১০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের কলামঃ যুদ্ধের ধাক্কা থেকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে, যুক্তরাজ্যের সামনে বড় অনিশ্চয়তা মাদুরো চলে গেছেন, এখন শুরু হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠদের শুদ্ধি অভিযান ফোনালাপে যুদ্ধবিরতি, ইউনিফিলে হামলায় শোক ও তদন্তের আশ্বাস দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষী টহলে হামলা, নিহত ১ রাশিয়ার তেলে ছাড় বাড়াল ট্রাম্প প্রশাসন, দাম কমাতে নতুন কৌশল—হরমুজ পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত হরমুজ প্রণালীর কাছে দুই তেলবাহী জাহাজে গুলি: উত্তেজনা বাড়ছে ঢাকা ইসলামাবাদের কূটনৈতিক উদ্যোগকে প্রশংসা করল, উপসাগরীয় সংকট সমাধানে আলোচনার ওপর জোর ফেনীতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, সহকারী নিহত, চালক আহত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এ-আই দিয়ে বুথে নজরদারি চালাবে নির্বাচন কমিশন মৃত্যুর পরেও সিনেমায় ফিরলেন ভ্যাল কিলমার — এআই দিয়ে পুনরুজ্জীবিত হলেন হলিউড তারকা

মাদুরো চলে গেছেন, এখন শুরু হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠদের শুদ্ধি অভিযান

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে হঠাৎ করে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে শুরু হয়েছে ক্ষমতার বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস। মাদুরোর ঘনিষ্ঠদের একে একে সরিয়ে দিচ্ছেন তাঁর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ, যিনি এখন কার্যত দেশের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছেন।

ক্ষমতা দখলের পর ধীরে ধীরে চলছে অপসারণ
মাদুরোকে গত জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। অনেককে পদচ্যুত করা হয়েছে, কেউ কেউ আটক হয়েছেন, আবার অনেকে ভয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।

মাদুরোর পরিবারের ঘনিষ্ঠ ধনকুবেরদের বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মিত্রদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে। পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক সুযোগ থেকেও দূরে রাখা হয়েছে।

নতুন নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন
দেলসি রদ্রিগেজ প্রথমে নিজেকে অস্থায়ী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করলেও এখন তিনি দেশের ক্ষমতার কাঠামো পুরোপুরি বদলে দিচ্ছেন। গত তিন মাসে তিনি ১৭ জন মন্ত্রী পরিবর্তন করেছেন, সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল করেছেন এবং নতুন কূটনীতিক নিয়োগ দিয়েছেন।

মাদুরোর ঘনিষ্ঠ অন্তত তিনজন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর পরিবারের অনেক সদস্যকে তেল খাতের চুক্তি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় রদ্রিগেজ নিজের অনুগতদের বসিয়েছেন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও চাপ
এই পরিবর্তনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর নতুন সরকারকে সহযোগিতা না করলে আবার হামলার হুমকি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ফলে অনেকেই মনে করছেন, রদ্রিগেজ কার্যত চাপের মধ্যে থেকেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন, যাদের আগে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করা হতো।

গণতন্ত্র নয়, ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত
বিরোধীরা বলছে, এই পরিবর্তন দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনছে না, বরং রদ্রিগেজ নিজের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করছেন। সরকারে স্বচ্ছতা বা বহুত্ববাদ এখনো অনুপস্থিত।

তবে সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ মাদুরোর দীর্ঘ শাসনের অবসানকে স্বাগত জানিয়েছে। তার শাসনামলে সহিংসতা, দুর্নীতি ও নির্বাচন জালিয়াতির অভিযোগ ছিল।

ভয়ের মধ্যে মাদুরোর ঘনিষ্ঠরা
মাদুরোর পতনের পর তাঁর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই নজরদারিতে থাকার অভিযোগ করছেন। কেউ কেউ দেশ ছাড়ার কথাও ভাবছেন।

মাদুরোর অনুগতদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের ঘনিষ্ঠরা, এবং সেইসব ব্যবসায়ী যারা দীর্ঘদিন ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে সম্পদ গড়েছেন।

সমালোচনা ও ভাঙন
সরকারপন্থী কিছু ব্যক্তিও নতুন নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। একজন প্রবীণ প্রচারক তাঁর টেলিভিশন অনুষ্ঠান হারিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।

সামরিক ও রাজনৈতিক দলে বড় ধাক্কা
রদ্রিগেজ সামরিক বাহিনীতেও বড় পরিবর্তন এনেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ পুরো সামরিক নেতৃত্ব বদলে দেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, আরও গভীর পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন অর্থনৈতিক দিক
এই পরিবর্তনের ফলে দেশটির অর্থনীতিতেও নতুন দিক উন্মুক্ত হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন তেল, খনি ও পর্যটন খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। দেশের পুরোনো ব্যবসায়ী গোষ্ঠীও আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে।

তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রাখতে কিছু পুরোনো নেতাকে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি আগে থেকেই শক্তিশালী অবস্থানে ছিলেন এবং এখন নতুন নেতৃত্বকে সমর্থন করছেন।

সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলায় এখন এক জটিল রাজনৈতিক রূপান্তর চলছে। মাদুরোর পতনের পর শুরু হওয়া এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকেও নতুনভাবে গড়ে তুলছে। তবে এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে এবং তা জনগণের জন্য কতটা ইতিবাচক হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের কলামঃ যুদ্ধের ধাক্কা থেকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে, যুক্তরাজ্যের সামনে বড় অনিশ্চয়তা

মাদুরো চলে গেছেন, এখন শুরু হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠদের শুদ্ধি অভিযান

০৮:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে হঠাৎ করে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে শুরু হয়েছে ক্ষমতার বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস। মাদুরোর ঘনিষ্ঠদের একে একে সরিয়ে দিচ্ছেন তাঁর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ, যিনি এখন কার্যত দেশের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছেন।

ক্ষমতা দখলের পর ধীরে ধীরে চলছে অপসারণ
মাদুরোকে গত জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। অনেককে পদচ্যুত করা হয়েছে, কেউ কেউ আটক হয়েছেন, আবার অনেকে ভয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।

মাদুরোর পরিবারের ঘনিষ্ঠ ধনকুবেরদের বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মিত্রদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে। পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক সুযোগ থেকেও দূরে রাখা হয়েছে।

নতুন নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন
দেলসি রদ্রিগেজ প্রথমে নিজেকে অস্থায়ী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করলেও এখন তিনি দেশের ক্ষমতার কাঠামো পুরোপুরি বদলে দিচ্ছেন। গত তিন মাসে তিনি ১৭ জন মন্ত্রী পরিবর্তন করেছেন, সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল করেছেন এবং নতুন কূটনীতিক নিয়োগ দিয়েছেন।

মাদুরোর ঘনিষ্ঠ অন্তত তিনজন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর পরিবারের অনেক সদস্যকে তেল খাতের চুক্তি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় রদ্রিগেজ নিজের অনুগতদের বসিয়েছেন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও চাপ
এই পরিবর্তনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর নতুন সরকারকে সহযোগিতা না করলে আবার হামলার হুমকি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ফলে অনেকেই মনে করছেন, রদ্রিগেজ কার্যত চাপের মধ্যে থেকেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন, যাদের আগে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করা হতো।

গণতন্ত্র নয়, ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত
বিরোধীরা বলছে, এই পরিবর্তন দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনছে না, বরং রদ্রিগেজ নিজের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করছেন। সরকারে স্বচ্ছতা বা বহুত্ববাদ এখনো অনুপস্থিত।

তবে সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ মাদুরোর দীর্ঘ শাসনের অবসানকে স্বাগত জানিয়েছে। তার শাসনামলে সহিংসতা, দুর্নীতি ও নির্বাচন জালিয়াতির অভিযোগ ছিল।

ভয়ের মধ্যে মাদুরোর ঘনিষ্ঠরা
মাদুরোর পতনের পর তাঁর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই নজরদারিতে থাকার অভিযোগ করছেন। কেউ কেউ দেশ ছাড়ার কথাও ভাবছেন।

মাদুরোর অনুগতদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের ঘনিষ্ঠরা, এবং সেইসব ব্যবসায়ী যারা দীর্ঘদিন ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে সম্পদ গড়েছেন।

সমালোচনা ও ভাঙন
সরকারপন্থী কিছু ব্যক্তিও নতুন নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। একজন প্রবীণ প্রচারক তাঁর টেলিভিশন অনুষ্ঠান হারিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।

সামরিক ও রাজনৈতিক দলে বড় ধাক্কা
রদ্রিগেজ সামরিক বাহিনীতেও বড় পরিবর্তন এনেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ পুরো সামরিক নেতৃত্ব বদলে দেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, আরও গভীর পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন অর্থনৈতিক দিক
এই পরিবর্তনের ফলে দেশটির অর্থনীতিতেও নতুন দিক উন্মুক্ত হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন তেল, খনি ও পর্যটন খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। দেশের পুরোনো ব্যবসায়ী গোষ্ঠীও আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে।

তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রাখতে কিছু পুরোনো নেতাকে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি আগে থেকেই শক্তিশালী অবস্থানে ছিলেন এবং এখন নতুন নেতৃত্বকে সমর্থন করছেন।

সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলায় এখন এক জটিল রাজনৈতিক রূপান্তর চলছে। মাদুরোর পতনের পর শুরু হওয়া এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকেও নতুনভাবে গড়ে তুলছে। তবে এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে এবং তা জনগণের জন্য কতটা ইতিবাচক হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।