হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের মাত্র তিন সপ্তাহের জ্বালানি মজুদ আছে বলে জানা যাচ্ছে। গ্যাস সংকটে দেশের পাঁচটি সার কারখানা মার্চ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। ঢাকাসহ সারা দেশের পেট্রোল স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, আর জ্বালানির জন্য মারামারি-ছিনতাইয়ের ঘটনা এখন প্রায় প্রতিদিনের চিত্র।
পেট্রোল পাম্পে সহিংসতা
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নজমুল হক জানিয়েছেন, দেশের প্রায় তিন হাজার পেট্রোল স্টেশনে প্রতিদিন হামলার ঘটনা ঘটছে। জ্বালানির জন্য পাম্প ম্যানেজারদের মারধর, এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। রাত দুইটা-তিনটায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মরিয়া অবস্থার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঢাকার মোহাখালীর একটি হাসপাতালের আইসিইউতে মেয়ে ভর্তি থাকা এক বাবার পোস্ট ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে। তিনি লেখেন, রাত দেড়টা থেকে পেট্রোল স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, ভোর সাড়ে ছয়টায় পাঁচ লিটার পেলেন। লাইনে এত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে হেঁটে যাওয়ার শক্তিও ছিল না।
বিদ্যুৎ, সার ও কৃষি সংকট
বাংলাদেশের ১২ হাজার ২০৪ মেগাওয়াট গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার মধ্যে মাত্র প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ব্যবহার করা যাচ্ছে। ফলে সার কারখানার বদলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস দিতে হচ্ছে। পাঁচটি সার কারখানা বন্ধ থাকায় বোরো মৌসুমের চাষ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
সরকারের পদক্ষেপ
সরকার শপিং মল ও দোকানপাট বিকেল সাতটার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। হাইব্রিড শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে ঢাকার যানজট কমাতে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় স্বস্তির কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















