১১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের কলামঃ যুদ্ধের ধাক্কা থেকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে, যুক্তরাজ্যের সামনে বড় অনিশ্চয়তা মাদুরো চলে গেছেন, এখন শুরু হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠদের শুদ্ধি অভিযান ফোনালাপে যুদ্ধবিরতি, ইউনিফিলে হামলায় শোক ও তদন্তের আশ্বাস দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষী টহলে হামলা, নিহত ১ রাশিয়ার তেলে ছাড় বাড়াল ট্রাম্প প্রশাসন, দাম কমাতে নতুন কৌশল—হরমুজ পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত হরমুজ প্রণালীর কাছে দুই তেলবাহী জাহাজে গুলি: উত্তেজনা বাড়ছে ঢাকা ইসলামাবাদের কূটনৈতিক উদ্যোগকে প্রশংসা করল, উপসাগরীয় সংকট সমাধানে আলোচনার ওপর জোর ফেনীতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, সহকারী নিহত, চালক আহত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এ-আই দিয়ে বুথে নজরদারি চালাবে নির্বাচন কমিশন মৃত্যুর পরেও সিনেমায় ফিরলেন ভ্যাল কিলমার — এআই দিয়ে পুনরুজ্জীবিত হলেন হলিউড তারকা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রুজ শিল্পে রেকর্ড আয়, সিঙ্গাপুর একাই দখলে প্রায় অর্ধেক বাজার

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রুজ পর্যটন শিল্প ২০২৪ সালে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে এই খাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক পর্যটন মানচিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, এই অঞ্চলে ক্রুজ পর্যটনের মাধ্যমে আয় হয়েছে প্রায় ১২.৭ বিলিয়ন ডলার, যেখানে সিঙ্গাপুর একাই দখল করেছে সবচেয়ে বড় অংশ।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও যাত্রী সংখ্যা
২০২৪ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মোট ৩.৯ মিলিয়ন ক্রুজ যাত্রীর আগমন ঘটে। এর মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ যাত্রী সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে ভ্রমণ করেছেন। প্রতিটি যাত্রীর বিপরীতে গড়ে যে অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হয়েছে, তা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় ২.৪ গুণ বেশি। এই হিসেবে অঞ্চলটি বৈশ্বিক বাজারের মাত্র ২ শতাংশ যাত্রী পেলেও মোট অর্থনৈতিক অবদানের প্রায় ৫ শতাংশ অর্জন করেছে।

সিঙ্গাপুরের নেতৃত্ব ও বাজার আধিপত্য
এই খাতে সিঙ্গাপুরের অবস্থান নিঃসন্দেহে শীর্ষে। শুধু যাত্রী সংখ্যায় নয়, অর্থনৈতিক অবদানেও দেশটি অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে। ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরের অবদান ছিল প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া যথাক্রমে ৩.২ বিলিয়ন ও ১.৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।
একই সঙ্গে দেখা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রুজ ভ্রমণকারীদের বড় অংশই সিঙ্গাপুরের বাসিন্দা। ২০২৪ সালে প্রায় ৫ লাখের বেশি সিঙ্গাপুরবাসী ক্রুজে ভ্রমণ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।

Strong hiring demand for engineers, tech specialists in S'pore | The  Straits Times

 

অবকাঠামো ও বিনিয়োগের প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শিল্পের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে আঞ্চলিক সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। নতুন বন্দর উন্নয়ন, বড় জাহাজ নোঙর করার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পিক মৌসুমে বন্দরের ওপর চাপ অনেক বেড়ে যায়, যা সামাল দিতে সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য।

নতুন জাহাজ ও পর্যটন বৈচিত্র্য
২০২৫ সালে সিঙ্গাপুর ক্রুজ খাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নতুন জাহাজ যুক্ত হওয়া এবং বৈচিত্র্যময় ভ্রমণ পরিকল্পনা চালুর মাধ্যমে পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বেড়েছে। বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে এশিয়ার প্রথম ডিজনি ক্রুজ জাহাজ, যা সিঙ্গাপুরকে কেন্দ্র করে যাত্রা শুরু করেছে।
এছাড়া স্বল্প সময়ের ভ্রমণ থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি ১০ থেকে ১৪ দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনাও চালু করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের পর্যটকের চাহিদা পূরণ করছে।

