আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের তিনটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আফগান তালেবান সরকারের দাবি, নিহতদের মধ্যে ১১ জনই শিশু। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের সবাই নারী ও শিশু।
বুধবার আফগানিস্তানের কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তার অভিযোগ, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বেসামরিক বসতবাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে।
নতুন করে উত্তেজনা
চলতি বছরে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সহিংসতা শত শত প্রাণহানির কারণ হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত ‘নির্ভুল ও লক্ষ্যভিত্তিক’ অভিযানে ২৬ জন সশস্ত্র জঙ্গি নিহত হয়েছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গিদের ঘাঁটি, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
ইসলামাবাদের অভিযোগ ও কাবুলের জবাব
দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিরা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হামলার পরিকল্পনা করে। পাকিস্তানে ২০২২ সালের পর থেকে জঙ্গি হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে তালেবান সরকার এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে। কাবুলের দাবি, পাকিস্তানে সশস্ত্র সহিংসতা দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং এর জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করা যায় না।
চীনের মধ্যস্থতায় গত মার্চে দুই দেশ উত্তেজনা কমাতে সংলাপ শুরু করেছিল। এরপর বড় ধরনের সংঘর্ষ কিছুটা কমলেও প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
খোস্তে নিহতদের অধিকাংশ নারী-শিশু
খোস্ত প্রদেশের স্পেরা জেলার এক স্থানীয় উপজাতীয় নেতা হাজি আলি খান জানান, মধ্যরাতের পর একটি বিমান হামলা স্থানীয় এক পশুপালকের বাড়িতে আঘাত হানে। এতে নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত হন।
তার দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির কোনো সদস্যের সঙ্গে পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপির কোনো সম্পর্ক ছিল না। তারা সাধারণ গ্রামবাসী ছিলেন।
ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, যদি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিজেরাই করতে চাইবে।
সীমান্তে অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই হামলা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ হয়েছিল। তার পর থেকে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও সীমান্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
এদিকে হামলায় নিহত ও আহতদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। একদিকে তালেবান বেসামরিক হতাহতের কথা বলছে, অন্যদিকে পাকিস্তান বলছে তারা জঙ্গি অবকাঠামো লক্ষ্য করেই অভিযান চালিয়েছে।
#আফগানিস্তান #পাকিস্তান #তালেবান #খোস্ত #পাকতিকা #কুনার #সীমান্তসংঘাত #দক্ষিণএশিয়া #আন্তর্জাতিকসংবাদ #সারাক্ষণ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
























