অগাস্টার সবুজ জ্যাকেট যেন এখন ররি ম্যাকইলরয়ের সঙ্গেই বেশি মানায়। এক সময় যে মঞ্চ ছিল তার হতাশা, চাপ আর অপূর্ণতার প্রতীক, সেই মাস্টার্সেই এবার টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতে ইতিহাসের বিশেষ এক কাতারে জায়গা করে নিলেন তিনি। শেষ দিনে দাপট দেখিয়ে নয়, বরং চাপের মধ্যেও স্নায়ু ধরে রেখে, ভুলের মাঝেও লড়াই চালিয়ে গিয়ে এই জয় তুলে নেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের এই তারকা গলফার।
চাপের দিনেও জয় ধরে রাখলেন
শেষ রাউন্ডে ম্যাকইলরয় নিখুঁত ছিলেন না। বরং শুরুতে তাকে বেশ নড়বড়ে দেখাচ্ছিল। ৪ নম্বর হোলে ছোট দূরত্বের পাট মিস করে তিনি পিছিয়েও পড়েন। প্রতিদ্বন্দ্বীরাও তখন সুযোগ নিতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, পরিস্থিতি তত পাল্টেছে। বিশেষ করে অগাস্টার বিখ্যাত ‘অ্যামেন কর্নার’-এ ১২ ও ১৩ নম্বর হোলে বার্ডি করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজের হাতে তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১২ আন্ডার পার স্কোরে শিরোপা নিশ্চিত করেন ম্যাকইলরয়।
স্কটি শেফলারও শেষ পর্যন্ত চাপ ধরে রেখেছিলেন। বিশ্ব এক নম্বর এই গলফার শেষ রাউন্ডে ৬৮ খেলেও এক শটের জন্য পিছিয়ে রানারআপ হন। আর শুরুতে এগিয়ে যাওয়া ক্যামেরন ইয়ং ও জাস্টিন রোজ শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। ম্যাকইলরয়ের জন্য এটিই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
ইতিহাসের বিশেষ ক্লাবে ম্যাকইলরয়
এই জয়ের মাধ্যমে মাস্টার্স ইতিহাসে টানা দুইবার শিরোপা জেতা মাত্র চতুর্থ খেলোয়াড় হলেন ম্যাকইলরয়। তার আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন জ্যাক নিকলস, নিক ফালদো ও টাইগার উডস। এমন অর্জন শুধু একটি শিরোপা রক্ষা নয়, বরং তার উত্তরাধিকারকে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করল।
দুই রাউন্ড শেষে তার লিড ছিল রেকর্ড ছয় শট। কিন্তু তৃতীয় রাউন্ডে সেই বিশাল ব্যবধান গলে যায়। তবু আগের বছরের অভিজ্ঞতা, ধৈর্য আর মানসিক শক্তিই তাকে শেষ দিনে টিকিয়ে রাখে। এই জয় দেখিয়ে দিল, শুধু প্রতিভা নয়, বড় মঞ্চে নিজেকে সামলে নেওয়ার ক্ষমতাতেও ম্যাকইলরয় এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত।

অগাস্টার সঙ্গে বদলে যাওয়া সম্পর্ক
মাস্টার্স একসময় ম্যাকইলরয়ের কাছে ছিল দুঃস্বপ্নের আরেক নাম। ২০১১ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে শেষ দিনে চার শটের লিড নিয়েও ভয়াবহ ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সেই হতাশা বহু বছর তাকে তাড়া করেছে। অগাস্টার মাটিতে পা রাখলেই যেন ফিরে আসত সেই ব্যর্থতার স্মৃতি।
কিন্তু গত বছর প্রথমবার মাস্টার্স জিতে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম পূর্ণ করার পর সেই সম্পর্ক পুরো বদলে যায়। এবার তিনি অগাস্টায় আসেন স্বস্তি, আত্মবিশ্বাস আর ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে। আগের চাপের জায়গায় ছিল নতুন বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসই তাকে টানা দ্বিতীয় শিরোপার পথে এগিয়ে দেয়।
ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা
এবারের জয়ের পর শুধু বর্তমান নয়, ম্যাকইলরয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের অনেকে মনে করছেন, অগাস্টায় তার সাফল্যের গল্প এখানেই থামছে না। একসময় যে মাঠে তিনি নিজেকে হারিয়ে ফেলতেন, এখন সেই মাঠেই তাকে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ ও আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে।
ম্যাকইলরয়ের এই জয় তাই শুধু আরেকটি বড় শিরোপা নয়। এটি এক দীর্ঘ যাত্রার পূর্ণতা, পুরোনো আঘাত পেরিয়ে ফিরে আসার গল্প, আর প্রমাণ যে বড় খেলোয়াড়দের আসল শক্তি শুধু জয়ে নয়, ভেঙে পড়ার পর আবার উঠে দাঁড়ানোর মধ্যেও লুকিয়ে থাকে।
ররি ম্যাকইলরয়ের টানা দ্বিতীয় মাস্টার্স জয়ে ইতিহাস গড়া, চাপ সামলে অগাস্টায় আরও উজ্জ্বল হলো তার গলফ কিংবদন্তি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















