নতুন প্রণীত ব্যাংক রেজোলিউশন আইন ২০২৬ পাঁচটি সংকটগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের প্রাক্তন মালিকদের জন্য ব্যাংক পুনরুদ্ধারের সুযোগ উন্মুক্ত করেছে। ১০ এপ্রিল সংসদে এই বিল পাস হওয়ার পর থেকে বিশেষজ্ঞ ও বিরোধী দলগুলো তীব্র সমালোচনা করে আসছে।
কী বলছে আইন?
আইনে বলা হয়েছে, প্রাক্তন মালিকরা সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া অর্থের মাত্র ৭.৫ শতাংশ আগাম পরিশোধ করলেই ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পেতে আবেদন করতে পারবেন। বাকি ৯২.৫ শতাংশ দুই বছরে ১০ শতাংশ সরল সুদে পরিশোধ করতে হবে।
কোন ব্যাংকগুলো আওতায়?
আইনটি মূলত পাঁচটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল আলম। এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নাজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। এই পাঁচটি ব্যাংক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একীভূত করার প্রক্রিয়ায় ছিল।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ: সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা ধ্বংস হয়েছে
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাংকিং সংস্কার টাস্কফোর্সের সদস্য জাহিদ হোসেন বলেছেন, এই আইন সংস্কার প্রচেষ্টার বিশ্বাসযোগ্যতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। তার মতে, প্রাক্তন মালিকরা সহজেই ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে ওই ৭.৫ শতাংশও পরিশোধ করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, একবার মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া হলে তা আর সহজে ফেরত নেওয়া যাবে না।
সংসদে বিরোধিতা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংসদরা সংসদে বিলের বিরোধিতা করেন। বিরোধীদলীয় সাংসদ সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ ২০২৫ কোটি কোটি মানুষের সঞ্চয়ের সুরক্ষা ঢাল ছিল। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এটিকে ‘বাজার সমাধান’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্র ইতোমধ্যে দুর্বল ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, যা আর টেকসই নয়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















