মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে গভীর নজর রাখছে জাপান। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যে চলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো হামলা হলে সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে।
জাপানের অবস্থান
জাপানের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ঘিরে পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা এবং অন্যান্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—সবকিছুই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, উত্তেজনা কমানো এবং প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে দ্রুত একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

অবরোধ পরিকল্পনা ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ বা প্রস্থানকারী সব জাহাজের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে প্রণালীতে মাইন পাতা নিয়ে অভিযোগ তুলে এটিকে “বিশ্বব্যাপী চাঁদাবাজি” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এসব মাইন ধ্বংসের অঙ্গীকার করেন।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেসব জাহাজ ইরানকে কোনো ধরনের অর্থ প্রদান করেছে, সেগুলোকে আটকানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, “অবৈধ টোল দিলে নিরাপদে চলাচল করা যাবে না।”
সামরিক বাস্তবায়ন ও সীমাবদ্ধতা
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, এই অবরোধ নিরপেক্ষভাবে কার্যকর করা হবে এবং ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী সব দেশের জাহাজের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে ইরানের বাইরে অন্যান্য বন্দরের সঙ্গে যাতায়াতকারী জাহাজের স্বাধীন চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।
ঘোষণা অনুযায়ী, জাপানের সময় অনুযায়ী সোমবার রাত থেকে এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা।
মিত্রদের নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মিত্রদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জাপান তাদের প্রায় ৯৩ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পায়, তবুও তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করছে না। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে তার দেওয়া কিছু তথ্য সঠিক নয় বলেও জানা গেছে। বাস্তবে জাপানে প্রায় ৫৫ হাজার এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

জাপানের সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য ভূমিকা
জাপানের সরকার জানিয়েছে, আত্মরক্ষা বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগেই স্পষ্ট করেছেন, জাপানের অভ্যন্তরীণ আইন ও সংবিধান অনুযায়ী তাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হলে হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে জাপানের সামুদ্রিক আত্মরক্ষা বাহিনী অংশ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বিশ্ব রাজনীতিতে বাড়ছে চাপ
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই অভিযানে অন্য দেশগুলোও যুক্ত হতে পারে, যদিও বিস্তারিত কিছু জানাননি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই প্রণালী থেকে মাইন অপসারণ শুরু করেছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য সহায়ক পদক্ষেপ।
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
জেসি জনসন 



















