১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত সবাই পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১৩, নিহতদের মধ্যে ১১ শিশু অঘোষিত সম্পদ বৈধ করার নতুন সুযোগ, অতিরিক্ত ২০ শতাংশ করের প্রস্তাব শ্বেতাঙ্গ ত্রাণকর্তার মঞ্চ নাকি জাতির আত্মসমালোচনার সময়? বগুড়ায় এসআইকে কুপিয়ে মামলার নথি ছিনতাই, তদন্তে পুলিশ মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশে, ইরান যুদ্ধের জ্বালানি ধাক্কায় বাড়ছে মার্কিন অর্থনীতির চাপ ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন শক্তির সংজ্ঞা যদি পুরুষতন্ত্র লিখে দেয়, তবে নারীরা জিতবে কীভাবে? নতুন বিশ্বব্যবস্থায় টিকে থাকার লড়াই: প্রযুক্তি, জ্ঞান ও রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের সময় নেহরুর উত্তরাধিকার মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন মোদি: দীর্ঘতম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দিনে কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণ

শ্বেতাঙ্গ ত্রাণকর্তার মঞ্চ নাকি জাতির আত্মসমালোচনার সময়?

একটি দেশের বার্ষিকী উদ্‌যাপন কীভাবে তার আত্মবিশ্বাস, উদ্বেগ কিংবা রাজনৈতিক সংকটকে প্রকাশ করে? ইতিহাস বলছে, জাতীয় উৎসব অনেক সময় জাতির প্রকৃত অবস্থার চেয়ে তার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়ে ওঠে। আর যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত গর্ব বা ঐক্য সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়, তখন প্রায়ই আশ্রয় নেওয়া হয় বড় মঞ্চ, বড় প্রদর্শনী এবং বড় প্রতীকের।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন একটি দৃশ্য এক শতাব্দীর ব্যবধানে দুবার দেখা যাচ্ছে। ১৯২৬ সালে স্বাধীনতার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল বক্সিং ম্যাচ যেমন জাতীয় উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল, তেমনি ২০২৬ সালে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত লড়াই-কেন্দ্রিক প্রদর্শনীও একই উদ্দেশ্যের প্রতিফলন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, জাতীয় আত্মবিশ্বাস কি সত্যিই ক্রীড়া-নাটকীয়তা দিয়ে তৈরি করা যায়?

ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের অস্বস্তিকর মিল

প্রথম নজরে ১৯২৬ এবং ২০২৬ সম্পূর্ণ ভিন্ন সময় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবেশের দিকে তাকালে মিলগুলো বিস্ময়কর। উভয় সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ছিল শক্তিশালী, সমৃদ্ধ এবং বৈশ্বিক প্রভাবশালী রাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটি নিজের সাফল্য ব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে জড়িয়ে পড়েছিল।

১৯২০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ শুল্কনীতি জোরদার করেছিলেন, করপোরেট নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সীমিত সম্পৃক্ততার পথ বেছে নিয়েছিলেন। সেই সময়ে অভিবাসন নীতিতে বর্ণ ও জাতিগত সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকারের সুরক্ষাও ছিল দুর্বল।

এক শতাব্দী পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলেও অনুরূপ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শুল্ককে অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণমুক্তির প্রচেষ্টা, আন্তর্জাতিক জোট সম্পর্কে সংশয়, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে একটি পরিচিত রাজনৈতিক চিত্র ফুটে ওঠে। যেন ইতিহাস সরাসরি পুনরাবৃত্তি না করলেও তার ছায়া আবার ফিরে এসেছে।

জাতীয় উদ্‌যাপন কেন দর্শক খোঁজে?

রাষ্ট্র যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদ্‌যাপন করে, তখন সাধারণত সেটি অতীতের অর্জন এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার যৌথ উদ্‌যাপন হওয়ার কথা। কিন্তু মানুষের মনে যদি অনিশ্চয়তা, হতাশা বা বিভক্তি কাজ করে, তখন উৎসব কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

১৯২৬ সালে বিশাল আয়োজন, বিশ্বমেলা এবং বক্সিং ম্যাচ থাকা সত্ত্বেও আমেরিকানদের বড় অংশ বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি। জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে উত্থান—কোনোটিই জনমনে স্থায়ী উচ্ছ্বাস তৈরি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সেই বার্ষিকীকে অনেকেই ব্যর্থ আয়োজন হিসেবে দেখেছিলেন।

আজকের পরিস্থিতিও খুব আলাদা নয়। রাজনৈতিক মেরুকরণ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগ, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সংশয়—এসবের মধ্যে একটি লড়াইয়ের অনুষ্ঠান হয়তো কিছু সময়ের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, কিন্তু জাতীয় আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারবে কি?

