মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে দ্রুত বাড়ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা। খরচ কমানোর আশায় সাধারণ ক্রেতারা এখন ঝুঁকছেন নতুন বিকল্পের দিকে, আর সেই সুযোগে বাজারে বড় উত্থান দেখছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতারা।
জ্বালানি সংকটই বড় কারণ
সাম্প্রতিক সময়ের সংঘাতের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই চাপ আরও তীব্র হয়েছে। ফলে গাড়ির খরচ কমানোর বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক যানবাহন এখন অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
ভিয়েতনামে বিক্রিতে রেকর্ড
ভিয়েতনামের শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দ্রুত এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। দেশটিতে মার্চ মাসে তাদের বিক্রি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৬০০ গাড়িতে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। একটি শোরুমের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগের মাসগুলোতে যেখানে ২০০ থেকে ২৫০ গাড়ি বিক্রি হতো, সেখানে মার্চে বিক্রি বেড়ে ৩০০ থেকে ৪০০-তে পৌঁছেছে।
একই সঙ্গে ক্রেতাদের বড় একটি অংশ পেট্রোলচালিত গাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে বদল করছেন। বাড়তি চাপ সামলাতে অনেক শোরুমের কার্যক্রম সময়ও বাড়াতে হয়েছে।
সাধারণ মানুষের হিসাব বদল
দাম বাড়ার কারণে পরিবারগুলো এখন মাসিক ব্যয়ের নতুন হিসাব করছে। অনেকেই বলছেন, জ্বালানিতে খরচ দিন দিন বাড়ছে, তাই দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার কথা ভাবছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, শুধু খরচ নয়, জ্বালানি ভরার ঝামেলাও কমে যাবে—এটাও বড় সুবিধা।
চীনা নির্মাতাদের বাজার দখল
ভিয়েতনামের বাইরে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতারা দ্রুত বাজার দখল করছে। একটি বড় মোটর শোতে জাপানি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি অর্ডার পেয়েছে চীনা একটি ব্র্যান্ড, যা বাজারের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
ফিলিপাইনের একটি শোরুমে ক্রেতাদের ভিড় এতটাই বেড়েছে যে পুরো মাসের গাড়ি আগেই বুকিং হয়ে গেছে। অনেক ক্রেতাই জানিয়েছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য তাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে।

অবকাঠামোও এগোচ্ছে দ্রুত
শুধু চাহিদাই নয়, বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং স্টেশনও দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে এই খাতের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে। এতে করে ভবিষ্যতে এই বাজার আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বজুড়েও বাড়ছে প্রবণতা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরেও বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে, আর ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে। অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানির দামই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
জ্বালানির অস্থিরতা যতদিন থাকবে, ততদিন বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি মানুষের ঝোঁক আরও বাড়বে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















