০১:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নিয়ম: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই ফিরতে বলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

অভিভাবকদের ওপর বাড়তি চাপ: স্কুলের ‘অতিরিক্ত আয়োজন’ নিয়ে ক্লান্তির গল্প

স্কুলজীবনে শিশুদের আনন্দময় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে গিয়ে আজকের অনেক অভিভাবক যেন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতার মধ্যে আটকে পড়েছেন। বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান, বিশেষ দিবস, পোশাকের থিম, ক্লাসের বাইরে অতিরিক্ত কার্যক্রম—সবকিছু মিলিয়ে দায়িত্বের চাপ অনেকের কাছেই এখন প্রায় অসহনীয় হয়ে উঠছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এই প্রবণতার পেছনের বাস্তবতা ও মানসিক চাপের দিকটি উঠে এসেছে।

আয়োজনের চাপ, অভিভাবকদের ক্লান্তি

একজন অভিভাবকের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, স্কুলে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান—হ্যালোইন, ভ্যালেন্টাইনস ডে, জন্মদিন, ‘স্পিরিট ডে’—সবকিছুর জন্য প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। বসন্ত মৌসুমে এই চাপ আরও বাড়ে, কারণ বছরের শেষ দিকে একের পর এক অনুষ্ঠান থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের এমন সব কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়, যেগুলোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একই দিনে একাধিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা, শিশুদের জন্য বিশেষ খাবার বা পোশাকের ব্যবস্থা করা—এসব দায়িত্ব অনেক সময় বাস্তব জীবনের কাজ ও ব্যক্তিগত সময়ের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করে।

কানাইঘাটে অভিভাবক সমাবেশ - Kanaighat News

‘পারফেক্ট প্যারেন্টিং’-এর অদৃশ্য প্রতিযোগিতা

এই পরিস্থিতির পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে ‘পারফেক্ট প্যারেন্টিং’-এর সামাজিক চাপ। অন্য অভিভাবকদের দেখে অনেকেই মনে করেন, তাঁদেরও একইভাবে সক্রিয় ও সৃজনশীল হতে হবে। ফলে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে কম অংশগ্রহণ মানেই অপরাধবোধ।

এমনকি স্কুলের অনুষ্ঠানগুলোও ধীরে ধীরে বড় আকার নিচ্ছে—ছোটখাটো আয়োজন এখন পরিণত হচ্ছে পুরোদিনব্যাপী ইভেন্টে। এতে অভিভাবকদের সময়, অর্থ এবং মানসিক শক্তির ওপর চাপ বাড়ছে।

অতিরিক্ত উদ্দীপনা ও শিশুদের প্রত্যাশা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের বিনোদন ও মনোযোগ ধরে রাখতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উদ্দীপনা প্রয়োজন। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা ও ডিজিটাল বিনোদনের কারণে বাস্তব জীবনের কার্যক্রমগুলোও এখন আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হচ্ছে।

ফলে শিশুদের প্রত্যাশাও বাড়ছে। একদিনে একাধিক আনন্দঘন অভিজ্ঞতা পেলে সেটিই হয়ে দাঁড়াচ্ছে নতুন মানদণ্ড। এতে সাধারণ, সহজ জীবনযাপন অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে।

সমাধান কোথায়?

অনেক অভিভাবকই মনে করছেন, এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন—যেখানে সবাই কিছুটা ‘কম করা’র দিকে ঝুঁকবেন। অর্থাৎ, প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বা প্রতিটি আয়োজন নিখুঁত করার চেষ্টা না করে, কিছুটা সহজভাবে নেওয়া।

এতে শিশুদেরও বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা তৈরি হবে এবং অভিভাবকরাও মানসিক চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পাবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই

অভিভাবকদের ওপর বাড়তি চাপ: স্কুলের ‘অতিরিক্ত আয়োজন’ নিয়ে ক্লান্তির গল্প

০৬:০৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

স্কুলজীবনে শিশুদের আনন্দময় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে গিয়ে আজকের অনেক অভিভাবক যেন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতার মধ্যে আটকে পড়েছেন। বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান, বিশেষ দিবস, পোশাকের থিম, ক্লাসের বাইরে অতিরিক্ত কার্যক্রম—সবকিছু মিলিয়ে দায়িত্বের চাপ অনেকের কাছেই এখন প্রায় অসহনীয় হয়ে উঠছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এই প্রবণতার পেছনের বাস্তবতা ও মানসিক চাপের দিকটি উঠে এসেছে।

আয়োজনের চাপ, অভিভাবকদের ক্লান্তি

একজন অভিভাবকের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, স্কুলে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান—হ্যালোইন, ভ্যালেন্টাইনস ডে, জন্মদিন, ‘স্পিরিট ডে’—সবকিছুর জন্য প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। বসন্ত মৌসুমে এই চাপ আরও বাড়ে, কারণ বছরের শেষ দিকে একের পর এক অনুষ্ঠান থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের এমন সব কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়, যেগুলোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একই দিনে একাধিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা, শিশুদের জন্য বিশেষ খাবার বা পোশাকের ব্যবস্থা করা—এসব দায়িত্ব অনেক সময় বাস্তব জীবনের কাজ ও ব্যক্তিগত সময়ের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করে।

কানাইঘাটে অভিভাবক সমাবেশ - Kanaighat News

‘পারফেক্ট প্যারেন্টিং’-এর অদৃশ্য প্রতিযোগিতা

এই পরিস্থিতির পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে ‘পারফেক্ট প্যারেন্টিং’-এর সামাজিক চাপ। অন্য অভিভাবকদের দেখে অনেকেই মনে করেন, তাঁদেরও একইভাবে সক্রিয় ও সৃজনশীল হতে হবে। ফলে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে কম অংশগ্রহণ মানেই অপরাধবোধ।

এমনকি স্কুলের অনুষ্ঠানগুলোও ধীরে ধীরে বড় আকার নিচ্ছে—ছোটখাটো আয়োজন এখন পরিণত হচ্ছে পুরোদিনব্যাপী ইভেন্টে। এতে অভিভাবকদের সময়, অর্থ এবং মানসিক শক্তির ওপর চাপ বাড়ছে।

অতিরিক্ত উদ্দীপনা ও শিশুদের প্রত্যাশা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের বিনোদন ও মনোযোগ ধরে রাখতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উদ্দীপনা প্রয়োজন। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা ও ডিজিটাল বিনোদনের কারণে বাস্তব জীবনের কার্যক্রমগুলোও এখন আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হচ্ছে।

ফলে শিশুদের প্রত্যাশাও বাড়ছে। একদিনে একাধিক আনন্দঘন অভিজ্ঞতা পেলে সেটিই হয়ে দাঁড়াচ্ছে নতুন মানদণ্ড। এতে সাধারণ, সহজ জীবনযাপন অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে।

সমাধান কোথায়?

অনেক অভিভাবকই মনে করছেন, এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন—যেখানে সবাই কিছুটা ‘কম করা’র দিকে ঝুঁকবেন। অর্থাৎ, প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বা প্রতিটি আয়োজন নিখুঁত করার চেষ্টা না করে, কিছুটা সহজভাবে নেওয়া।

এতে শিশুদেরও বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা তৈরি হবে এবং অভিভাবকরাও মানসিক চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পাবেন।