পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে। তিনি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘নির্মম সরকার’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, রাজ্যে পরিবর্তনের ঝড় বইছে এবং খুব শিগগিরই তার প্রতিফলন দেখা যাবে নির্বাচনে।
হলদিয়ায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, এবার তা পুরো রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, নন্দীগ্রামের মতোই ভুবনেশ্বরেও এক ধরনের ‘অলৌকিক পরিবর্তন’ ঘটবে এবং এর মধ্য দিয়েই বাংলার গৌরব ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি হবে।
রাজ্যের অগ্রগতি থমকে গেছে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন গোটা দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে পড়ছে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের শাসনে অপরাধী ও দুষ্কৃতকারীরা শক্তিশালী হয়েছে, আর সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি আরও দাবি করেন, এই সরকারের রাজনীতি ভয়ভিত্তিক এবং প্রশাসনে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থা গভীরভাবে প্রোথিত।
একসময় শিল্প ও বাণিজ্যে সমৃদ্ধ হলদিয়া এখন পিছিয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে যেখানে সারা দেশ থেকে মানুষ কাজের খোঁজে আসত, এখন এখানকার যুবকদের অন্য রাজ্যে যেতে হচ্ছে জীবিকার জন্য।
কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা
মোদির অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের কেন্দ্রবিরোধী মনোভাবের কারণে রাজ্য অনেক কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, যদি কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদে বাংলা স্বনির্ভর হতে পারে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন
নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ বেড়েছে এবং অপরাধীদের শাস্তির হার কমেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় এলে আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে এবং দুর্নীতি ও অপরাধের পুরনো মামলাগুলো পুনরায় খোলা হবে।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে অবনতি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় দেশের অর্থনীতিতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য, কিন্তু এখন তা অনেক কমে গেছে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শাসনের ব্যর্থতায় রাজ্যের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, আর সাধারণ মানুষ দরিদ্র হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একসময় আসানসোল ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল হিসেবে সমৃদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন সেখানে শিল্প কার্যক্রম কমে গেছে এবং যুবকদের অন্যত্র কাজ খুঁজতে হচ্ছে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক পরিবেশ
মোদির অভিযোগ, রাজ্যে ধর্মীয় কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং কিছু এলাকায় মানুষের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, ভোটের সময় সহিংসতা ও ভোট দখলের মতো ঘটনাও ঘটছে, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।
সহিংসতা ও ‘জঙ্গল রাজ’ প্রসঙ্গ
বীরভূমের সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব ঘটনা শুধু অপরাধ নয়, মানবতার বিরুদ্ধে কলঙ্ক। তাঁর ভাষায়, এই পরিস্থিতি ‘জঙ্গল রাজ’-এর প্রমাণ এবং এর অবসান প্রয়োজন।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও বাস্তবায়ন করা হবে এবং দুর্নীতি কমাতে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে।
নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা
আগামী নির্বাচনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। মোদি আশা প্রকাশ করেন, এবার মানুষ উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















