পাকিস্তানি অভিনেত্রী ও শিল্পী নাইমাল খাওয়ার নারীর শরীর নিয়ে প্রকাশ্যে করা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, একজন নারীর শারীরিক পরিবর্তন কখনোই অন্যদের জন্য মন্তব্য বা কৌতূহলের বিষয় হওয়ার কারণ হতে পারে না।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি ছবি নিয়ে করা মন্তব্যের জবাব দেন নাইমাল। একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁকে আগের তুলনায় ‘চেনাই যাচ্ছে না’। একই সঙ্গে তাঁর ওজন বেড়েছে কি না কিংবা তিনি অন্তঃসত্ত্বা কি না, তা নিয়েও অনুমান করা হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় নাইমাল বলেন, নারীর শরীর নিয়ে মানুষ কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে মন্তব্য করতে শুরু করেছে, বিষয়টি একই সঙ্গে তাঁর কাছে বিস্ময়কর ও দুঃখজনক।
তিনি বলেন, তাঁর ওজন ওঠানামা করতেই পারে। পাঁচ বছর আগের মতো তাঁকে দেখতে নাও হতে পারে। মাতৃত্বও একজন নারীর শরীরে এমন পরিবর্তন আনে, যা অনেক সময় কল্পনারও বাইরে।
বয়স, মানসিক চাপ ও মাতৃত্বে বদলায় শরীর
নাইমালের ভাষায়, বয়স, হরমোন, মানসিক চাপ, স্বাস্থ্য, জীবনযাপন এবং কখনো কখনো গর্ভধারণ—সবকিছুই নারীর শরীরে পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু এসব পরিবর্তনের কোনোটিই জনসমক্ষে আলোচনা করার আমন্ত্রণ নয়।
তিনি বিশেষভাবে নারীদের উদ্দেশে বলেন, পাঁচ বছর আগে, গত বছর কিংবা গত মাসে যে শরীর ছিল, সারাজীবন সেই একই শরীর ধরে রাখার দায় কোনো নারীর নেই। শরীর পরিবর্তিত হতে পারে এবং সেই পরিবর্তনকে অন্যের বিনোদনের বিষয় বানানোর অধিকার কারও নেই।

অভিনেতা হামজা আলি আব্বাসির সঙ্গে বিবাহিত নাইমাল ২০২০ সালে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। এর আগে সন্তান জন্মের পরের মানসিক অবসাদের কঠিন অভিজ্ঞতা নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। সেই সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কারণে প্রায় তিন বছর ছবি আঁকতে পারেননি বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
নারী তারকাদের শরীর নিয়ে বাড়তি কৌতূহল
নাইমালের শরীর নিয়ে এমন মন্তব্য অবশ্য নতুন নয়। পাকিস্তানের বিনোদন অঙ্গনে নারী তারকাদের চেহারা, চুল, নাক, ওজন, পোশাক কিংবা সৌন্দর্যচর্চা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়। এমনকি কোনো নারী তারকা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিজের চেহারায় পরিবর্তন এনেছেন কি না, তা নিয়েও নানা অনুমান করা হয়।
নারী তারকাদের প্রতি এই অতিরিক্ত নজরদারির পেছনে অনেক সময় এমন একটি ধারণা কাজ করে যে, জনসমক্ষে থাকা মানেই নিজের শরীর ও চেহারা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য সহ্য করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ পুরুষ তারকারা সাধারণত একই মাত্রার শারীরিক সমালোচনার মুখোমুখি হন না।
নাইমালের বক্তব্য তাই শুধু নিজের অভিজ্ঞতার প্রতিবাদ নয়, নারীর শরীর নিয়ে সমাজের দীর্ঘদিনের এক অস্বাস্থ্যকর মানসিকতার বিরুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। একজন নারীর শরীর বদলাতে পারে—কিন্তু সেই পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার অধিকার অন্য কারও নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















