কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে মাত্র দুটি চালু রয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে অচিরেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ স্থগিত করতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বর্তমানে কেন্দ্রটি থেকে মোট ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা এর সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশই পানির ঘাটতির কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
পানির স্তর দ্রুত কমছে
কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ধারাবাহিকভাবে কমে এসেছে। চলতি সপ্তাহে কিছু বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হলেও তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টায় হ্রদের পানির স্তর ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৩ দশমিক ৯১ ফুট, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী এ সময় স্তর থাকার কথা ৭৮ দশমিক ৩৪ ফুট। অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত মাত্রার তুলনায় পানির স্তর ৪ দশমিক ৪৩ ফুট নিচে অবস্থান করছে।
উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকি
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৬৮ ফুট সমুদ্রপৃষ্ঠ উচ্চতাকে বিপদসীমা হিসেবে ধরা হয়। পানির স্তর ওই পর্যায়ে নেমে গেলে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে।
কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট সমুদ্রপৃষ্ঠ উচ্চতা পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমানে সেই সক্ষমতার তুলনায় পানির পরিমাণ অনেক কম রয়েছে।
কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্ব পালনরত প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, বুধবার সকালে ইউনিট-২ থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং ইউনিট-৩ থেকে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। এ দুই ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদন ছিল ৫৮ মেগাওয়াট।
ভারী বৃষ্টির অপেক্ষায় কর্তৃপক্ষ
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে বন্ধ থাকা ইউনিটগুলো পুনরায় চালুর সুযোগ নেই। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাহাড়ি এলাকার মানুষের দুর্ভোগ
কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়। হ্রদনির্ভর হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকাও এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়িসহ দুর্গম উপজেলার বাসিন্দারা নৌ-যোগাযোগে ক্রমবর্ধমান সমস্যার মুখে পড়েছেন। হ্রদের বিভিন্ন অংশে চর জেগে ওঠায় নৌপথের নাব্যতা কমে গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, অনেক এলাকায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমও নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতির উন্নতিতে এখন সবার নজর আকাশের দিকে, কারণ পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতই কেবল কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বাড়িয়ে সংকট কাটাতে পারে।
#কাপ্তাই_হ্রদ #কর্ণফুলী_জলবিদ্যুৎ_কেন্দ্র #বিদ্যুৎ_উৎপাদন #বিপিডিবি #রাঙ্গামাটি #বাংলাদেশ #পানি_সংকট #কাপ্তাই
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















