মাত্র একটি লটারির টিকিট—দাম ১১৮ ডলার। আর সেই টিকিটেই মিলল বিশ্বখ্যাত শিল্পী পাবলো পিকাসোর একটি চিত্রকর্ম, যার মূল্য প্রায় ১২ লাখ ডলার। প্যারিসের বাসিন্দা আরি হোদারার জীবনে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।
অবিশ্বাস থেকে বাস্তব
৫৮ বছর বয়সী সফটওয়্যার বিক্রয়কর্মী আরি হোদারা মূলত মজা করেই দুটি টিকিট কিনেছিলেন। লটারির দিনটি তিনি ভুলেই গিয়েছিলেন। হঠাৎ একদিন ফোনে জানতে পারেন, তিনিই বিজয়ী। প্রথমে বিষয়টি তিনি প্রতারণা বলে মনে করেছিলেন। পরে নিশ্চিত হয়ে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, তিনি নিয়মিত জুয়া খেলেন না, তাই জেতার কোনো প্রত্যাশাও ছিল না। কেবল আনন্দের জন্যই অংশ নিয়েছিলেন।
কোটি টাকার শিল্পকর্ম

হোদারা যে চিত্রকর্মটি পেয়েছেন, সেটির নাম “তেতে দ্য ফেম”। এটি ১৯৪১ সালে আঁকা এবং একসময় পিকাসোর নিজের বাড়িতেই ঝুলছিল। শিল্পকর্মটির বর্তমান বাজারমূল্য ১০ লাখ ইউরোর বেশি, যা প্রায় ১২ লাখ ডলারের সমান।
চিত্রটি পিকাসোর বিখ্যাত মডেল, প্রেমিকা এবং অনুপ্রেরণা ডোরা মার-এর প্রতিকৃতি। ডোরা মার নিজেও একজন স্বনামধন্য আলোকচিত্রী এবং শিল্পী ছিলেন।
দাতব্য উদ্দেশ্যে এই লটারি
এই লটারির আয়োজন করেছিল একটি ফরাসি দাতব্য সংস্থা। পুরো লটারিতে সংগৃহীত হয় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ইউরো। এর মধ্যে ১০ লাখ ইউরো দিয়ে চিত্রকর্মটি কেনা হয়, আর বাকি অর্থ দেওয়া হয় আলঝেইমার গবেষণার জন্য।
হোদারা জানান, এই দাতব্য উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে তিনি গর্বিত। শিল্পের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল আগে থেকেই, তবে পিকাসোর মতো শিল্পকর্ম পাওয়া তাঁর জন্য একেবারেই অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা।
পিকাসোর শিল্প ও ব্যক্তিগত গল্প

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিত্রটি পিকাসোর কিউবিজম সময়ের অন্যতম নিদর্শন। এতে ব্যবহৃত গাঢ় রঙ তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অস্থিরতার প্রতিফলন। সেই সময়ে তাঁর বিবাহিত জীবনে টানাপোড়েন চলছিল, যা ছবির আবহে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা
এত মূল্যবান চিত্রকর্ম পাওয়ার পরও হোদারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি এটি বাড়িতে রাখবেন কি না। নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন তিনি। এমন মূল্যবান সম্পদ নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না।
আগেও হয়েছে এমন ঘটনা
এই ধরনের লটারি এটি তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করা হলো। এর আগে ২০২০ সালে এক ইতালীয় ব্যক্তি এবং তারও আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক তরুণ পিকাসোর চিত্রকর্ম জিতেছিলেন। তবে অনেকেই নিরাপত্তা ও সংরক্ষণজনিত কারণে এসব শিল্পকর্ম নিজের কাছে রাখতে দ্বিধায় ভোগেন।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল—কখনো কখনো ছোট্ট একটি সুযোগই জীবনের সবচেয়ে বড় চমক নিয়ে আসতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