এখানেই মূল প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মানুষ কি দেশের প্রতি গর্ব অনুভব করে কারণ তারা একটি বড় অনুষ্ঠান দেখেছে, নাকি কারণ তারা বিশ্বাস করে যে তাদের রাষ্ট্র সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর?

প্রতীকের রাজনীতি বনাম বাস্তবতার রাজনীতি

আধুনিক রাজনীতিতে প্রতীকের শক্তি অস্বীকার করা যায় না। বিশাল সমাবেশ, সামরিক কুচকাওয়াজ, ক্রীড়া প্রদর্শনী কিংবা নাটকীয় রাজনৈতিক মঞ্চায়ন নেতাদের জন্য শক্তিশালী যোগাযোগের মাধ্যম। এগুলো আবেগ সৃষ্টি করে, সংবাদ শিরোনাম দখল করে এবং রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেয়।

কিন্তু প্রতীক তখনই কার্যকর হয়, যখন তার পেছনে বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তি থাকে। নাগরিকেরা যদি মনে করেন যে অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হচ্ছে অথবা সমাজ আরও বিভক্ত হয়ে পড়ছে, তাহলে কোনো প্রদর্শনীই দীর্ঘমেয়াদে সেই অনুভূতি বদলাতে পারে না।

সেই কারণেই জাতীয় ঐক্যকে একটি মঞ্চে নির্মাণ করা সম্ভব নয়। এটি গড়ে ওঠে প্রতিষ্ঠান, নীতি, নাগরিক আস্থা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের ধারণার ওপর।

আসল লড়াই কোথায়?

হোয়াইট হাউসের মাঠে অনুষ্ঠিত যেকোনো লড়াইয়ের বিজয়ী নির্ধারণ করা সহজ। বিচারক স্কোর দেবেন, ফল ঘোষণা হবে, দর্শক করতালি দেবে। কিন্তু একটি জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার কোনো দ্রুত ফল নেই।

আমেরিকার ২৫০তম বর্ষপূর্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রিংয়ের ভেতরে নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে। দেশটি বিশ্বে কী ভূমিকা পালন করবে? নাগরিকত্বের অর্থ কী হবে? গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা শক্তিশালী থাকবে? এবং সবচেয়ে বড় কথা, আমেরিকান পরিচয়ের পরিধিতে কারা অন্তর্ভুক্ত হবে?

ইতিহাসের শিক্ষা হলো, জাতীয় গর্ব নির্দেশ দিয়ে সৃষ্টি করা যায় না। সেটি অর্জন করতে হয়। এক শতাব্দী আগে একটি বক্সিং ম্যাচ সেই বাস্তবতা বদলাতে পারেনি। আজও কোনো বিশাল স্টিলের খাঁচা বা রাজনৈতিক প্রদর্শনী সেই কাজ করতে পারবে না।

কারণ জাতির আত্মা জয় করা যায় না কুস্তি বা মুষ্টিযুদ্ধে; সেটি অর্জিত হয় ন্যায়, অংশগ্রহণ এবং বিশ্বাসের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। আর সেই সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত সবাই

শ্বেতাঙ্গ ত্রাণকর্তার মঞ্চ নাকি জাতির আত্মসমালোচনার সময়?

০৯:৫১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

একটি দেশের বার্ষিকী উদ্‌যাপন কীভাবে তার আত্মবিশ্বাস, উদ্বেগ কিংবা রাজনৈতিক সংকটকে প্রকাশ করে? ইতিহাস বলছে, জাতীয় উৎসব অনেক সময় জাতির প্রকৃত অবস্থার চেয়ে তার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়ে ওঠে। আর যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত গর্ব বা ঐক্য সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়, তখন প্রায়ই আশ্রয় নেওয়া হয় বড় মঞ্চ, বড় প্রদর্শনী এবং বড় প্রতীকের।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন একটি দৃশ্য এক শতাব্দীর ব্যবধানে দুবার দেখা যাচ্ছে। ১৯২৬ সালে স্বাধীনতার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল বক্সিং ম্যাচ যেমন জাতীয় উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল, তেমনি ২০২৬ সালে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত লড়াই-কেন্দ্রিক প্রদর্শনীও একই উদ্দেশ্যের প্রতিফলন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, জাতীয় আত্মবিশ্বাস কি সত্যিই ক্রীড়া-নাটকীয়তা দিয়ে তৈরি করা যায়?

ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের অস্বস্তিকর মিল

প্রথম নজরে ১৯২৬ এবং ২০২৬ সম্পূর্ণ ভিন্ন সময় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবেশের দিকে তাকালে মিলগুলো বিস্ময়কর। উভয় সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ছিল শক্তিশালী, সমৃদ্ধ এবং বৈশ্বিক প্রভাবশালী রাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটি নিজের সাফল্য ব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে জড়িয়ে পড়েছিল।

১৯২০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ শুল্কনীতি জোরদার করেছিলেন, করপোরেট নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সীমিত সম্পৃক্ততার পথ বেছে নিয়েছিলেন। সেই সময়ে অভিবাসন নীতিতে বর্ণ ও জাতিগত সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকারের সুরক্ষাও ছিল দুর্বল।

এক শতাব্দী পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলেও অনুরূপ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শুল্ককে অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণমুক্তির প্রচেষ্টা, আন্তর্জাতিক জোট সম্পর্কে সংশয়, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে একটি পরিচিত রাজনৈতিক চিত্র ফুটে ওঠে। যেন ইতিহাস সরাসরি পুনরাবৃত্তি না করলেও তার ছায়া আবার ফিরে এসেছে।

জাতীয় উদ্‌যাপন কেন দর্শক খোঁজে?

রাষ্ট্র যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদ্‌যাপন করে, তখন সাধারণত সেটি অতীতের অর্জন এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার যৌথ উদ্‌যাপন হওয়ার কথা। কিন্তু মানুষের মনে যদি অনিশ্চয়তা, হতাশা বা বিভক্তি কাজ করে, তখন উৎসব কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

১৯২৬ সালে বিশাল আয়োজন, বিশ্বমেলা এবং বক্সিং ম্যাচ থাকা সত্ত্বেও আমেরিকানদের বড় অংশ বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি। জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে উত্থান—কোনোটিই জনমনে স্থায়ী উচ্ছ্বাস তৈরি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সেই বার্ষিকীকে অনেকেই ব্যর্থ আয়োজন হিসেবে দেখেছিলেন।

আজকের পরিস্থিতিও খুব আলাদা নয়। রাজনৈতিক মেরুকরণ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগ, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সংশয়—এসবের মধ্যে একটি লড়াইয়ের অনুষ্ঠান হয়তো কিছু সময়ের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, কিন্তু জাতীয় আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারবে কি?

এখানেই মূল প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মানুষ কি দেশের প্রতি গর্ব অনুভব করে কারণ তারা একটি বড় অনুষ্ঠান দেখেছে, নাকি কারণ তারা বিশ্বাস করে যে তাদের রাষ্ট্র সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর?

প্রতীকের রাজনীতি বনাম বাস্তবতার রাজনীতি

আধুনিক রাজনীতিতে প্রতীকের শক্তি অস্বীকার করা যায় না। বিশাল সমাবেশ, সামরিক কুচকাওয়াজ, ক্রীড়া প্রদর্শনী কিংবা নাটকীয় রাজনৈতিক মঞ্চায়ন নেতাদের জন্য শক্তিশালী যোগাযোগের মাধ্যম। এগুলো আবেগ সৃষ্টি করে, সংবাদ শিরোনাম দখল করে এবং রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেয়।

কিন্তু প্রতীক তখনই কার্যকর হয়, যখন তার পেছনে বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তি থাকে। নাগরিকেরা যদি মনে করেন যে অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হচ্ছে অথবা সমাজ আরও বিভক্ত হয়ে পড়ছে, তাহলে কোনো প্রদর্শনীই দীর্ঘমেয়াদে সেই অনুভূতি বদলাতে পারে না।

সেই কারণেই জাতীয় ঐক্যকে একটি মঞ্চে নির্মাণ করা সম্ভব নয়। এটি গড়ে ওঠে প্রতিষ্ঠান, নীতি, নাগরিক আস্থা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের ধারণার ওপর।

আসল লড়াই কোথায়?

হোয়াইট হাউসের মাঠে অনুষ্ঠিত যেকোনো লড়াইয়ের বিজয়ী নির্ধারণ করা সহজ। বিচারক স্কোর দেবেন, ফল ঘোষণা হবে, দর্শক করতালি দেবে। কিন্তু একটি জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার কোনো দ্রুত ফল নেই।

আমেরিকার ২৫০তম বর্ষপূর্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রিংয়ের ভেতরে নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে। দেশটি বিশ্বে কী ভূমিকা পালন করবে? নাগরিকত্বের অর্থ কী হবে? গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা শক্তিশালী থাকবে? এবং সবচেয়ে বড় কথা, আমেরিকান পরিচয়ের পরিধিতে কারা অন্তর্ভুক্ত হবে?

ইতিহাসের শিক্ষা হলো, জাতীয় গর্ব নির্দেশ দিয়ে সৃষ্টি করা যায় না। সেটি অর্জন করতে হয়। এক শতাব্দী আগে একটি বক্সিং ম্যাচ সেই বাস্তবতা বদলাতে পারেনি। আজও কোনো বিশাল স্টিলের খাঁচা বা রাজনৈতিক প্রদর্শনী সেই কাজ করতে পারবে না।

কারণ জাতির আত্মা জয় করা যায় না কুস্তি বা মুষ্টিযুদ্ধে; সেটি অর্জিত হয় ন্যায়, অংশগ্রহণ এবং বিশ্বাসের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। আর সেই সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি।