পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে সমান নাগরিক বিধি বা ইউসিসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ দেখা গেছে। শনিবার একাধিক জনসভায় দাঁড়িয়ে দুই নেতা একে অপরের অবস্থানকে সরাসরি আক্রমণ করেন, যা রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ইউসিসি নিয়ে বিজেপির প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী জানান, ক্ষমতায় এলে রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর করা হবে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে তোষণমূলক রাজনীতির অবসান ঘটানো সম্ভব হবে। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বহুদিন ধরে চলে আসা ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ জরুরি। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে ইউসিসি বাস্তবায়ন করা হবে।
জনসংখ্যা ও পরিচয় রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বারবার রাজ্যের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি এই নির্বাচনকে ‘পশ্চিমবঙ্গের পরিচয় রক্ষার লড়াই’ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, বাঙালিরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়ুক, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বার্তা
মতুয়া ও নামশূদ্র সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়েও তিনি আশ্বাস দেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত এই মানুষদের নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

তৃণমূলের কড়া বিরোধিতা
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইউসিসির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এই আইন পাশ করানো হলেও ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তা বাতিল করা হবে। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
বিভাজনের অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কেন্দ্র সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঝেই সীমা পুনর্বিন্যাস বিল আনা হয়েছে, যার পেছনে উদ্দেশ্য হলো রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি চালু করা।
রাজনৈতিক চাপ ও অভিযোগ
তৃণমূল নেত্রী আরও অভিযোগ করেন, তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করার জন্য মিথ্যা মামলা করার চেষ্টা হয়েছে। তবে দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি জানান।
জোরদার প্রচার অভিযান
ভোটের প্রথম দফা শুরু হতে আর দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকায় রাজ্যে প্রচার তুঙ্গে উঠেছে। বিভিন্ন জেলায় সভা করছেন শীর্ষ নেতারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও একাধিক জনসভায় বক্তব্য রাখেন।
তিনি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর অভিযোগ তুলে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা বন্ধ করা হবে এবং নারীদের ওপর অত্যাচারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার কৌশলকেও কটাক্ষ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