Disney Postpones Debut Of Mega Asia Cruise Ship, Extending Wait for Fans

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রুজ ভ্রমণে আসা প্রায় অর্ধেক পর্যটকই ভবিষ্যতে আবার এই অঞ্চলে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি যারা একবার ক্রুজ ভ্রমণ করেছেন, তারা আবার একই ধরনের ভ্রমণে আগ্রহী হওয়ার সম্ভাবনাও তিনগুণ বেশি।
তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা, যৌথ বিপণন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের কলামঃ যুদ্ধের ধাক্কা থেকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে, যুক্তরাজ্যের সামনে বড় অনিশ্চয়তা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রুজ শিল্পে রেকর্ড আয়, সিঙ্গাপুর একাই দখলে প্রায় অর্ধেক বাজার

০৪:১৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রুজ পর্যটন শিল্প ২০২৪ সালে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে এই খাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক পর্যটন মানচিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, এই অঞ্চলে ক্রুজ পর্যটনের মাধ্যমে আয় হয়েছে প্রায় ১২.৭ বিলিয়ন ডলার, যেখানে সিঙ্গাপুর একাই দখল করেছে সবচেয়ে বড় অংশ।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও যাত্রী সংখ্যা
২০২৪ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মোট ৩.৯ মিলিয়ন ক্রুজ যাত্রীর আগমন ঘটে। এর মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ যাত্রী সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে ভ্রমণ করেছেন। প্রতিটি যাত্রীর বিপরীতে গড়ে যে অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হয়েছে, তা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় ২.৪ গুণ বেশি। এই হিসেবে অঞ্চলটি বৈশ্বিক বাজারের মাত্র ২ শতাংশ যাত্রী পেলেও মোট অর্থনৈতিক অবদানের প্রায় ৫ শতাংশ অর্জন করেছে।

সিঙ্গাপুরের নেতৃত্ব ও বাজার আধিপত্য
এই খাতে সিঙ্গাপুরের অবস্থান নিঃসন্দেহে শীর্ষে। শুধু যাত্রী সংখ্যায় নয়, অর্থনৈতিক অবদানেও দেশটি অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে। ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরের অবদান ছিল প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া যথাক্রমে ৩.২ বিলিয়ন ও ১.৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।
একই সঙ্গে দেখা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রুজ ভ্রমণকারীদের বড় অংশই সিঙ্গাপুরের বাসিন্দা। ২০২৪ সালে প্রায় ৫ লাখের বেশি সিঙ্গাপুরবাসী ক্রুজে ভ্রমণ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।

Strong hiring demand for engineers, tech specialists in S'pore | The  Straits Times

 

অবকাঠামো ও বিনিয়োগের প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শিল্পের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে আঞ্চলিক সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। নতুন বন্দর উন্নয়ন, বড় জাহাজ নোঙর করার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পিক মৌসুমে বন্দরের ওপর চাপ অনেক বেড়ে যায়, যা সামাল দিতে সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য।

নতুন জাহাজ ও পর্যটন বৈচিত্র্য
২০২৫ সালে সিঙ্গাপুর ক্রুজ খাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নতুন জাহাজ যুক্ত হওয়া এবং বৈচিত্র্যময় ভ্রমণ পরিকল্পনা চালুর মাধ্যমে পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বেড়েছে। বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে এশিয়ার প্রথম ডিজনি ক্রুজ জাহাজ, যা সিঙ্গাপুরকে কেন্দ্র করে যাত্রা শুরু করেছে।
এছাড়া স্বল্প সময়ের ভ্রমণ থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি ১০ থেকে ১৪ দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনাও চালু করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের পর্যটকের চাহিদা পূরণ করছে।

Disney Postpones Debut Of Mega Asia Cruise Ship, Extending Wait for Fans

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রুজ ভ্রমণে আসা প্রায় অর্ধেক পর্যটকই ভবিষ্যতে আবার এই অঞ্চলে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি যারা একবার ক্রুজ ভ্রমণ করেছেন, তারা আবার একই ধরনের ভ্রমণে আগ্রহী হওয়ার সম্ভাবনাও তিনগুণ বেশি।
তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা, যৌথ বিপণন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।