রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট এক গোপন শুনানিতে নোবেলজয়ী মানবাধিকার সংগঠন ‘মেমোরিয়াল’-কে ‘চরমপন্থী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টাস এ তথ্য জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর দমননীতির সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইনি পদক্ষেপের সুযোগ তৈরি
এই রায়ের ফলে এখন থেকে মেমোরিয়ালের সঙ্গে যুক্ত থাকা, তাদের কাজে সহযোগিতা করা বা তাদের প্রকাশিত কোনো তথ্য শেয়ার করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। অর্থাৎ, সংগঠনটির সঙ্গে ন্যূনতম যোগাযোগও আইনি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
রায় ঘোষণার আগেই মেমোরিয়াল জানায়, তারা ফলাফল নিয়ে কোনো সন্দেহে ছিল না। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলে, এই মামলা মূলত দেশে ভিন্নমত দমনের আরেকটি প্রচেষ্টা, যার উদ্দেশ্য নাগরিক সমাজকে নীরব করে দেওয়া।
ইতিহাস ও ভূমিকা
১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠিত মেমোরিয়াল সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়কার রাজনৈতিক নিপীড়নের তথ্য সংরক্ষণে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করার কাজ চালিয়ে যায়।

সংগঠনটি সোভিয়েত শাসক জোসেফ স্টালিনের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরেছে।
আগের নিষেধাজ্ঞা ও বর্তমান অবস্থা
২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর কিছুদিন আগে, দেশটির কর্তৃপক্ষ মেমোরিয়ালের দুটি প্রধান সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে। তখন তাদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থাকে সমর্থন’ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা মেমোরিয়াল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে।
নিষেধাজ্ঞার পরও সংগঠনটি রাশিয়ার বাইরে থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, বর্তমানে দেশে ১,৫০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে তারা সহায়তা করছে।
সরকারের অবস্থান
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়া তার আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের আইনি কাঠামোর অংশ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু একটি সংগঠনকে লক্ষ্য করে নয়, বরং দেশের ভিন্নমত ও মানবাধিকার কার্যক্রমের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে।
Sarakhon Report 


















