পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের একটি দল। ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার, ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক স্যার অ্যালিস্টার কুকসহ ২১ জন সাবেক অধিনায়ক এ আহ্বান জানিয়েছেন।
ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে রয়েছেন। তবে তিনি ও তাঁর দল এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।
চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে পাঠানো চিঠিতে সাবেক অধিনায়করা ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে বলা হয়, গত সপ্তাহে তাঁকে একটি হাসপাতালে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য রাখা হয়েছিল এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়োজিত চিকিৎসকদের একটি দল তাঁকে পরীক্ষা করে।
ইমরানের দল এরই মধ্যে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছে।
সাবেক অধিনায়কদের প্রথম দাবি হলো, পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনায় একটি স্বাধীন চিকিৎসা বোর্ড গঠন করে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। ওই বোর্ডে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদেরও রাখতে হবে। বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি
চিঠিতে ইমরানের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সপ্তাহে তাঁর সঙ্গে দেখা করার আদালতের নির্দেশ কার্যকর করারও দাবি জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা বা অন্য কোনো কারণে যেন এসব সাক্ষাৎ বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা বোর্ড যে চিকিৎসার সুপারিশ করবে, তা যেন কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই কার্যকর করা হয়—এ দাবিও জানিয়েছেন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়করা।
চিঠিটি শুরু করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল। এতে বলা হয়, ইমরান খান ৭৩ বছর বয়সী এবং তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক যা-ই থাকুক না কেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা একটি স্বাভাবিক মানবিক দাবি।
ক্রিকেটের সম্পর্ককে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ইংল্যান্ডের মাইকেল আথারটন, মাইকেল ব্রিয়ারলি, নাসের হুসেইন, অ্যান্ড্রু স্ট্রস ও ডেভিড গাওয়ার এবং ভারতের কপিল দেব ও দিলীপ ভেংসরকার রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বেলিন্ডা ক্লার্ক, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, স্টিভ ওয়াহ ও কিম হিউজও এতে স্বাক্ষর করেছেন।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতেও ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানের জন্য মানবিক আচরণ ও যথাযথ চিকিৎসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সে সময় ইমরানের আইনজীবী দাবি করেছিলেন, কারাগার কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁর ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে।
দুই চিঠির স্বাক্ষরকারীরা নিজেদের সাবেক সহকর্মী ও প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ক্রিকেট মাঠে গড়ে ওঠা তাঁদের সম্পর্ক দেশগুলোর সীমান্ত ও রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে।
আদালতের নির্দেশের পরও হাসপাতালে নেওয়া হয়নি
ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৩ সালের আগস্টে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস, রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ শতাধিক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাঁর গ্রেপ্তারের পর সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হলে কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেয়।
গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত ইমরান খানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তাঁকে ইসলামাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ বলে ঘোষণা করেন। পরে তাঁকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















