০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

ইরান যুদ্ধের ভেতরেই ‘জয়ের গল্প’: নেতানিয়াহুর কৌশলে নতুন সমীকরণে মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ঘিরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আবারও নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্ত করে তুলেছেন। যুদ্ধের ফলাফল যেদিকেই যাক, সেটিকে নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার মতো এক ধরনের কৌশলগত অবস্থানে তিনি পৌঁছে গেছেন। এই বাস্তবতা শুধু সামরিক শক্তির প্রশ্ন নয়, বরং রাজনীতি, বয়ান ও জনমতের ওপর নিয়ন্ত্রণের একটি জটিল সমীকরণ। সারাক্ষণ রিপোর্ট।

সংঘাতের শুরু থেকেই নেতানিয়াহু এমন একটি বার্তা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন—ইরানকে মোকাবিলা করা ছিল অনিবার্য। বহু বছর ধরে তিনি ইরানকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ফলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি সহজেই বলতে পারছেন, তার দীর্ঘদিনের সতর্কতা সঠিক ছিল। এই জায়গাটিই তাকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে রাখছে।

নিরাপত্তার বয়ানে রাজনীতির পুনর্গঠন

ইসরায়েলের ভেতরে এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে রাজনৈতিক আলোচনায়। গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাত, লেবাননে উত্তেজনা, অভ্যন্তরীণ বিভাজন—এসব ইস্যু এখন অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। তার জায়গা নিয়েছে ‘নিরাপত্তা’ ও ‘অস্তিত্ব রক্ষার’ প্রশ্ন।

A black-and-white close-up photo of Benjamin Netanyahu.

নেতানিয়াহু দক্ষতার সঙ্গে এই আবেগকে কাজে লাগাচ্ছেন। তিনি এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছেন, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়াই যেন একমাত্র যুক্তিসঙ্গত পথ। এর ফলে ভিন্ন মত বা কূটনৈতিক সমাধানের আলোচনা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

যুদ্ধের প্রতিটি ফলাফলই ‘সাফল্য’

এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যে ফলই আসুক, সেটিকে নিজের পক্ষে ব্যাখ্যা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদি ইরান সামরিক চাপে নতি স্বীকার করে, তাহলে সেটি হবে শক্তির জয়। যদি ইরান দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি হবে কৌশলগত অর্জন। আর যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটিকেও সময় কেনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখানো সম্ভব।

অর্থাৎ, এখানে প্রকৃত ফলাফলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তার ব্যাখ্যা। এই ব্যাখ্যার নিয়ন্ত্রণ যিনি হাতে রাখবেন, তিনিই জনমত ও রাজনীতির খেলায় এগিয়ে থাকবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ও পরিবর্তিত কৌশল

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনের সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। এখন সেই সমর্থন বাস্তবে রূপ নিয়েছে, যা যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলেছে।

69 Dimona Stock Videos, Footage, & 4K Video Clips - Getty Images | Dimond

একই সঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রও বদলে গেছে। আগে যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি ছিল মূল বিষয়, এখন সেখানে যুক্ত হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার প্রশ্ন।

দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার ছায়া

তবে এই যুদ্ধ শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিচ্ছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিও তৈরি করছে। সামরিক শক্তির প্রদর্শন স্বল্পমেয়াদে প্রভাব ফেললেও, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

বিশ্বজুড়ে জনমতের পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সমর্থনের হ্রাস, ভবিষ্যতে বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এই সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে।

নিরাপত্তা নাকি আধিপত্য—চূড়ান্ত প্রশ্ন

এই পুরো পরিস্থিতিতে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসছে—সামরিক আধিপত্য কি সত্যিই স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে? নাকি এটি নতুন করে অস্থিরতা ও প্রতিশোধের চক্র তৈরি করে?

