দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পরই আবার অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা, ফলে তাদের পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, অসম্পূর্ণ চিকিৎসা ও যথাযথ পরবর্তী যত্নের অভাবেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।
হাসপাতাল থেকে বাড়ি, তারপর আবার ভর্তি
রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক শিশুই দ্বিতীয়বার চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে। সাত মাস বয়সী এক শিশুকে নিয়ে তার মা জানান, প্রথমে হালকা লক্ষণ থাকায় কয়েক দিনের চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা শিশুটি এখন এতটাই দুর্বল যে স্বাভাবিকভাবে খেতেও পারছে না।
একই ধরনের পরিস্থিতি অন্য হাসপাতালগুলোতেও দেখা যাচ্ছে। একাধিক হাসপাতালে ঘুরে অবশেষে ভর্তি হওয়া এক শিশুর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, প্রথমে সুস্থ হয়ে বাড়ি গেলেও পরে আবার নিউমোনিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।
হামের পর বাড়ছে জটিলতা
চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর কমে গেলেই রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া উচিত নয়। কারণ হামের সময় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে সহজেই নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণ দেখা দেয়। এমনকি চোখের জটিলতা তৈরি হয়ে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে।
হামের সময় অনেক শিশুর মুখে ঘা হয়, যার কারণে তারা ঠিকমতো খেতে পারে না। এতে করে পুষ্টিহীনতা বাড়ে এবং শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এই সময়ে শিশুকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার এবং মায়ের দুধ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয়বার হাম নয়, তবে ঝুঁকি থেকেই যায়
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একবার হাম হলে সাধারণত দ্বিতীয়বার সংক্রমণ হয় না। তবে এই রোগ শরীরকে এতটাই দুর্বল করে দেয় যে অন্য ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া সহজেই আক্রমণ করতে পারে। অনেক সময় শরীরে দেখা দেওয়া র্যাশ বা দানাও অন্য কারণে হতে পারে, যা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পরিসংখ্যানে উদ্বেগজনক চিত্র
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে দেশে হাজার হাজার সম্ভাব্য হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিদিনই নতুন করে রোগী বাড়ছে, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়েছে। বড় হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে, এবং গুরুতর রোগীদের আইসিইউতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
সমাধানের পথ কী
চিকিৎসকদের মতে, হামের চিকিৎসা সম্পূর্ণ করা এবং সুস্থ হওয়ার পর শিশুর যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার, পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
হামের এই পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়ানো এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
হামের সংক্রমণ বাড়ায় উদ্বেগ, সুস্থ হওয়ার পরও শিশুদের পুনরায় অসুস্থ হওয়ার ঘটনা বাড়ছে—চিকিৎসা ও যত্নে ঘাটতি বড় কারণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















