০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

ট্রাম্পের ২৫০ ফুট ‘বিজয় তোরণ’ ঘিরে তীব্র বিতর্ক, সমর্থক-সমালোচকের মুখোমুখি ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ২৫০ ফুট উঁচু একটি ‘বিজয় তোরণ’ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পকে কেউ দেখছেন জাতীয় গৌরবের প্রতীক হিসেবে, আবার কেউ বলছেন এটি অপ্রয়োজনীয়, অতি বড় এবং সংবেদনশীল স্থানের জন্য অনুপযুক্ত।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এই তোরণটি পোটোম্যাক নদীর ওপারে লিংকন স্মৃতিস্তম্ভের বিপরীত দিকে নির্মাণ করা হবে। তবে এর আকার, অবস্থান এবং উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছে।

আকার নিয়ে আপত্তি বাড়ছে

প্রথমদিকে এই তোরণের উচ্চতা ছিল অনেক কম রাখার পরিকল্পনা। স্থপতি ও নকশাবিদরা চেয়েছিলেন এটি সীমিত আকারে নির্মাণ করতে। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিকল্পনাটি বড় হতে হতে এখন ২৫০ ফুটে পৌঁছেছে, যা বিশ্বের রাজধানীগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় বিজয় তোরণ হতে পারে।

সমালোচকদের মতে, এই আকার ওই জায়গার সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়। বিশেষ করে আরলিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রের কাছাকাছি এমন বিশাল স্থাপনা নির্মাণে ঐতিহাসিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সমর্থকদের যুক্তি

প্রকল্পটির সমর্থকরা বলছেন, এটি আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে। তাদের মতে, বড় দেশগুলো তাদের গৌরব ও ইতিহাস তুলে ধরতে এমন স্থাপনা তৈরি করে থাকে, যা মানুষের মধ্যে জাতীয় গর্ব তৈরি করে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এই তোরণ ‘আমেরিকান চেতনার স্থায়ী বিজয়’ উদযাপন করবে এবং এটি সব রাজনৈতিক মতের মানুষের জন্যই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত।

আইনি জটিলতা

তবে প্রকল্পটি শুধু নকশা বা আকারের বিতর্কেই আটকে নেই, আইনি বাধাও সামনে এসেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের কিছু প্রবীণ যোদ্ধা এই নির্মাণ ঠেকাতে আদালতে গেছেন। তাদের দাবি, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

আইন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে যেকোনো স্মারক নির্মাণের আগে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমতি প্রয়োজন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অতীতের কিছু আইনগত অনুমোদন এই প্রকল্পের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।

প্রতীক না ব্যক্তিগত স্মারক?

এই প্রকল্প নিয়ে আরেকটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে—এটি আসলে কার জন্য? সমালোচকদের একাংশ বলছেন, এটি জাতীয় স্মারকের চেয়ে ব্যক্তিগত গৌরবের প্রতীক হয়ে উঠছে।

ঐতিহাসিকরা মনে করছেন, প্রাচীন রোমে বিজয় তোরণ নির্মাণের আগে জনসমর্থন ও অনুমোদন নেওয়া হতো। সেই ঐতিহ্য থেকে সরে গিয়ে এখানে একক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

এখনও প্রকল্পটির পূর্ণ ব্যয় নির্ধারণ হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নের মিশ্রণে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রশাসন দ্রুত কাজ শুরু করতে চাইলেও আইনি লড়াই ও জনমতের কারণে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এই ‘বিজয় তোরণ’ শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হবে, নাকি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Trump Triumphal Arch Clears First Design Hurdle in DC: What Happens Next

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

ট্রাম্পের ২৫০ ফুট ‘বিজয় তোরণ’ ঘিরে তীব্র বিতর্ক, সমর্থক-সমালোচকের মুখোমুখি ওয়াশিংটন

০৫:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ২৫০ ফুট উঁচু একটি ‘বিজয় তোরণ’ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পকে কেউ দেখছেন জাতীয় গৌরবের প্রতীক হিসেবে, আবার কেউ বলছেন এটি অপ্রয়োজনীয়, অতি বড় এবং সংবেদনশীল স্থানের জন্য অনুপযুক্ত।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এই তোরণটি পোটোম্যাক নদীর ওপারে লিংকন স্মৃতিস্তম্ভের বিপরীত দিকে নির্মাণ করা হবে। তবে এর আকার, অবস্থান এবং উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছে।

আকার নিয়ে আপত্তি বাড়ছে

প্রথমদিকে এই তোরণের উচ্চতা ছিল অনেক কম রাখার পরিকল্পনা। স্থপতি ও নকশাবিদরা চেয়েছিলেন এটি সীমিত আকারে নির্মাণ করতে। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিকল্পনাটি বড় হতে হতে এখন ২৫০ ফুটে পৌঁছেছে, যা বিশ্বের রাজধানীগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় বিজয় তোরণ হতে পারে।

সমালোচকদের মতে, এই আকার ওই জায়গার সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়। বিশেষ করে আরলিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রের কাছাকাছি এমন বিশাল স্থাপনা নির্মাণে ঐতিহাসিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সমর্থকদের যুক্তি

প্রকল্পটির সমর্থকরা বলছেন, এটি আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে। তাদের মতে, বড় দেশগুলো তাদের গৌরব ও ইতিহাস তুলে ধরতে এমন স্থাপনা তৈরি করে থাকে, যা মানুষের মধ্যে জাতীয় গর্ব তৈরি করে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এই তোরণ ‘আমেরিকান চেতনার স্থায়ী বিজয়’ উদযাপন করবে এবং এটি সব রাজনৈতিক মতের মানুষের জন্যই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত।

আইনি জটিলতা

তবে প্রকল্পটি শুধু নকশা বা আকারের বিতর্কেই আটকে নেই, আইনি বাধাও সামনে এসেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের কিছু প্রবীণ যোদ্ধা এই নির্মাণ ঠেকাতে আদালতে গেছেন। তাদের দাবি, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

আইন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে যেকোনো স্মারক নির্মাণের আগে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমতি প্রয়োজন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অতীতের কিছু আইনগত অনুমোদন এই প্রকল্পের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।

প্রতীক না ব্যক্তিগত স্মারক?

এই প্রকল্প নিয়ে আরেকটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে—এটি আসলে কার জন্য? সমালোচকদের একাংশ বলছেন, এটি জাতীয় স্মারকের চেয়ে ব্যক্তিগত গৌরবের প্রতীক হয়ে উঠছে।

ঐতিহাসিকরা মনে করছেন, প্রাচীন রোমে বিজয় তোরণ নির্মাণের আগে জনসমর্থন ও অনুমোদন নেওয়া হতো। সেই ঐতিহ্য থেকে সরে গিয়ে এখানে একক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

এখনও প্রকল্পটির পূর্ণ ব্যয় নির্ধারণ হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নের মিশ্রণে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রশাসন দ্রুত কাজ শুরু করতে চাইলেও আইনি লড়াই ও জনমতের কারণে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এই ‘বিজয় তোরণ’ শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হবে, নাকি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Trump Triumphal Arch Clears First Design Hurdle in DC: What Happens Next