মধ্য গাজার আল-জাওয়াইদা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় চার বছরের এক শিশুসহ অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।
আল-জাওয়াইদায় শিশুসহ নিহত ২
ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, রোববার আল-জাওয়াইদা শহরে চালানো বিমান হামলায় চার বছর বয়সী মুহাম্মদ আবদেল সালাম তাহা ও আরও একজন নিহত হন। হামলায় কয়েকজন আহতও হয়েছেন।
নিহত ও আহতদের মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে চালানো আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত হন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলাগুলোর একটিতে তারা একজন ‘সন্ত্রাসীকে’ লক্ষ্যবস্তু করেছিল। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও থামেনি হামলা
গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর গাজায় বড় ধরনের সংঘাত কমেছে, কিন্তু ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ২৮৬ জন নিহত হয়েছেন।
ধ্বংসস্তূপের কাছে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আবু আহমেদ বলেন, যুদ্ধবিরতি বলে বাস্তবে কিছু নেই। তিনি বলেন, তারা সমাধান চান এবং শান্তিতে বাঁচতে চান।
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি গাজায় বড় ধরনের লড়াই থামালেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি। ইসরায়েলের দাবি, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দেইর আল-বালাহ শহরে হামাসের জ্যেষ্ঠ সদস্য শরিফ আল-হাসনাতকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, তিনি হামাসের ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং গাজা সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৃহত্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ওই পরিকল্পনায় ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ও রয়েছে।
পশ্চিম তীরেও প্রাণহানি
ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। জেরিকোর কাছে এক ইসরায়েলি ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। পুলিশ ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, হামলাকারী একজন ফিলিস্তিনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নাবলুসের কাছে আসকার শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় ১৪ বছর বয়সী ইসলাম আজ্জুরি গুলিতে নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি ও প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীর বসবাস পশ্চিম তীরে। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের ঘটনা বেড়েছে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং অধিকাংশ দেশ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এসব ইসরায়েলি বসতি অবৈধ বলে মনে করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক শীর্ষ প্রতিনিধি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা প্রত্যাহার এবং ই-১ এলাকায় পরিকল্পিত কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
গাজার যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নতুন করে প্রাণহানি ও পশ্চিম তীরে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি আরও গভীর সংকটে পড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















