০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ রাশিয়ায় নোবেলজয়ী মানবাধিকার সংগঠন ‘মেমোরিয়াল’কে ‘চরমপন্থী’ ঘোষণা “চাবিটি হারিয়ে গেছে” হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি কৌশলগত চাপ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সামনে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম পোপাইসের বেইজিংয়ে প্রত্যাবর্তন, ২৪ বছর পর নতুন করে চীনা বাজারে জোরালো উপস্থিতি ট্রাম্পের ‘আনুগত্য পরীক্ষা’ কি ন্যাটোর ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে? কুষ্টিয়ার স্কুলে অচেতন অবস্থায় ছাত্রী উদ্ধার, যৌন নির্যাতনের আশঙ্কা শি–চেং বৈঠকে নতুন সমীকরণ, তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত

নতুন চ্যালেঞ্জ: মার্কিন ‘সুপার হারকিউলিস’-কে ছাড়িয়ে যেতে চীনের ওয়াই-৩০

চীন তাদের নতুন প্রজন্মের মাঝারি সক্ষমতার সামরিক পরিবহন বিমান ওয়াই-৩০ নিয়ে বড় ধরনের দাবি তুলেছে। দেশটির এক সামরিক সাময়িকীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সি-১৩০জে ‘সুপার হারকিউলিস’-কে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রথম উড্ডয়ন ও নির্মাণ

চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ প্রযুক্তির এই বিমানটি ওয়াই-৩০ বা ওয়াই-১৫ নামেও পরিচিত। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করে। বিমানটি তৈরি করেছে শানসি এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন, যা চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা সংস্থা এভিয়েশান ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়নার অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এগিয়ে থাকার দাবি

চীনের বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘এরোস্পেস নলেজ’ সাময়িকীতে বলা হয়েছে, এই নতুন ‘মিডিয়াম-লিফট ট্রান্সপোর্টার’—যাকে চীনা ভাষায় ‘সিন ঝং ইউন’ বলা হয়—মার্কিন সি-১৩০জে বিমানের তুলনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এগিয়ে।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, ইঞ্জিন শক্তি, বহনক্ষমতা, কাঠামোগত নকশা ও উপকরণ, আধুনিক অ্যাভিওনিক্স এবং ফ্লাইট কন্ট্রোল সফটওয়্যারের মতো দিকগুলোতে ওয়াই-৩০ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত।

মার্কিন সি-১৩০জে: অভিজ্ঞতার শক্তি

সি-১৩০জে ‘সুপার হারকিউলিস’ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা কৌশলগত পরিবহন বিমান হিসেবে পরিচিত। এর উৎপত্তি ১৯৫০-এর দশকে শুরু হলেও ১৯৯০-এর দশকে উন্নত সংস্করণ হিসেবে সি-১৩০জে তৈরি হয়।

সম্প্রতি ইরানে ভূপাতিত এক পাইলটকে উদ্ধারের মার্কিন অভিযানে এই বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা এর বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

তুলনায় কোথায় এগিয়ে, কোথায় পিছিয়ে

যদিও চীনের দাবি অনুযায়ী ওয়াই-৩০ অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে, তবুও সি-১৩০জে এখনো কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে এর কার্যক্ষমতার পরিসর বা অপারেশনাল রেঞ্জ কিছুটা বেশি। এছাড়া বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হওয়ায় এই বিমানের বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্করণও তৈরি হয়েছে, যা একে আরও বহুমুখী করে তুলেছে।

সামরিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াই-৩০-এর উন্নয়ন চীনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কৌশলগত ক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা

নতুন চ্যালেঞ্জ: মার্কিন ‘সুপার হারকিউলিস’-কে ছাড়িয়ে যেতে চীনের ওয়াই-৩০

০৮:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

চীন তাদের নতুন প্রজন্মের মাঝারি সক্ষমতার সামরিক পরিবহন বিমান ওয়াই-৩০ নিয়ে বড় ধরনের দাবি তুলেছে। দেশটির এক সামরিক সাময়িকীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সি-১৩০জে ‘সুপার হারকিউলিস’-কে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রথম উড্ডয়ন ও নির্মাণ

চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ প্রযুক্তির এই বিমানটি ওয়াই-৩০ বা ওয়াই-১৫ নামেও পরিচিত। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করে। বিমানটি তৈরি করেছে শানসি এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন, যা চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা সংস্থা এভিয়েশান ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়নার অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এগিয়ে থাকার দাবি

চীনের বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘এরোস্পেস নলেজ’ সাময়িকীতে বলা হয়েছে, এই নতুন ‘মিডিয়াম-লিফট ট্রান্সপোর্টার’—যাকে চীনা ভাষায় ‘সিন ঝং ইউন’ বলা হয়—মার্কিন সি-১৩০জে বিমানের তুলনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এগিয়ে।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, ইঞ্জিন শক্তি, বহনক্ষমতা, কাঠামোগত নকশা ও উপকরণ, আধুনিক অ্যাভিওনিক্স এবং ফ্লাইট কন্ট্রোল সফটওয়্যারের মতো দিকগুলোতে ওয়াই-৩০ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত।

মার্কিন সি-১৩০জে: অভিজ্ঞতার শক্তি

সি-১৩০জে ‘সুপার হারকিউলিস’ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা কৌশলগত পরিবহন বিমান হিসেবে পরিচিত। এর উৎপত্তি ১৯৫০-এর দশকে শুরু হলেও ১৯৯০-এর দশকে উন্নত সংস্করণ হিসেবে সি-১৩০জে তৈরি হয়।

সম্প্রতি ইরানে ভূপাতিত এক পাইলটকে উদ্ধারের মার্কিন অভিযানে এই বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা এর বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

তুলনায় কোথায় এগিয়ে, কোথায় পিছিয়ে

যদিও চীনের দাবি অনুযায়ী ওয়াই-৩০ অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে, তবুও সি-১৩০জে এখনো কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে এর কার্যক্ষমতার পরিসর বা অপারেশনাল রেঞ্জ কিছুটা বেশি। এছাড়া বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হওয়ায় এই বিমানের বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্করণও তৈরি হয়েছে, যা একে আরও বহুমুখী করে তুলেছে।

সামরিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াই-৩০-এর উন্নয়ন চীনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কৌশলগত ক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।