম তেলের মজুত রয়েছে।

বিকল্প উৎসের খোঁজ
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন বক্রি। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
এই সংকটকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে বিনিয়োগ বাড়ালে ভবিষ্যতে এমন ধাক্কা মোকাবিলা করা সহজ হবে।

বক্রির ভাষায়, বাস্তবতা এখন সবার সামনে স্পষ্ট—এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই জ্বালানি খাতে এগিয়ে যেতে হবে।