ইরানের বন্দর অবরোধের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ন্যাটোর প্রধান মিত্র দেশগুলো। ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলো জানিয়ে দিয়েছে, তারা সরাসরি এই সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেবে না, বরং যুদ্ধ শেষ হলে কূটনৈতিক উপায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চায়।
অবরোধে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত
ছয় সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয়। তবে ন্যাটোর মিত্ররা এতে জড়াতে নারাজ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, চাপ থাকলেও তারা যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের টেনে নিতে চান না।
ইউরোপীয় দেশগুলোর এই অবস্থান ন্যাটোর ভেতরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাদের দূরত্ব আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন পরিকল্পনা
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো একটি ভিন্ন কৌশল নিয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তারা একটি বহুজাতিক মিশন গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছেন, যার লক্ষ্য হবে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। এই মিশন সরাসরি যুদ্ধের অংশ হবে না, বরং প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করবে।
কূটনীতির ওপর জোর
ন্যাটো নেতৃত্ব এবং ইউরোপীয় দেশগুলো স্পষ্ট করেছে, তারা সামরিক সংঘর্ষের বদলে কূটনৈতিক সমাধানকেই প্রাধান্য দিতে চায়। তাদের মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনাই একমাত্র পথ।

এই পরিকল্পনায় প্রায় ৩০টি দেশ অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ কখন বাস্তবায়ন হবে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর।
ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের একক পদক্ষেপে অবরোধ শুরু করার সিদ্ধান্ত ন্যাটোর ভেতরে চাপ তৈরি করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর অনাগ্রহ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু ইরান সংকট নয়, বরং ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ঐক্যকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















