০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়ে জাপানের করণীয়: শুধু ওয়াশিংটনের বিরোধিতা যথেষ্ট নয় শোকের মাসের শেষ দিন: এবার বাঙালির বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন সাধারণের প্রাণে প্রাণে হাসিনা ফ্যাক্টর নয়, আসল ঝুঁকি বিদ্যুৎ-গ্যাসে চীন, পাকিস্তান ও আমেরিকার অভিজ্ঞতা ভারতের জন্য যে সতর্কবার্তা ‘ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’ সাইপ্রাস উপকূলে ২৬৭ আরোহী নিয়ে ফেরি ডুবি, নিহত ৭; নিখোঁজ ২৩ জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেন হুমায়ুন কবির রুমিন ফারহানার ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি সারোয়ার তুষারের কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৩ বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের প্রাসঙ্গিকতা কি কমছে?

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তি পুরোপুরি মানা না হলে ইরানের চারপাশেই থাকবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক চাপ কমছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন জাহাজ, যুদ্ধবিমান, সেনাসদস্য এবং অতিরিক্ত অস্ত্রসজ্জা ইরানের আশপাশেই মোতায়েন থাকবে। তিনি আরও সতর্ক করে দিয়েছেন, তেহরান চুক্তির শর্ত না মানলে আবারও সামরিক হামলা শুরু হতে পারে।

ট্রাম্প বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব জাহাজ, বিমান এবং সামরিক সদস্য অতিরিক্ত গোলাবারুদ ও অস্ত্রসহ অবস্থানে থাকবে, যতক্ষণ না ‘প্রকৃত চুক্তি’ পুরোপুরি মানা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি আরও বড়, আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপের দিকে যেতে পারে।

এই মুহূর্তে' ইউরোপীয়দের সঙ্গে পারমাণু আলোচনা নয় : ইরান | আন্তর্জাতিক |  বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

অন্যদিকে, একই দিনে ইরান জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়া ‘অযৌক্তিক’। তাদের এই অবস্থানের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে লেবাননে ইসরায়েলের তীব্র হামলা। ইরানের মতে, এ ধরনের আঞ্চলিক হামলার মধ্যে শান্তি আলোচনা বাস্তবসম্মত নয়।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থানে স্পষ্ট অমিল দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে রাজি হয়েছে। কিন্তু ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে পারবে। এই ভিন্ন ব্যাখ্যা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির পরও মূল বিরোধের জায়গাগুলো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও ট্রাম্প জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়—এটাই বহু আগেই সম্মত হওয়া কথা, এবং হরমুজ প্রণালি খোলা ও নিরাপদ রাখতে হবে। এই বার্তায় স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র শুধু যুদ্ধবিরতিতে থামতে চাইছে না; তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নৌপথ—দুই ক্ষেত্রেই কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে চায়।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো ভঙ্গুর। একদিকে যুদ্ধবিরতির কাঠামো রয়েছে, অন্যদিকে চুক্তির ভাষা, পরমাণু কার্যক্রম, লেবাননে হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এসব প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান অনেক দূরে। তাই আপাত বিরতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা যে এখনো পুরোপুরি কমেনি, ট্রাম্পের বক্তব্যে সেটিই নতুন করে স্পষ্ট হলো।

US and Iran give conflicting messages on talks after Trump postpones  threatened bombing of power grid - as it happened | Reuters
জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়ে জাপানের করণীয়: শুধু ওয়াশিংটনের বিরোধিতা যথেষ্ট নয়

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তি পুরোপুরি মানা না হলে ইরানের চারপাশেই থাকবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

০২:০১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক চাপ কমছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন জাহাজ, যুদ্ধবিমান, সেনাসদস্য এবং অতিরিক্ত অস্ত্রসজ্জা ইরানের আশপাশেই মোতায়েন থাকবে। তিনি আরও সতর্ক করে দিয়েছেন, তেহরান চুক্তির শর্ত না মানলে আবারও সামরিক হামলা শুরু হতে পারে।

ট্রাম্প বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব জাহাজ, বিমান এবং সামরিক সদস্য অতিরিক্ত গোলাবারুদ ও অস্ত্রসহ অবস্থানে থাকবে, যতক্ষণ না ‘প্রকৃত চুক্তি’ পুরোপুরি মানা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি আরও বড়, আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপের দিকে যেতে পারে।

এই মুহূর্তে' ইউরোপীয়দের সঙ্গে পারমাণু আলোচনা নয় : ইরান | আন্তর্জাতিক |  বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

অন্যদিকে, একই দিনে ইরান জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়া ‘অযৌক্তিক’। তাদের এই অবস্থানের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে লেবাননে ইসরায়েলের তীব্র হামলা। ইরানের মতে, এ ধরনের আঞ্চলিক হামলার মধ্যে শান্তি আলোচনা বাস্তবসম্মত নয়।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থানে স্পষ্ট অমিল দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে রাজি হয়েছে। কিন্তু ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে পারবে। এই ভিন্ন ব্যাখ্যা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির পরও মূল বিরোধের জায়গাগুলো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও ট্রাম্প জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়—এটাই বহু আগেই সম্মত হওয়া কথা, এবং হরমুজ প্রণালি খোলা ও নিরাপদ রাখতে হবে। এই বার্তায় স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র শুধু যুদ্ধবিরতিতে থামতে চাইছে না; তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নৌপথ—দুই ক্ষেত্রেই কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে চায়।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো ভঙ্গুর। একদিকে যুদ্ধবিরতির কাঠামো রয়েছে, অন্যদিকে চুক্তির ভাষা, পরমাণু কার্যক্রম, লেবাননে হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এসব প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান অনেক দূরে। তাই আপাত বিরতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা যে এখনো পুরোপুরি কমেনি, ট্রাম্পের বক্তব্যে সেটিই নতুন করে স্পষ্ট হলো।

US and Iran give conflicting messages on talks after Trump postpones  threatened bombing of power grid - as it happened | Reuters