লেবানন বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক পালনে প্রবেশ করে। এর একদিন আগে দেশজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় যুদ্ধের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি তৈরি হয়। হিজবুল্লাহকে ঘিরে চলমান এই সংঘাতে বুধবারের হামলা পরিস্থিতিকে নতুন করে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
মৃত্যু ও ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৮২ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও প্রায় ৯০০ জন। হামলা চলে রাজধানী বৈরুতসহ দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায়। অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় পরিসরের হামলা দেশজুড়ে আতঙ্ক, শোক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।
হঠাৎ তীব্র হয়ে ওঠা সংঘাত
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তারা ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায়। এই আক্রমণকে চলমান সংঘাতের বড় ধরনের তীব্রতা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আওতার বাইরে থাকবে লেবানন। সেই ঘোষণার পরপরই হামলার মাত্রা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।

বৈরুতের ব্যস্ত এলাকাগুলোতে আঘাত
বৈরুতের কয়েকটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা আছড়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর শহরের আকাশে কালো, তীব্র ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। বহু আবাসিক ভবন ধসে পড়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে শুরু হয় মরিয়া চেষ্টা। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া এবং নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে মানুষের ছোটাছুটি শহরজুড়ে এক করুণ দৃশ্য তৈরি করে।
স্বজনের খোঁজে এক মায়ের আকুতি
বুধবার সন্ধ্যায় ৫০ বছর বয়সী হানিয়া ফারাজকে দেখা যায় বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের বাইরে। তিনি খুঁজছিলেন এক স্বজনকে, যিনি মধ্য বৈরুতের মাজরা এলাকায় একটি কফিশপে ছিলেন, ঠিক যেখানে হামলা হয়েছিল।
ভেঙে পড়া কণ্ঠে তিনি বলেন, ওই হামলায় তার নয়জন আত্মীয় আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন তার দুই চাচা, তাদের স্ত্রীরা এবং তার ছেলে। তিনি আরও বলেন, পরিবারের সবার সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় তিনি প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

শোক, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার লেবানন
বুধবারের হামলা শুধু প্রাণহানি বাড়ায়নি, লেবাননের মানুষের মনে নতুন করে গভীর ভয় ও অনিশ্চয়তাও তৈরি করেছে। জাতীয় শোকের এই সময়ে দেশটি একদিকে মৃতদের জন্য শোক জানাচ্ছে, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে, হাসপাতালের করিডরে এবং শহরের রাস্তায় ছড়িয়ে আছে যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা। লেবাননের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই সংঘাত আর কত দূর গড়াবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















