দেশে কর পরিপালন জোরদার এবং অঘোষিত সম্পদকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনার লক্ষ্যে নতুন একটি বিধান আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় পূর্বে অঘোষিত বিনিয়োগ বা সম্পত্তি লেনদেন স্বেচ্ছায় প্রকাশ করলে নির্ধারিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধ করে তা বৈধ করার সুযোগ মিলতে পারে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতিকে আরও বিনিয়োগনির্ভর ও উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট
সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, যা হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর এটি বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বাজেট প্রণয়নের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ ও নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের যাত্রা’।
অঘোষিত বিনিয়োগ প্রকাশের নতুন বিধান
প্রস্তাবিত আয়কর কাঠামোয় ‘অঘোষিত বিনিয়োগ প্রকাশ’ শিরোনামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধারার আওতায় কোনো ব্যক্তি পূর্বে গোপন রাখা বিনিয়োগ বা সম্পদ লেনদেনের তথ্য স্বেচ্ছায় প্রকাশ করলে এবং প্রযোজ্য কর পরিশোধ করলে সেই অর্থের উৎস নিয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুলবে না।
এ সুবিধা ভূমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যেখানে প্রকৃত লেনদেনমূল্য সরকারি নথিতে উল্লেখিত মূল্যের চেয়ে বেশি ছিল।
কেনাবেচার ক্ষেত্রে কী হবে
যদি কোনো সম্পত্তির প্রকৃত ক্রয়মূল্য দলিলে উল্লেখিত মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে, তাহলে সেই অতিরিক্ত অঘোষিত অংশ বিদ্যমান আয়কর বিধান অনুযায়ী কর দিয়ে বৈধ করা যাবে।
একইভাবে জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির ক্ষেত্রে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য নথিভুক্ত মূল্যের চেয়ে বেশি হলে বিক্রেতাকে সেই অতিরিক্ত অঘোষিত অংশের ওপর আয়কর দিতে হবে।
তবে শুধু কর দিলেই হবে না। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, অঘোষিত অর্থ বা লেনদেন প্রকাশ করে বৈধতা নিতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ওই অতিরিক্ত অংশের ওপর আরও ২০ শতাংশ অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।
সুরক্ষা ও সীমাবদ্ধতা
এ ব্যবস্থার আওতায় বৈধ করা আয় বা সম্পদের তথ্য করদাতাকে আয়কর রিটার্নের ‘তহবিলের উৎস ও সঞ্চিত সম্পদ’ সংক্রান্ত অংশে উল্লেখ করতে হবে।
তবে অর্থ পাচার, দুর্নীতি বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধসংক্রান্ত তদন্ত কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি থাকা ব্যক্তি এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। দেশে বা বিদেশে কোনো পূর্বাপর অপরাধের তদন্ত চলমান থাকলে এই সুযোগ প্রযোজ্য হবে না।
সরকারের লক্ষ্য
সরকারের মতে, দীর্ঘদিন করের বাইরে থাকা সম্পদকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং রাজস্বভিত্তি সম্প্রসারণই এ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ যাতে না তৈরি হয়, সে জন্য প্রস্তাবিত আইনে বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
#বাংলাদেশ #বাজেট২০২৬ #অঘোষিতসম্পদ #আয়কর #করনীতি #অর্থনীতি #বিনিয়োগ #রাজস্ব #বাংলাদেশসরকার #জাতীয়বাজেট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















