মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যুদ্ধ ‘শেষ করার’ ব্যাপারে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আগের দিন তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরান যুদ্ধবিরতি চেয়েছে। তেহরান সেই দাবিকে সরাসরি মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধ থামানোর কথা, বোমা থামছে না

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৩তম দিনে এসেও ইরানজুড়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসফাহান ও ফারোখশাহরের ইস্পাত কারখানা এবং ওষুধ শিল্পের স্থাপনাগুলো এবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তেহরানে টোফিক দারু নামক একটি ওষুধ কোম্পানির গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী একে জাতীয় চিকিৎসা সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর মারাত্মক আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন।
মৃত্যু, কূটনীতি ও বিভ্রান্তি
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওষুধ কারখানাসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালি মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার বিষয়ে ৩৫টি দেশের একটি বৈঠক আয়োজন করতে যাচ্ছে। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ পুনরায় চালুসহ একটি পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আলোচনা নেই, বিশ্বাস শূন্য
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি আল জাজিরাকে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বার্তা বিনিময় হচ্ছে, কিন্তু কোনো আলোচনা নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের আস্থা ‘শূন্য’। ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি ছাড়াও যুদ্ধ শেষ হতে পারে, তবে হরমুজ প্রণালী খোলা না হলে তিনি পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন কোনো সংজ্ঞায়িত শেষ রেখা ছাড়াই চলছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