নেতানিয়াহুর জন্য বর্তমান পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হলেও, আঞ্চলিক বাস্তবতায় অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে। শক্তির প্রদর্শন হয়তো সাময়িক নিয়ন্ত্রণ এনে দিতে পারে, কিন্তু স্থায়ী শান্তির পথ এখনো অস্পষ্টই রয়ে গেছে।

Trump, Iran vow strikes on energy infrastructure with Hormuz crisis building

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

ইরান যুদ্ধের ভেতরেই ‘জয়ের গল্প’: নেতানিয়াহুর কৌশলে নতুন সমীকরণে মধ্যপ্রাচ্য

০৫:১৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ঘিরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আবারও নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্ত করে তুলেছেন। যুদ্ধের ফলাফল যেদিকেই যাক, সেটিকে নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার মতো এক ধরনের কৌশলগত অবস্থানে তিনি পৌঁছে গেছেন। এই বাস্তবতা শুধু সামরিক শক্তির প্রশ্ন নয়, বরং রাজনীতি, বয়ান ও জনমতের ওপর নিয়ন্ত্রণের একটি জটিল সমীকরণ। সারাক্ষণ রিপোর্ট।

সংঘাতের শুরু থেকেই নেতানিয়াহু এমন একটি বার্তা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন—ইরানকে মোকাবিলা করা ছিল অনিবার্য। বহু বছর ধরে তিনি ইরানকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ফলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি সহজেই বলতে পারছেন, তার দীর্ঘদিনের সতর্কতা সঠিক ছিল। এই জায়গাটিই তাকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে রাখছে।

নিরাপত্তার বয়ানে রাজনীতির পুনর্গঠন

ইসরায়েলের ভেতরে এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে রাজনৈতিক আলোচনায়। গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাত, লেবাননে উত্তেজনা, অভ্যন্তরীণ বিভাজন—এসব ইস্যু এখন অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। তার জায়গা নিয়েছে ‘নিরাপত্তা’ ও ‘অস্তিত্ব রক্ষার’ প্রশ্ন।

A black-and-white close-up photo of Benjamin Netanyahu.

নেতানিয়াহু দক্ষতার সঙ্গে এই আবেগকে কাজে লাগাচ্ছেন। তিনি এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছেন, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়াই যেন একমাত্র যুক্তিসঙ্গত পথ। এর ফলে ভিন্ন মত বা কূটনৈতিক সমাধানের আলোচনা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

যুদ্ধের প্রতিটি ফলাফলই ‘সাফল্য’

এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যে ফলই আসুক, সেটিকে নিজের পক্ষে ব্যাখ্যা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদি ইরান সামরিক চাপে নতি স্বীকার করে, তাহলে সেটি হবে শক্তির জয়। যদি ইরান দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি হবে কৌশলগত অর্জন। আর যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটিকেও সময় কেনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখানো সম্ভব।

অর্থাৎ, এখানে প্রকৃত ফলাফলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তার ব্যাখ্যা। এই ব্যাখ্যার নিয়ন্ত্রণ যিনি হাতে রাখবেন, তিনিই জনমত ও রাজনীতির খেলায় এগিয়ে থাকবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ও পরিবর্তিত কৌশল

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনের সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। এখন সেই সমর্থন বাস্তবে রূপ নিয়েছে, যা যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলেছে।

69 Dimona Stock Videos, Footage, & 4K Video Clips - Getty Images | Dimond

একই সঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রও বদলে গেছে। আগে যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি ছিল মূল বিষয়, এখন সেখানে যুক্ত হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার প্রশ্ন।

দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার ছায়া

তবে এই যুদ্ধ শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিচ্ছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিও তৈরি করছে। সামরিক শক্তির প্রদর্শন স্বল্পমেয়াদে প্রভাব ফেললেও, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

বিশ্বজুড়ে জনমতের পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সমর্থনের হ্রাস, ভবিষ্যতে বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এই সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে।

নিরাপত্তা নাকি আধিপত্য—চূড়ান্ত প্রশ্ন

এই পুরো পরিস্থিতিতে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসছে—সামরিক আধিপত্য কি সত্যিই স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে? নাকি এটি নতুন করে অস্থিরতা ও প্রতিশোধের চক্র তৈরি করে?

নেতানিয়াহুর জন্য বর্তমান পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হলেও, আঞ্চলিক বাস্তবতায় অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে। শক্তির প্রদর্শন হয়তো সাময়িক নিয়ন্ত্রণ এনে দিতে পারে, কিন্তু স্থায়ী শান্তির পথ এখনো অস্পষ্টই রয়ে গেছে।

Trump, Iran vow strikes on energy infrastructure with Hormuz crisis building