০৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে দিনাজপুর মেডিক্যালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, জরুরি সেবায় ব্যাঘাত আশা ভোঁসলের কণ্ঠে তেলুগু গানের স্মৃতি, সীমিত কাজেও অমর ছাপ স্যামসাং গ্যালাক্সি বাডস ৪ প্রো: প্রিমিয়াম ইয়ারবাডে নতুন মানদণ্ড, কিন্তু সবার জন্য নয় ছয় মাসে এক ইনজেকশনেই নিয়ন্ত্রণে উচ্চ রক্তচাপ, নতুন গবেষণায় আশার আলো চাঁদ ঘিরে বিশাল রিং নির্মাণের স্বপ্ন: জাপানি কোম্পানির সাহসী মহাকাশ পরিকল্পনা ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ভেঙে পড়ছে পেট্রোডলার ব্যবস্থা হাম আতঙ্কে দেশে নতুন ৭ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লাখ নাম বাদ, নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে সুপার এল নিনো সতর্কতা: ১৯৫০-এর পর মাত্র পাঁচবার, আবার কি আসছে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি? হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক নন: দিল্লিতে বার্তা দিলেন উপদেষ্টা হুমায়ুন

এক লাখ ডলারের ভিসা ফি: মার্কিন চাকরির বাজারে নতুন বাধা, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো চাপে

  • Sarakhon Report
  • ০৬:১৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • 12

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে নতুন করে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। সরকার নতুন করে এক লাখ ডলারের ভিসা ফি আরোপ করায় ছোট প্রতিষ্ঠান, অলাভজনক সংস্থা এবং গ্রামীণ হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের পথ থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে।

ছোট প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি চাপ

ম্যাসাচুসেটসের একটি অলাভজনক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগের ওপর নির্ভর করত। কিন্তু নতুন ফি আরোপের পর তারা আর সেই সুযোগ নিতে পারছে না। ফলে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে এবং নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়াও সীমিত হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, দেশের বিভিন্ন ছোট সংস্থা ও গ্রামীণ হাসপাতালের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বড় কোম্পানিগুলোর সুবিধা

বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ তারা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী বা কর্মীদের নিয়োগ দেয়, যাদের ক্ষেত্রে এই ফি প্রযোজ্য নয়। এছাড়া বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতাও বেশি, ফলে তারা এই বাড়তি খরচ বহন করতে পারছে।

ভিসা প্রোগ্রামে বড় পরিবর্তন

সরকারের এই পদক্ষেপ মূলত ভিসা প্রোগ্রামে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ। নতুন নিয়মে বেশি বেতন দেওয়া চাকরিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং বিদেশি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবও এসেছে।
সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে দেশীয় কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়বে এবং তাদের মজুরি সুরক্ষিত থাকবে।

What the $100K H-1B Fee Increase Means for SMB Hiring in 2025

চাহিদা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ নয়

নতুন ফি আরোপের পর ভিসার জন্য আবেদন কিছুটা কমেছে। অনেক আইনজীবী জানিয়েছেন, আবেদনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবুও পুরোপুরি চাহিদা বন্ধ হয়ে যায়নি, কারণ কিছু ক্ষেত্রে এই ফি প্রযোজ্য নয়।

স্বাস্থ্য খাতে সংকটের আশঙ্কা

বিশেষ করে গ্রামীণ হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। বিদেশি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ওপর নির্ভরশীল এসব প্রতিষ্ঠান এখন বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।
কিছু হাসপাতাল আবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগের জন্য এই বড় অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে অন্য খাতে খরচ কমাতে হচ্ছে।

ভিন্ন মতও আছে

কিছু উদ্যোক্তা মনে করছেন, এই উচ্চ ফি প্রতিযোগিতা কমাতে সাহায্য করবে। তাদের মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ বাড়বে।

সামগ্রিক প্রভাব

সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। বড় কোম্পানিগুলো সুবিধা পেলেও ছোট প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ভবিষ্যতে এই নীতির প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে দিনাজপুর মেডিক্যালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, জরুরি সেবায় ব্যাঘাত

এক লাখ ডলারের ভিসা ফি: মার্কিন চাকরির বাজারে নতুন বাধা, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো চাপে

০৬:১৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে নতুন করে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। সরকার নতুন করে এক লাখ ডলারের ভিসা ফি আরোপ করায় ছোট প্রতিষ্ঠান, অলাভজনক সংস্থা এবং গ্রামীণ হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের পথ থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে।

ছোট প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি চাপ

ম্যাসাচুসেটসের একটি অলাভজনক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগের ওপর নির্ভর করত। কিন্তু নতুন ফি আরোপের পর তারা আর সেই সুযোগ নিতে পারছে না। ফলে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে এবং নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়াও সীমিত হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, দেশের বিভিন্ন ছোট সংস্থা ও গ্রামীণ হাসপাতালের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বড় কোম্পানিগুলোর সুবিধা

বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ তারা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী বা কর্মীদের নিয়োগ দেয়, যাদের ক্ষেত্রে এই ফি প্রযোজ্য নয়। এছাড়া বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতাও বেশি, ফলে তারা এই বাড়তি খরচ বহন করতে পারছে।

ভিসা প্রোগ্রামে বড় পরিবর্তন

সরকারের এই পদক্ষেপ মূলত ভিসা প্রোগ্রামে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ। নতুন নিয়মে বেশি বেতন দেওয়া চাকরিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং বিদেশি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবও এসেছে।
সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে দেশীয় কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়বে এবং তাদের মজুরি সুরক্ষিত থাকবে।

What the $100K H-1B Fee Increase Means for SMB Hiring in 2025

চাহিদা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ নয়

নতুন ফি আরোপের পর ভিসার জন্য আবেদন কিছুটা কমেছে। অনেক আইনজীবী জানিয়েছেন, আবেদনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবুও পুরোপুরি চাহিদা বন্ধ হয়ে যায়নি, কারণ কিছু ক্ষেত্রে এই ফি প্রযোজ্য নয়।

স্বাস্থ্য খাতে সংকটের আশঙ্কা

বিশেষ করে গ্রামীণ হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। বিদেশি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ওপর নির্ভরশীল এসব প্রতিষ্ঠান এখন বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।
কিছু হাসপাতাল আবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগের জন্য এই বড় অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে অন্য খাতে খরচ কমাতে হচ্ছে।

ভিন্ন মতও আছে

কিছু উদ্যোক্তা মনে করছেন, এই উচ্চ ফি প্রতিযোগিতা কমাতে সাহায্য করবে। তাদের মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ বাড়বে।

সামগ্রিক প্রভাব

সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। বড় কোম্পানিগুলো সুবিধা পেলেও ছোট প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ভবিষ্যতে এই নীতির প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।