হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পোস্টের জবাবে ইরানের একটি দূতাবাসের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য—“চাবিটি হারিয়ে গেছে”—দ্রুত ভাইরাল হয়। এই এক লাইনের উত্তরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও ইরান এখন কৌশলগতভাবে সক্রিয়।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিদ্রূপ
ইস্টার রবিবার ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার আহ্বান জানান। এর জবাবে জিম্বাবুয়েতে ইরানের দূতাবাস ব্যঙ্গ করে জানায়, “চাবিটি হারিয়ে গেছে।” সংক্ষিপ্ত হলেও এই মন্তব্য আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা প্রচারণা
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের দূতাবাসগুলো সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের পোস্টগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের সরব উপস্থিতির জবাব দিচ্ছে একই ধরনের ভাষা ও ভঙ্গিতে।

আফ্রিকায় সক্রিয়তা বেশি
আফ্রিকার দেশগুলোতে ইরানের এই অনলাইন কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত দূতাবাস বিশেষভাবে আলোচিত।
একটি পোস্টে তারা লিখেছে, “নতুন বিশ্ব পরাশক্তিকে স্বাগত জানান।” এতে বোঝানো হয়, শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দমাতে ব্যর্থ হয়েছে।
আরেকটি পোস্টে শান্তির প্রতীক কবুতরের সঙ্গে যুদ্ধবিমানের ছায়া দেখিয়ে ট্রাম্পের শান্তির দাবিকে বিদ্রূপ করা হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষ ভূমিকা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এমন দেশগুলোতে বেশি সক্রিয়, যেখানে স্থানীয় সরকার থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম এবং জনসমর্থন পাওয়ার সুযোগ বেশি।
দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ইরানের উষ্ণ সম্পর্ক এই কৌশল বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ আফ্রিকা টানাপোড়েন
ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলেছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা বরাবরই তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং নিরপেক্ষ কূটনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে।
এআই ব্যবহার করে আবেগ তৈরি
সব পোস্টই ব্যঙ্গাত্মক নয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের দূতাবাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যুদ্ধের সময় নিহত শিশুদের নিয়ে আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করেছে। এসব ভিডিওতে শিশুদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন তুলে ধরা হয়।
তথ্যযুদ্ধের নতুন ধারা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন সামাজিক মাধ্যমের ভাষা ব্যবহার করে তথ্যযুদ্ধ চালাচ্ছে। এর লক্ষ্য নিজেদের ভাবমূর্তি উন্নত করা এবং এমন তরুণ প্রজন্মকে প্রভাবিত করা, যারা অনলাইন প্রবণতার প্রতি সংবেদনশীল কিন্তু ইরানের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে কম জানে।
বর্তমান সংঘাতে শুধু সামরিক শক্তিই নয়, সামাজিক মাধ্যমও বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। “চাবিটি হারিয়ে গেছে” মন্তব্যটি সেই নতুন বাস্তবতারই প্রতীক।
Sarakhon Report 


















