যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহ চেইনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, এসব অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক উপকারী।
বাণিজ্য ঘাটতির দাবি খারিজ
সিঙ্গাপুর জানায়, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রই সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাণিজ্যে ধারাবাহিকভাবে উদ্বৃত্ত অবস্থানে রয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পণ্য ও সেবা—উভয় খাতেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বৃত্ত রয়েছে এবং তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য উদ্বৃত্ত দেখা গেছে।
ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ঘাটতি ছিল, সেটিও ধীরে ধীরে কমছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেছে দেশটি।

অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নেই
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, সিঙ্গাপুরে শিল্প খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। তবে সিঙ্গাপুর বলছে, তাদের শিল্প অবকাঠামোর ব্যবহার হার গত পাঁচ বছর ধরে প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে, যা উন্নত অর্থনীতিগুলোর স্বাভাবিক মানদণ্ডের মধ্যেই পড়ে।
দেশটির বক্তব্য অনুযায়ী, সীমিত ভূমি সম্পদের কারণে অব্যবহৃত শিল্প জমি রাখা সরকারের নীতির পরিপন্থী। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন হচ্ছে বলেই এই উচ্চ ব্যবহার হার বজায় আছে।
জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান
সরবরাহ চেইনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে সিঙ্গাপুর। দেশটি জানিয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই যে তাদের রপ্তানিকৃত পণ্যে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহৃত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের তালিকায়ও সিঙ্গাপুর কখনো জোরপূর্বক বা শিশুশ্রম সংশ্লিষ্ট দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়নি। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস কর্তৃপক্ষও কখনো সিঙ্গাপুর থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি।
কঠোর আইন ও নজরদারি
সিঙ্গাপুরে জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে শক্তিশালী আইনি কাঠামো রয়েছে। দণ্ডবিধি ও মানবপাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী এসব অপরাধ কঠোরভাবে দমন করা হয়। শ্রমিকরা অভিযোগ জানাতে পারেন সরকারি হটলাইন, বেসরকারি সংস্থা বা পুলিশের মাধ্যমে।
সরকারি সংস্থাগুলো এসব অভিযোগ তদন্ত করে এবং আইন ভঙ্গের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক
সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। সিঙ্গাপুর যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগকারী দেশগুলোর একটি এবং এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইঙ্গিত
সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেও সিঙ্গাপুর জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় আগ্রহী। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার কথা বলেছে দেশটি।
আসন্ন শুনানিতে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
সারাংশ
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে সিঙ্গাপুর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের নীতিমালা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তারা ন্যায্য বাণিজ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















