১১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের কলামঃ যুদ্ধের ধাক্কা থেকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে, যুক্তরাজ্যের সামনে বড় অনিশ্চয়তা মাদুরো চলে গেছেন, এখন শুরু হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠদের শুদ্ধি অভিযান ফোনালাপে যুদ্ধবিরতি, ইউনিফিলে হামলায় শোক ও তদন্তের আশ্বাস দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষী টহলে হামলা, নিহত ১ রাশিয়ার তেলে ছাড় বাড়াল ট্রাম্প প্রশাসন, দাম কমাতে নতুন কৌশল—হরমুজ পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত হরমুজ প্রণালীর কাছে দুই তেলবাহী জাহাজে গুলি: উত্তেজনা বাড়ছে ঢাকা ইসলামাবাদের কূটনৈতিক উদ্যোগকে প্রশংসা করল, উপসাগরীয় সংকট সমাধানে আলোচনার ওপর জোর ফেনীতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, সহকারী নিহত, চালক আহত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এ-আই দিয়ে বুথে নজরদারি চালাবে নির্বাচন কমিশন মৃত্যুর পরেও সিনেমায় ফিরলেন ভ্যাল কিলমার — এআই দিয়ে পুনরুজ্জীবিত হলেন হলিউড তারকা

নীতিগত সহায়তা না পেলে ঝুঁকিতে পোশাক খাত, সরকারের কাছে বিজিএমইএ’র জরুরি দাবি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে নীতিগত সহায়তার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে এই দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার চাপে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে খাতটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের সমর্থনকে অপরিহার্য বলে মনে করছে বিজিএমইএ।

নীতিগত সহায়তার দাবি

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুকতাদিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে তারা পোশাক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে এবং প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে বিশেষ নীতিগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

সংগঠনটির মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের চাপ, মূল্য প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে বাংলাদেশি পোশাক খাত কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিজিএমইএ'র নতুন সভাপতি মাহমুদ হাসান খান

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার চাপ

বর্তমানে ভিয়েতনাম, ভারত ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো পোশাক রপ্তানিতে শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে উঠে এসেছে। এসব দেশ নানা ধরনের নীতিগত সুবিধা ও বাণিজ্যিক প্রণোদনা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিজিএমইএ মনে করছে, বাংলাদেশ যদি দ্রুত কার্যকর নীতি সহায়তা না পায়, তাহলে বাজার অংশীদারিত্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সম্ভাব্য নীতিগত পদক্ষেপ

বিজিএমইএ নেতারা সরকারকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—রপ্তানি প্রণোদনা বৃদ্ধি, সহজ শর্তে অর্থায়ন, কর সুবিধা এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করা।

এছাড়া, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বন্দর কার্যক্রমে গতি আনা এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া আরও সহজ করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।

দেশের রপ্তানি আয় ঊর্ধ্বমুখী | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

সরকারের প্রতিক্রিয়া

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খাতটির গুরুত্ব স্বীকার করে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই খাতকে শক্তিশালী রাখতে সরকার সব ধরনের সহায়তা বিবেচনা করবে।

বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তাই এই খাতে সামান্য ধাক্কাও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি প্রণোদনা নয়, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সংস্কার—যেমন দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বাজার বহুমুখীকরণ—এখন সময়ের দাবি।

বিজিএমইএ’র এই দাবি মূলত একটি সতর্কবার্তা—যথাসময়ে নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের কলামঃ যুদ্ধের ধাক্কা থেকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে, যুক্তরাজ্যের সামনে বড় অনিশ্চয়তা

নীতিগত সহায়তা না পেলে ঝুঁকিতে পোশাক খাত, সরকারের কাছে বিজিএমইএ’র জরুরি দাবি

০১:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে নীতিগত সহায়তার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে এই দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার চাপে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে খাতটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের সমর্থনকে অপরিহার্য বলে মনে করছে বিজিএমইএ।

নীতিগত সহায়তার দাবি

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুকতাদিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে তারা পোশাক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে এবং প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে বিশেষ নীতিগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

সংগঠনটির মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের চাপ, মূল্য প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে বাংলাদেশি পোশাক খাত কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিজিএমইএ'র নতুন সভাপতি মাহমুদ হাসান খান

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার চাপ

বর্তমানে ভিয়েতনাম, ভারত ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো পোশাক রপ্তানিতে শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে উঠে এসেছে। এসব দেশ নানা ধরনের নীতিগত সুবিধা ও বাণিজ্যিক প্রণোদনা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিজিএমইএ মনে করছে, বাংলাদেশ যদি দ্রুত কার্যকর নীতি সহায়তা না পায়, তাহলে বাজার অংশীদারিত্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সম্ভাব্য নীতিগত পদক্ষেপ

বিজিএমইএ নেতারা সরকারকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—রপ্তানি প্রণোদনা বৃদ্ধি, সহজ শর্তে অর্থায়ন, কর সুবিধা এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করা।

এছাড়া, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বন্দর কার্যক্রমে গতি আনা এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া আরও সহজ করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।

দেশের রপ্তানি আয় ঊর্ধ্বমুখী | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

সরকারের প্রতিক্রিয়া

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খাতটির গুরুত্ব স্বীকার করে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই খাতকে শক্তিশালী রাখতে সরকার সব ধরনের সহায়তা বিবেচনা করবে।

বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তাই এই খাতে সামান্য ধাক্কাও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি প্রণোদনা নয়, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সংস্কার—যেমন দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বাজার বহুমুখীকরণ—এখন সময়ের দাবি।

বিজিএমইএ’র এই দাবি মূলত একটি সতর্কবার্তা—যথাসময়ে নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।