মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বাংলাদেশ সরকার নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, অন্যদিকে নরওয়ে ও অস্ট্রেলিয়া নাগরিকদের স্বস্তি দিতে জ্বালানি কর কমিয়েছে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশ
বাংলাদেশ সরকার সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, অফিসে প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত আলো, পাখা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। কর্মীদের অফিস ত্যাগের সময় সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে বলা হয়েছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা—বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে প্রায় ৯৫ শতাংশ—বাংলাদেশকে এই সংকটে বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে।
এর আগে সরকার জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি কেনায় সীমা নির্ধারণ, অধিকাংশ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে নজরদারি বাড়ানো।
বিশ্বে জ্বালানি কর কমানোর প্রবণতা
বাংলাদেশের পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোও বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে কর কমানোর পথে হাঁটছে। নরওয়ে সরকার জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমাবে। এপ্রিলের শুরু থেকে পেট্রোলে প্রতি লিটারে ৪.৪১ ক্রোনার এবং ডিজেলে ২.৮৫ ক্রোনার পর্যন্ত কর কমানো হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেশটির পার্লামেন্ট অনুমোদন দিয়েছে, যদিও সরকার নিজেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল।
অস্ট্রেলিয়াও একই পথে হেঁটেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, পেট্রোলের ওপর আরোপিত কর তিন মাসের জন্য অর্ধেক করা হবে, যাতে সাধারণ ভোক্তারা বাড়তি দামের চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পান।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যাগের বিক্রি হঠাৎ বেড়ে গেছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে ইরানে সাম্প্রতিক হামলায় বিদ্যুৎ গ্রিড ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার জানিয়েছে, তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















