১০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ রাশিয়ায় নোবেলজয়ী মানবাধিকার সংগঠন ‘মেমোরিয়াল’কে ‘চরমপন্থী’ ঘোষণা “চাবিটি হারিয়ে গেছে” হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি কৌশলগত চাপ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সামনে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম পোপাইসের বেইজিংয়ে প্রত্যাবর্তন, ২৪ বছর পর নতুন করে চীনা বাজারে জোরালো উপস্থিতি ট্রাম্পের ‘আনুগত্য পরীক্ষা’ কি ন্যাটোর ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে? কুষ্টিয়ার স্কুলে অচেতন অবস্থায় ছাত্রী উদ্ধার, যৌন নির্যাতনের আশঙ্কা শি–চেং বৈঠকে নতুন সমীকরণ, তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত

মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিধানসভা আসনে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিচার প্রক্রিয়ার পর ব্যাপক সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই বাদ পড়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে মুসলিম-প্রধান সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদ ও মালদায়।

কোথায় কত নাম বাদ পড়েছে
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মোট ৬০ লাখ ৬ হাজার নাম যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৭ লাখ ১৬ হাজার নাম, অর্থাৎ প্রায় ৪৫.২২ শতাংশ বাদ পড়েছে। সর্বোচ্চ নাম বাদ পড়া শীর্ষ ১০টি আসন বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়া আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, যেখানে প্রায় ৭৪ হাজার ৭৭৫ জন ভোটারের নাম বাদ গেছে, যা ওই আসনের মোট ভোটারের প্রায় ২৯.৫৭ শতাংশ। এছাড়া লালগোলা, ভগবানগোলা, রঘুনাথগঞ্জ, ফরাক্কা, সুতি ও জঙ্গিপুরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মেটিয়াবুরুজ এবং মালদার মোথাবাড়ি ও রতুয়াতেও বড় সংখ্যায় ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা হয়েছে।

প্রবণতার ধারাবাহিকতা
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপেই সংখ্যালঘু, মতুয়া এবং হিন্দিভাষী এলাকাগুলোতে বেশি নাম বাদ পড়েছিল। বিচার প্রক্রিয়ার সময়ও একই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

কত আসনে বড় প্রভাব
তথ্য অনুযায়ী, ১২টি বিধানসভা আসনে ৩০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি ও গোলপোখরে যথাক্রমে ৩১ হাজার ৫৬২ এবং ৩১ হাজার ৩৮৪টি নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া ৯৯টি আসনে ১০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম কাটা হয়েছে।

সংখ্যালঘু ও মতুয়া এলাকায় বেশি প্রভাব
কলকাতার কাছে রাজারহাট-নিউ টাউন, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, গাইঘাটা, রানাঘাট দক্ষিণ, হাবরা ও মধ্যমগ্রামের মতো এলাকায়, যেখানে মতুয়া ও মুসলিম ভোটারের সংখ্যা বেশি, সেখানেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে।

আদিবাসী অঞ্চলে কম প্রভাব
অন্যদিকে, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এই প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক কম। পুরুলিয়ার মানবাজার আসনে মাত্র ৭১টি এবং বাঁকুড়ার ওন্দা আসনে ১১৪টি নাম বাদ পড়েছে।

প্রতিবাদ ও সংঘর্ষ
এই ব্যাপক নাম বাদ পড়াকে ঘিরে মালদায় জাতীয় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়। মোথাবাড়ি এলাকায় বিক্ষোভকারীরা বিডিও অফিস ঘেরাও করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। বিক্ষোভের সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপে দুই কনস্টেবল আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

সামগ্রিকভাবে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

জনপ্রিয় সংবাদ

চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা

মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ

০৮:৫২:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিধানসভা আসনে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিচার প্রক্রিয়ার পর ব্যাপক সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই বাদ পড়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে মুসলিম-প্রধান সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদ ও মালদায়।

কোথায় কত নাম বাদ পড়েছে
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মোট ৬০ লাখ ৬ হাজার নাম যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৭ লাখ ১৬ হাজার নাম, অর্থাৎ প্রায় ৪৫.২২ শতাংশ বাদ পড়েছে। সর্বোচ্চ নাম বাদ পড়া শীর্ষ ১০টি আসন বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়া আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, যেখানে প্রায় ৭৪ হাজার ৭৭৫ জন ভোটারের নাম বাদ গেছে, যা ওই আসনের মোট ভোটারের প্রায় ২৯.৫৭ শতাংশ। এছাড়া লালগোলা, ভগবানগোলা, রঘুনাথগঞ্জ, ফরাক্কা, সুতি ও জঙ্গিপুরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মেটিয়াবুরুজ এবং মালদার মোথাবাড়ি ও রতুয়াতেও বড় সংখ্যায় ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা হয়েছে।

প্রবণতার ধারাবাহিকতা
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপেই সংখ্যালঘু, মতুয়া এবং হিন্দিভাষী এলাকাগুলোতে বেশি নাম বাদ পড়েছিল। বিচার প্রক্রিয়ার সময়ও একই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

কত আসনে বড় প্রভাব
তথ্য অনুযায়ী, ১২টি বিধানসভা আসনে ৩০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি ও গোলপোখরে যথাক্রমে ৩১ হাজার ৫৬২ এবং ৩১ হাজার ৩৮৪টি নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া ৯৯টি আসনে ১০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম কাটা হয়েছে।

সংখ্যালঘু ও মতুয়া এলাকায় বেশি প্রভাব
কলকাতার কাছে রাজারহাট-নিউ টাউন, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, গাইঘাটা, রানাঘাট দক্ষিণ, হাবরা ও মধ্যমগ্রামের মতো এলাকায়, যেখানে মতুয়া ও মুসলিম ভোটারের সংখ্যা বেশি, সেখানেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে।

আদিবাসী অঞ্চলে কম প্রভাব
অন্যদিকে, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এই প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক কম। পুরুলিয়ার মানবাজার আসনে মাত্র ৭১টি এবং বাঁকুড়ার ওন্দা আসনে ১১৪টি নাম বাদ পড়েছে।

প্রতিবাদ ও সংঘর্ষ
এই ব্যাপক নাম বাদ পড়াকে ঘিরে মালদায় জাতীয় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়। মোথাবাড়ি এলাকায় বিক্ষোভকারীরা বিডিও অফিস ঘেরাও করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। বিক্ষোভের সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপে দুই কনস্টেবল আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

সামগ্রিকভাবে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস